সর্বশেষ সংবাদ শিবগঞ্জে বিনামূল্যে চিকিৎসাসেবা পেলেন অসহায়-দুস্থ রোগীরা সোনামসজিদে বীরশ্রেষ্ঠ শহীদ ক্যাপ্টেন জাহাঙ্গীরের সমাধিতে শ্রদ্ধা চাঁপাইনবাবগঞ্জে আমার ৯৩, এর ৮ ম প্রতিষ্ঠা বার্ষিকী  পালিত  গোমস্তাপুরে বেগম রোকেয়া দিবস উদযাপন  চাঁপাইনবাবগঞ্জে ব্যারিষ্টার সুমন ফুটবল একাডেমির সাথে প্রীতি ফুটবল ম্যাচ অনুষ্ঠিত চাঁপাইনবাবগঞ্জের ভুটভুটির ধাক্কায় নিহত ১ঃ আহত ১ চাঁপাইনবাবগঞ্জে জয়ীতাদের সংবর্ধনা চাঁপাইনবাবগঞ্জে দূর্ণীতিবিরোধী দিবস পালিত নাচোলে বেগম রোকেয়া দিবসে জয়িতাদের সংবর্ধনা উন্নত-সমৃদ্ধ দেশ গড়তে চাই: প্রধানমন্ত্রী

চাঁপাইনবাবগঞ্জ জেলা পরিষদ নির্বাচনে একই পদে আপন ২ ভায়ের লড়াই

নিজস্ব প্রতিবেদক
চাঁপাইনবাবগঞ্জ জেলা পরিষদ নির্বাচনে একই পদের জন্য লড়ছেন আপন দুই ভাই। সেলিম রেজা ও শহিদুল ইসলাম নামের ঐ দুই ভাই লড়াই করছেন জেলা পরিষদের ১ নম্বর ওয়ার্ডের সদস্য পদে।

প্রতিদ্বন্দীতাকারী এ ২ প্রার্থী জেলার সদর উপজেলার নারায়ণপুর ইউনিয়নের মাস্টার পাড়ার এনামুল হকের ছেলে।
জেলা নির্বাচন অফিস জানায়, সেলিম রেজার বয়স প্রায় ৪৫ বছর। তিনি বি.এ পাশ করেছেন। জেলা পরিষদ নির্বাচনে তার প্রতীক টিউবওয়েল।
আর তার ভাই শহিদুলের বয়স ৩৯ বছর। তিনি এসএসসি পাশ করেছেন। বক প্রতীক নিয়ে নির্বাচন করছেন তিনিও।

এদিকে চাঁপাইনবাবগঞ্জ জেলা পরিষদ নির্বাচনের আর মাত্র ২ দিন বাকি। প্রতিদ্বন্দী ২ প্রার্থীও এলাকা ঘুরে দেখা গেছে, সেলিম রেজার পোষ্টারে এলাকা ছেয়ে গেলেও তার ভাই শহিদুলের কোনো পোষ্টার এখন পর্যন্ত চোখে পড়েনি। এছাড়াও ভোটারদের মাঝে সেলিম রেজাই নিয়মিত যোগাযোগ রাখছেন। কিন্তু শহিদুলের তেমন একটা ভোটারদেও সাথে যোগাযোগ নাই।
তবে তাদের ২ জনেরই একই সুর।নির্বাচনে ২ ভাই অংশ নিলেও তারা ভাই ভাই।নির্বাচন ঘিরে সম্পর্কের কোন অবনতি হযনি,হবেওনা।

সেলিম রেজা বলেন, ‘আমার ছোট ভাই জেলা পরিষদ নির্বাচনে দাঁড়িয়েছে। নির্বাচন অফিসের খাতা কলমে আমারা প্রতিদ্বন্দ্বি প্রার্থী হলেও, আমরা ভাই-ভাই।’

শহিদুল ইসলাম বলেন, ‘একই পদের জন্য আমরা দুই ভাই ভোট করছি। আমাদের পারিবারিক সম্পর্কের বন্ধন এখনও অটুট আছে। আগামীতেও থাকবে। ভোটের মাঠে আছি, আর থাকবো।’
অন্য প্রার্থীদের নির্বাচনি প্রচার প্রচারণার জন্য রাস্তার মোড়ে মোড়ে পোষ্টার দেখা গেলেও আপনার কেন পোস্টার দেখা যাচ্ছে না এমন প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, ‘আমি আমার মতো করে প্রচার প্রচারণা চালাচ্ছি।’

এদিকে চাঁপাইনবাবগঞ্জ জেলা নির্বাচন কর্মকর্তা মোতাওয়াক্কিল রহমান বলেন, ‘আগামী ১৪ নভেম্বর চাঁপাইনবাবগঞ্জ জেলা পরিষদের নির্বাচন অনুষ্ঠিত হবে। সকাল ৯টা থেকে দুপুর ২টা পর্যন্ত ভোট গ্রহণ করা হবে। পরিষদের ১ নম্বর ওয়ার্ডের ভোট গ্রহণের কেন্দ্র জেলা শহরের গ্রীন ভিউ উচ্চ বিদ্যালয়। এই কেন্দ্রে মোট ভোটার সংখ্যা ২০৬ জন।

চাঁপাইনবাবগঞ্জে বিজিবি সদস্যের স্ত্রীর মরদেহ উদ্ধার

শিবগঞ্জ (চাঁপাইনবাবগঞ্জ) প্রতিনিধি:
শিবগঞ্জে উম্মে সালমা (২২) নামে এক বিজিবি সদস্যের স্ত্রীর মরদেহ উদ্ধার করেছে পুলিশ। শুক্রবার সকালে ময়নাতদন্ত শেষে মরদেহ পরিবারের কাছে হস্তান্তর করা হয়েছে। এর আগে বৃহস্পতিবার রাতে উপজেলার শ্যামপুর ইউনিয়নের নামো কয়লাদিয়াড় গ্রামের নিজ শয়ন কক্ষ থেকে মরদেহটি উদ্ধার করা হয়। নিহত নারী হলেন- ওই গ্রামের বদিউরের ছেলে বিজিবি সদস্য রনির স্ত্রী। পুলিশ জানায়, বৃহস্পতিবার রাত ৮টার দিকে নামো কয়লাদিয়াড় গ্রামের নিজ শয়ন কক্ষে ফ্যানের সঙ্গে এক নারীর ঝুলন্ত মরদেহ দেখে থানা পুলিশে খবর দেয় এলাকাবাসী। খবর পেয়ে পুলিশ নিহতের মরদেহ উদ্ধার করে ময়নাতদন্তের জন্য সদর আধুনিক হাসপাতাল মর্গে পাঠায়। মেয়ের পরিবারের অভিযোগ- প্রেম করে বিয়ে করেন রনি। এরপর ছেলের পরিবার ও বিজিবি সদস্য রনি যৌতুকের জন্য সালমাকে নির্যাতন করতে থাকেন। এক পর্যায়ে ছেলের পরিবার ৫ লাখ টাকা যৌতুক দাবি করলে টাকা দিতে না পারায় উম্মে সালমাকে মেরে ফেলা হয়েছে দাবি মেয়ের পরিবারের। এ ঘটনায় সুষ্ঠ বিচার দাবি করেছেন মেয়ের মা। যদিও মেয়ের পরিবারের অভিযোগ অস্বীকার করেছেন বিজিবি সদস্য রনি ও তার পরিবার। শিবগঞ্জ থানার ওসি চৌধুরী  জোবায়ের আহাম্মদ জানান, ময়নাতদন্ত শেষে মরদেহ পরিবারের কাছে হস্তান্তর করা হয়েছে। এ ঘটনায় লিখিত অভিযোগ পেলে তদন্ত করে আইনী ব্যবস্থা নেয়া হবে।

শিবগঞ্জে আগুনে পুড়ল বসতবাড়ি-গোয়াল ঘর

শিবগঞ্জ (চাঁপাইনবাবগঞ্জ) প্রতিনিধি:
শিবগঞ্জে আগুনে একটি বসতবাড়ির তিনটি ঘর ও একটি গোয়াল ঘর ভষ্মিভূত হয়েছে। শুক্রবার বিকাল ৫টার দিকে পৌর এলাকার পিঠালীতলা মহল্লার মোস্তফার বসতবাড়িতে এ ঘটনা ঘটে। ক্ষতিগ্রস্থ ব্যক্তি ওই এলাকার মৃত হোসেনের ছেলে। এতে বিভিন্ন আসবাবপত্রসহ ১ লাখ টাকার ক্ষতিসাধন হয়েছে। উদ্ধার করা হয়েছে প্রায় ৩ লাখ টাকার মালামাল। শিবগঞ্জ ফায়ার সার্ভিস ও সিভিল ডিফেন্সের স্টেশন কর্মকর্তা রজব আলী শেখ জানান, বিকাল ৫টার দিকে বৈদ্যুতিক শর্ট সার্কিট থেকে আগুনের সুত্রপাতে মোস্তফার বসতবাড়ির তিনটি ঘর ও একটি গোয়াল ঘর ভষ্মিভূত হয়। আগুনের খবর পেয়ে ফায়ার সার্ভিসের একটি দল দ্রুত ঘটনাস্থলে পৌঁছে প্রায় ২০ মিনিটের মধ্যে আগুন নিয়ন্ত্রণে আনে। তবে আগুনে বিভিন্ন আসবাবপত্রসহ ১ লাখ টাকার ক্ষতি হয়েছে। এছাড়া উদ্ধার করা হয়েছে প্রায় ৩ লাখ টাকার মালামাল। তিনি আরও জানান, ক্ষতিগ্রস্থ ওই বসতবাড়ির আশপাশের প্রায় ২-৩ কিলোমিটারজুড়ে পানির উৎস না থাকায় আগুন নিয়ন্ত্রণে দমকল বাহিনীদের কিছুটা বেগ পেতে হয়েছে।

চাঁপাইনবাবগঞ্জে জুয়া খেলতে গিয়ে গ্রেফতার ৮

চাঁপাইনবাবগঞ্জ:
চাঁপাইনবাবগঞ্জ সদর উপজেলার আমনুরায় জুয়া খেলার অভিযোগে ৮ জুয়ারীকে আটক করেছে র‌্যাব-৫।শুক্রবার(১১ নভেম্বর) ভোরে সদর উপজেলার আমনুরা বাজার সংলগ্ন একটি কক্ষের ভিতর অভিযান পরিচালনা করে জুয়া খেলার সময় তাদেরকে আচক করে র‌্যাব।
আটককৃতরা হলেন মোঃ তাইফুর রহমান @ কালু (৫৬), মোঃ আশিকুজ্জামান @ আশিক (২৬), মোঃ আবুল কালাম আজাদ (৫৪), মোঃ লোকমান হোসেন (৩৫), মোঃ বেলাল হোসেন (২৫), মোঃ বাদশা হারুন (৩০), মোঃ আকাশ (২২) এবং মোঃ হাসান আলী (৪৩)।
আটক সকলের বাড়ি আমনুরা এলাকার বিভিন্ন গ্রামে।
শুক্রবার বেলা ১২ টার দিকে র‌্যাব জানায়, গোয়েন্দা তথ্যের ভিত্তিতে জেলার আমনুরা বাজারে জুয়া খেলার সময় ৪ সেট কার্ড ৩৪ হাজার ৪শ ৯০ টাকা সহ ৮ জনকে আটক করা হয়।পরে আটককৃতদের বিরুদ্ধে সদর থানায় আইনগত ব্যবস্থা গ্রহন করা হয়।

সবচেয়ে ‘নোংরা’ বিশ্বকাপ জিতেছিল আর্জেন্টিনা!

ক্যালেন্ডারের পাতায় দিন-তারিখ এমন- পহেলা জুন, ১৯৭৮ খ্রিষ্টাব্দ। ঝকঝকে এক দিন। কয়েক শ শিশুর গায়ে সাদা জামা। তাদের জন্য জায়গা আগেই ঠিক করা ছিল- বুইন্স আইরেসের এল মনোমেন্টাল স্টেডিয়ামে তারা দাঁড়ালেন সেখানে। আকাশে পায়রা উড়লো। শুরু হলো ‘ইতিহাসের সবচেয়ে নোংরা’ বিশ্বকাপ।

মুখে লম্বা গোঁফ, পরিপাটি করে আঁচড়ানো চুলের সামরিক জান্তা জেনারেল ভিদেলা এর মিনিট খানেক আগে ঘোষণা দিলেন, ‘এই বিশ্বকাপ হবে শান্তির ছায়াতলে। ’ টিভিতে ধারাভাষ্যকারের কণ্ঠে ভেসে এলো, ‘তরুণরা যেন কোনভাবেই রাজনীতিতে নিজেদের সম্পৃক্ত না করে। ’

শান্তির বার্তার এই ঘোষণা যেখান থেকে আসছে এর কয়েক মিনিটের দূরত্বে ছিল নেভি পেটি অফিসার্স স্কুল অব ম্যাকানিকস- আদতে সামরিক জান্তার টর্চার সেল। ভরদুপুরে অথবা দিনের অন্য কোনো সময়- বিনা কারণে ‘ভিন্ন মতের’ মানুষদের এনে মেরে ফেলা হতো সেখানে।

ভিদেলা কখনও ফুটবল তেমন পছন্দ করতেন না। কিন্তু তিনি বুঝতে ভুল করলেন না, ফুটবল ঢেকে দিতে পারে অনেককিছু। অপকর্ম ঢেকে দেওয়ার হাতিয়ার হিসেবে বেছে নিলেন ফুটবল বিশ্বকাপকে। শুরুটাও হলো রক্তের দাগ দিয়ে।

১৯৭৮ বিশ্বকাপের আয়োজক কমিটির প্রধানের দায়িত্বে ছিলেন জেনারেল ওমর এক্টিস। নিজের প্রথম সংবাদ সম্মেলনে যাওয়ার পথে খুন হন তিনি। কেন? ধারণা করা হয়, জনসম্মুখে অর্থনৈতিক দুর্নীতির ব্যাপারে কথা বলতেন বলেই প্রাণ হারাতে হয় তাকে।

ফুটবল বিশ্বকাপে রাজনৈতিক বা ক্ষমতার চর্চা প্রথম ও শেষবার ১৯৭৮ সালে হয়নি অবশ্যই। ১৯৩৪-এ উরুগুয়ে বয়কট করেছিল ইউরোপের বিশ্বকাপ। কারণ হিসেবে তারা বলেছিল, আগের আসরে তাদের মাঠে খেলতে যায়নি ইউরোপের দলগুলো।

১৯৭৩ সালে চিলিতে বিশ্বকাপের প্লে-অফ খেলতে যায়নি সোভিয়েত ইউনিয়নের। তাদের দাবি ছিল, ইস্তাদিয়ো নাকোনাল স্টেডিয়ামের পাশেই বামপন্থীদের জেলখানা। তাই তারা খেলবে না চিলিতে। এমন ঘটনা ইতিহাসে কম নেই একেবারে। তবুও ১৯৭৮ বিশ্বকাপের ক্ষমতার চর্চা চলে গিয়েছিল ‘ঘৃণ্য’ পর্যায়ে।

১৯৭৪ সালেই নির্ধারিত হয় আর্জেন্টিনায় হবে পরের বিশ্বকাপ। দু বছর পর দেশটিতে ক্ষমতা দখল করে ভিদেলের সামরিক জান্তা। এরপর থেকে প্রতিবাদে সরব হয়ে উঠে পুরো বিশ্ব। যদিও স্বাগতিকের ব্যাপারে নিজেদের অবস্থানে অনড় থাকে ফিফা। আর্জেন্টিনার সামরিক জান্তা প্রতিশ্রুতি দেয়, বিশ্বকাপের সময় ঝরবে না রক্ত।

বিশ্বকাপ যদিও শুরুর আগেই হারিয়ে ফেলে তারকা। ওই সময়ের দুই সেরা ফুটবলার ইয়োহেন ক্রুইফ ও পল বিটনার নিজেদের সরিয়ে নেন এই টুর্নামেন্ট থেকে। অনেক বছর পর ক্রুইফ অবশ্য জানিয়েছিলেন, ‘বার্সেলোনার বাড়িতে ডাকাতির’ মানসিকভাবে বিধ্বস্ত থাকায় বিশ্বকাপে যাননি তিনি। তবুও বেশির ভাগেরই বিশ্বাস ছিল, সামরিক জান্তার প্রতি প্রতিবাদ জানিয়ে অংশ নেননি ক্রুইফ।

প্রতিবাদ, রক্তের দাগের ভেতর বিশ্বকাপ শুরু হলো। রাস্তায় ফ্রিতে দেওয়া হলো আর্জেন্টিনার পতাকা। বর্বর হত্যা আর ক্ষুধার যন্ত্রণায় ক্ষুব্ধ মানুষ সবকিছু ভুলে বেঁচে থাকলো ফুটবলে। রক্তের দাগ মুছে যেতে থাকলো গোলের উৎসবের সঙ্গে। সামরিক জান্তা বুঝলো, এই বিশ্বকাপে আর্জেন্টিনাকে নিয়ে যেতে হবে অনেক দূরে।

মাঠের খেলা শুরু হলো। প্রথম ম্যাচে আর্জেন্টিনা হারিয়ে দিলো হাঙ্গেরিকে, ব্যবধানটা অবশ্য কেবল ২-১। রাতে এক সেনা অফিসার এলেন আর্জেন্টিনার ফুটবলারদের ক্যাম্পে। হাসতে হাসতে তিনি এক ফুটবলারকে বললেন, ‘গ্রুপ পর্ব থেকে বাদ পড়ে গেলে সেটা কিন্তু কেউ ভালোভাবে নেবে না। ’ ফুটবলারটি জানতেন, এই হাসির আড়ালে লুকিয়ে আছে খুনের নেশা। যেভাবে ক’দিন আগে মেরে ফেলা হয়েছে তার বন্ধুকে, নিজেরও হতে পারে একই দশা। গ্রুপ পর্ব থেকে বাদ পড়েনি আর্জেন্টিনা। দ্বিতীয় রাউন্ডে তাদের সঙ্গী হলো ব্রাজিল, পেরু ও পোল্যান্ড। নিয়ম অনুযায়ী তাদের এক দল যাবে ফাইনালে। প্রথম ম্যাচে আর্জেন্টিনা হারালো পোল্যান্ডকে। পরেরটিতে ব্রাজিলের সঙ্গে হলো ড্র। নিজেদের শেষ ম্যাচে সেলেকাওরা আবার জিতে গেল ৩-১ ব্যবধানে। দাঁড়ালো কঠিন এক সমীকরণ।

শেষ ম্যাচে পেরুর বিপক্ষে আর্জেন্টিনাকে জিততে হবে ৪-০ ব্যবধানে। তারা জিতল ৬-০তে। জন্ম নিলো ফুটবল বিশ্বের সবচেয়ে বড় বিতর্কগুলোর একটি। কারণ ওই সময়ের পেরু বা আর্জেন্টিনার সামর্থ্যের ব্যবধান ছিল না এতটাও। এ নিয়ে চারদিকে ছড়িয়ে পড়ে নানা গুজব।

ব্রিটিশ সংবাদ মাধ্যমগুলো দাবি করে, পেরুতে বড় গমের চালান যেত আর্জেন্টিনা থেকে- ওই ভয় দেখানো হয়েছিল তাদের। কারো কারো দাবি, আর্জেন্টিনাতে বন্দি ১৩ জন পেরুর মানুষকে মুক্তি দেওয়ার শর্তে ম্যাচটি ছেড়ে দেওয়া হয়েছিল আলবিসেলেস্তেদের। পেরুর গোলরক্ষকও আবার ছিলেন আর্জেন্টিনায় জন্ম নেওয়া।

বিতর্ক অবশ্য থেমে থাকেনি সেখানেই। ফাইনালে আর্জেন্টিনা প্রতিপক্ষ হিসেবে পেলো নেদারল্যান্ডসকে। ডাচদের স্টেডিয়ামে আনা হলো অনেকটা পথ ঘুরিয়ে। মাঠে এসেও স্বস্তি পেলেন না দেশটির ফুটবলাররা। তাদের মাঠে এনে আর্জেন্টিনার ফুটবলাররা বসে থাকলেন ড্রেসিং রুমে।

কেন? আর্জেন্টিনার ৭০ হাজার সমর্থক চিৎকারে চিৎকারে অতিষ্ঠ করে ফেলেছিলেন ফুটবলারদের জীবন। মানসিকভাবে ভেঙেচুরমার করে দিয়েছিলেন ডাচদের। পরে হল্যান্ডের এক ফুটবলার বলেছিলেন, ‘তখন এমন অবস্থা হয়েছিল, ৫টি জেট প্লেন উড়ে গেলেও টের পেতাম না আমরা। ’

মাঠের খেলায় শেষ অবধি অতিরিক্ত সময়ে এসে ৩-১ গোলে জয় পেল আর্জেন্টিনা। তাদের হয়ে আলো ছড়ান মারিও ক্যাম্পাস। ছয় গোল করে পেয়েছিলেন ম্যাচ সেরার পুরস্কারও। নির্ধারিত সময়ের বিশ সেকেন্ড বাকি থাকতে অবশ্য রেনেসেনব্রিঙ্কের একটি শট লেগেছিল গোলপোস্টে। ওই গোলটি হয়ে গেলে ইতিহাস হয়তো লেখা হতো অন্যরকমভাবে।

আর্জেন্টিনার সেবারের দলটি একেবারেই খর্বশক্তির ছিল না অবশ্যই। ঝাঁকড়া চুলের ১৭ বছর বয়সী বিস্ময় বালক ডিয়েগো ম্যারাডোনা সুযোগ পাননি বিশ্বকাপে। মারিও ক্যাম্পাসরা খেলেছেন দারুণ, ফাইনালে তার দ্বিতীয় গোলটিই ছিল তিন ডিফেন্ডারকে কাটিয়ে করা। তবুও আলবিসেলেস্তেদের এই জয় ইতিহাসে লেখা হয়েছে খারাপভাবে। কেউ কেউ এটাকে বলে থাকেন ইতিহাসের সবচেয়ে নোংরা বিশ্বকাপ। যদিও আর্জেন্টিনার ফুটবলের ভিত্তপ্রস্তর মজবুত হয়েছিল ১৯৭৮ বিশ্বকাপে।

পর্দার বাইরে কিংবা আড়ালে যতই বিতর্ক থাকুক- বিশ্বকাপ শেষ অবধি উঁচিয়ে ধরেছে তারা। ফুটবলাররাও ভালো চোখে দেখেন না অবশ্য এই শিরোপা জয়। বিশ্বকাপজয়ী লুকু যেমন বলেছিলেন, ‘আমার এখনও মনে হয়, এই বিশ্বকাপটি খেলা ঠিক হয়নি। ১৯৮৬ বিশ্বকাপের মতো হলে আজীবন বুকে লালন করতাম। ’

রাজনৈতিক সমীকরণ। রক্তের দাগ। হত্যাযজ্ঞ। বর্বরতাকে ঢেকে দেওয়া ফুটবল। তবুও বিশ্বকাপ। আর্জেন্টিনার জন্য ওই প্রথম জয়। যদিও ফুটবল ইতিহাসের সবচেয়ে ‘নোংরা’ বিশ্বকাপে, তারপরও!

তথ্যসূত্র : বিবিসি, ব্লেচার রিপোর্ট ফুটবল

যুবলীগের মহাসমাবেশ শুরু, যোগ দিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী

ঢাকা: রাজধানীর সোহরাওয়ার্দী উদ্যানে শুরু হয়েছে ঐতিহাসিক যুব সংগঠন যুবলীগের মহাসমাবেশ। প্রতিষ্ঠার ৫০ বছর পূর্তি ও সুবর্ণজয়ন্তী উপলক্ষে আয়োজিত আওয়ামী লীগের অন্যতম সহযোগী সংগঠনটির আয়োজনে যোগ দিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। শুক্রবার (১১ নভেম্বর) দুপুর ২টা ৩৮ মিনিটে মহাসমাবেশে প্রধান অতিথি হিসেবে যোগ দেন শেখ হাসিনা। এ সময় পায়রা ও বেলুন উড়িয়ে সুবর্ণজয়ন্তী ও সমাবেশ উদ্বোধন করেন তিনি। মহাসমাবেশের সভাপতিত্ব করছেন যুবলীগের চেয়ারম্যান শেখ ফজলে শামস পরশ।

যুবলীগের এ সম্মেলন উপলক্ষে সমাবেশস্থল সোহরাওয়ার্দী উদ্যান ও আশপাশের এলাকা-সড়কগুলোয় ব্যাপক নিরাপত্তা ব্যবস্থা নিয়েছে আইন শৃঙ্খলারক্ষাকারী বাহিনী।

ইতোমধ্যে জনসমুদ্র পরিণত হয়েছে সোহরাওয়ার্দী উদ্যান এলাকা। ঢাকার উত্তর-দক্ষিণ তো বটেই দেশের বিভিন্ন এলাকা থেকে সংগঠনটির নেতাকর্মী-সমর্থকরা যোগ দিয়েছেন এ সম্মেলনে।

সম্মেলনে যোগ দেওয়ারা বলছেন, জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের নির্দেশে ১৯৭২ সালের ১১ নভেম্বর শেখ ফজলুল হক মনি যুবলীগ প্রতিষ্ঠা করেন। তিনি ছিলেন সংগঠনটির প্রতিষ্ঠাতা চেয়ারম্যান। বঙ্গবন্ধুর ডাকে সাড়া দিয়ে তিনি যেমন দেশ সেবায় নিয়োজিত হয়েছিলেন, তেমনি শেখ হাসিনার ডাকে বর্তমান যুবলীগ দেশ সেবা করবে।

বিভিন্ন রঙের ক্যাপ, টি-শার্ট পরে যুবলীগের নেতাকর্মীরা সমাবেশে যোগ দিচ্ছেন। তাদের হাতে রয়েছে নানা রঙের ব্যানার, ফেস্টুন, প্ল্যাকার্ড, বঙ্গবন্ধুর, প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার বড় আকারের ছবি। ছোট ছোট মিছিল নিয়ে তারা অনুষ্ঠানে অংশ নিয়েছেন।

সকাল থেকেই সম্মেলস্থলে লোকজন আসতে শুরু করে। এত বেশি মানুষ আজকের সম্মেলনে হয়েছে- টিএসসি এলাকা থেকে শুরু করে আশপাশের পরিচিত সব এলাকার কানায় কানায় মানুষ পূর্ণ হয়ে আছে। পলাশী, আজিমপুর, বকশি বাজার, শহীদ মিনার এলাকায়, ঢামেক, গুলিস্তান, শাহবাগ, ফার্মগেট, নিউমার্কেট প্রায় সব এলাকায় যান চলাচল ধীরগতির হয়ে পড়েছে।

অনুষ্ঠান শুরুর আগে ‘শুভ শুভ শুভ দিন, যুবলীগের জন্ম দিন’, ‘শেখ হাসিনার সরকার, বাংলাদেশের দরকার’, সারা বাংলায় নেত্রী কী আছে, কোন সে নেত্রী, শেখ হাসিনা, শেখ হাসিনা’ শ্লোগানের মুখরিত হয়ে পড়ে সোহরাওয়ার্দী উদ্যান। যুবলীগের নেতাকর্মীরা নিজ নিজ ইউনিটের পছন্দ ও মনোনীত রঙের টি-শার্ট ও ক্যাপ পরে হাজির হয়েছেন।

কক্সবাজার জেলা থাকা আসা যুবলীগ নেতা শাহাদাত হোসেন বলেন, তারা ১৫ হাজার মানুষ নিয়ে ঢাকা এসেছেন সম্মেলন সফল করতে।

বরিশাল থেকে আসা যুবলীগ নেতা আকরাম হোসেন বলেন, হাজার হাজার নেতাকর্মী বরিশাল থেকে বাস ও লঞ্চে ঢাকায় এসেছেন নিজেদের সমাবেশ সফল করতে।

সকালে গণমাধ্যমের সঙ্গে কথা বলেছিলেন তিনি। পরশ বলেন, দক্ষিণ এশিয়ার বৃহত্তম যুব সংগঠন আওয়ামী যুবলীগ দেশের যেকোনো সংকটে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে থাকে। রাষ্ট্রবিরোধী অপশক্তি বিএনপি-জামাত দেশে অস্থিতিশীল পরিস্থিতি সৃষ্টি করতে অপচেষ্টা চালাচ্ছে। যুবলীগের নেতা-কর্মীরা ১১ নভেম্বরের পর থেকে বিএনপি-জামাত ও তাদের দোসরদের যেকোনো ধরনের নৈরাজ্য মোকাবিলা করতে রাজপথে থাকবে।

প্রসঙ্গত, মহাসমাবেশ সফল করতে গত কয়েক সপ্তাহ ধরে মহানগর, জেলা ও উপজেলা পর্যায়ে বর্ধিত সভা করে ব্যাপক প্রস্তুতি নেয় যুবলীগ। সোহরাওয়ার্দী উদ্যানে যুব মহাসমাবেশকে কেন্দ্র করে নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে সব ধরনের ব্যবস্থা নিয়েছে আইনশৃঙ্খলা বাহিনী।

গোমস্তাপুরে ওএমএসের চাল পেতে খোলা আকাশের নিচে রাতভর অপেক্ষা

 

গোমস্তাপুর( চাঁপাইনবাবগঞ্জ)প্রতিনিধি: চাঁপাইনবাবগঞ্জের গোমস্তাপুরে ওএমএসের চাল পেতে শীতের রাতে খোলা আকাশের নীচে সারা রাত দুঃস্থদের মানবেতর অপেক্ষা করতে হচ্ছে । জানা গেছে, সরকারের খাদ্যবান্ধব কর্মসূচির আওতায় খোলাবাজারে বর্তমানে দেশে খাদ্যপণ্য বিক্রি বা ওএমএস কার্যক্রম চালু রয়েছে। এরই অংশ হিসেবে প্রতিজন ৩০ টাকা কেজির দরে ৫কেজি করে চাউল পাবে।কিন্তু এ চাউল সংগ্রহ করতে গিয়ে নানা ভোগান্তি পোহাতে হচ্ছে স্থানীয় সল্প আয়ের মানুষকে। আগে চাল পেতে তাদের রাতভর অপেক্ষা করতে হচ্ছে।

ভূক্তভোগী এক মহিলা জানান, আমার পরিবারে পাঁচ জন সদস্য। স্বামী রাজমিস্ত্রির কাজ করে। আয় উপার্জনক্ষম ব্যক্তি বলতে আমার স্বামী ছাড়া আর কেউ নেই। অভাবের সংসারে সারা বছর চাল কিনে খেতে হয়। বাজারে চাউলের দাম ৬০ টাকা আর স্বামীর দৈনিক আয় ৪’শ থেকে ৫’শ টাকা। সামান্য এ আয় দিয়ে বাজারে চাল কিনে সংসার চালাতে হিমশিম খাচ্ছি। কিন্তু গত ১৫ দিন ধরে ঘুরে কোন চাউল না পাওয়ায় আজকে বাধ্য হয়ে সিদ্ধান্ত নিয়েছি সন্ধ্যা থেকে রাত অবধি জেগে পরের দিন চাউল পাব বলে আশা করেন তিনি । ডিলারদের দাবি, স্থানীয় খাদ্য বিভাগ চাউলের দৈনিক বরাদ্দ কম দেওয়ার কারণে অনেকে চাউল পাচ্ছে না। এত কনকনে শীতের রাতে ঠান্ডায় অনেকেই রাতভর অপেক্ষা করতে হচ্ছে । ডিলাররা তাদের বরাদ্দ আগের মত প্রতিদিন ২ টন করার দাবি জানিয়েছে। বর্তমানে তাদের প্রতিদিন ১ টন করে চাল বরাদ্দ দেওয়া হচ্ছে।
গোমস্তাপুর উপজেলা খাদ্য নিয়ন্ত্রক তারেক-উজ-জামান মোবাইল ফোনে জানান, রহনপুর পৌর এলাকার ৪জন ডিলার নিয়োগ দেয়া আছে। এক টন করে ৪জন ডিলারের জন্য ৪টন দৈনিক বরাদ্দ দেওয়া হচ্ছে । রহনপুর পৌর এলাকার কলেজ মোড়ে ডিলার গোলাম রাব্বানী জানান, ৫ কেজি চাউলের জন্য ভূক্তভোগীদের সারারাত অপেক্ষায় থাকার বিষয়টি আমার জানা ছিলো না। চালের বরাদ্দ পূর্বের ন্যায় করতে আমরা সংশ্লিষ্ট কতৃর্পক্ষকে অনুরোধ জানিয়েছি।