সর্বশেষ সংবাদ বেতন বাড়ছে জাতীয় দলের ক্রিকেটারদের নন্দীগ্রামে হেরে হাইকোর্টে মমতা, শুনানি আজ চীনের সিনোফার্মের টিকা চট্টগ্রামে পৌঁছেছে অবশেষে ফিরে এসেছেন আবু ত্ব-হা করোনা ভাইরাস থেকে বাঁচতে আর্জেন্টিনা সমর্থকদের নিয়ে মেয়র মনিরুলের মাস্ক ও হ্যান্ড স্যানিটাইজার বিতরণ চাঁপাইনবাবগঞ্জে ফের গুচ্ছগ্রাম উদ্বোধন করবেন প্রধানমন্ত্রী মদ-ক্লাব-জুয়া নিয়ে উত্তপ্ত সংসদ দ্বিতীয় পর্যায়ে ঘর পাচ্ছে আরও ৫৩ হাজার পরিবার চাঁপাইনবাবগঞ্জে কঠোর বিধিনিষেধের মেয়াদ বাড়ল ৭ দিন সংসারের বোঝা কমাতে রাজমিস্ত্রীর কাজে গিয়ে প্রাণ হারালো স্কুলছাত্র

নদীতে অসংখ্য মাছ ধরার ঘের চাঁপাইনবাবগঞ্জের গোমস্তাপুরে জেলেদের অবৈধ ঘেরে মহানন্দা নদীর করুণ দশা

চাঁপাইনবাবগঞ্জ প্রতিনিধি ॥ গোমস্তাপুরে মহানন্দা নদীতে জেলেদের অসংখ্য অবৈধ মাছ ধার ঘেরে দূষিত হচ্ছে মহানন্দার পানি। এমনিতেই মহানন্দা শুকিয়ে মরা খালে পরিনত হয়েছে। কোন কোন জায়গায় পানি থাকলেও জেলেদের ঘেরে মাছ চাষের নামে বিষাক্ত খাবার দিয়ে পানি নষ্ট করছে। এমনই অবস্থা চাঁপাইনবাবগঞ্জের গোমস্তাপুর উপজেলার বোয়ালিয়া ইউনিয়নের কালুপুর-দুর্গাপুর অঞ্চলের মহানন্দা নদীতে। গোমস্তাপুর-চৌডালা ইউনিয়নেও একই অবস্থা। দীর্ঘদিন বৃষ্টিপাত না হওয়ায় খাল-বিল নদী-নালা শুকিয়ে যাচ্ছে। নদীতে এখন হাঁটু পানিতে হেঁটে যাওয়া যায়। কোথায় পানির দেখা নেই। গোমস্তাপুর উপজেলার বোয়ালিয়া ইউনিয়নের কালুপুর-দুর্গাপুর অঞ্চলে মহানন্দা নদী বিলীন হতে বসেছে। কিছু অবৈধ জেলেদের কবলে মহানন্দা নদীর তীর নদীর গহব্বরে চলে গেছে। তাদের তৎপরতা গোমস্তাপুর-চৌডালা ইউনিয়নেও রয়েছে। কালুপুর নিবাসী আফজাল হোসেন জানান, আমাদের এলাকার মহানন্দা নদী স্থানীয় প্রভাবশালীদের ছত্রছায়ায় তার সৌন্দর্য হারিয়ে ফেলছে। দীর্ঘ দিন ধরে নদীতে মাছ ধরার ঘের (কুমাড়) ফেলে রাখলে নদীর পাড়ের জমি নদীর স্রোতের কারণে তীরে চলে যাচ্ছে। আমাদের জমিজমা নদীতে তলিয়ে গেছে। কুমাড়ে আটক মাছকে বিষাক্ত খাবার (ব্রয়লার বিষ্ঠা) দিচ্ছে। পানি দূষণ করছে। যার ফলে এলাকার মানুষ পানি ব্যবহার করতে পারছে না। আমরা এর প্রতিকার চাই। আরো একজন নদীর পাড়ে বসবাসরত বৃদ্ধ বলেন, নদীর পাড়ে আমি বসবাস করি। স্থানীয়দের ক্ষমতাবলে দীর্ঘ ২০ বছর ধরে এই ঘেরগুলো (কুমাড়) রেখে নদীর পাড়, নদীর স্রোতে নদীর গহব্বরে চলে গেছে। আমার বাড়িটার জমি কেটে কেটে স্রোতে নিয়ে চলে যায়। নদীর পানি ব্যবহার করতে পারি না। এমনকি নদীতে গোসলও পর্যন্ত করতে পারছি না। অপরদিকে কুমাড় মালিক সুজাউদ্দিন বলেন, আমরা মৎস্য অধিদপ্তর এর কার্ডধারী জেলে। দীর্ঘ ১২ বছর ধরে ঘের (কুমাড়) ফেলে মাছ ব্যবসা করছি। আমার ঘেড়ের (কুমাড়) কারণে অন্য মানুষের কোন ক্ষতি হয় না। সরেজমিনে দেখা গেছে, নদীর পানিতে শত শত ঘের (কুমাড়) রয়েছে। আর নদীর পাড়, নদীর স্রোতের কারণে মাটি কেটে চলে গেছে। যার ফলে স্থানীয়রা এ ঘেড় (কুমাড়) করায় অনেকে ক্ষোভ প্রকাশ করেছে। তাদের অভিযোগ স্থানীয় প্রশাসনকে ম্যানেজ করে তারা এ কাজটি করে যা”েছ এতে করে কারো কথা তারা শুনছে না। এ বিষয়ে গোমস্তাপুর উপজেলার মৎস্য কর্মকর্তা (অতিঃ দায়িত্ব) ড. মোঃ আবু বক্কর ছিদ্দিক বলেন, আমি এখনও এসব বিষয়ে কিছু জানি না। এ বিষয়ে তদন্ত করে দোষিদের বিরুদ্ধে প্রয়োজনীয় আইননুগ ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।

চাঁপাইনবাবগঞ্জে ট্রাকের ধাক্কায় নিহত-১,আহত-১

চাঁপাইনবাবগঞ্জ প্রতিনিধি

 

চাঁপাইনবাবগঞ্জের গোমস্তাপুরে ট্রাকের ধাক্কায় মোটরসাইকেলের এক আরোহী নিহত এবং একজন আহত হয়েছে।
শুক্রবার (৩০ এপ্রিল) বেলা ৩টার দিকে উেপজেলার দোষিমনি কাঠাল এলাকায় এ দূর্ঘটনা ঘটে।
নিহত ব্যক্তি নওগাঁ জেলার নেয়ামতপুরের মাকলাহাট এলাকার আফসার আলী (৬৮)এবং গুরতর আহত ব্যক্তি একই জেলার পৌরহাট এলাকার মাইনুল হক (৫৮)।

স্থানীয়রা জানায়; একটি বালুবাহী ট্টাক গোমস্তাপুর-চাঁপাইনবাবগঞ্জ সড়কের কাঁটাল এলাকায় পিছন দিক থেকে মোটরসাইকেলকে ধাক্কা দেয়। এ সময় মোটরসাইকেলে থাকা ২ জন ছিটকে রাস্তায় পড়ে যায়। স্থানীয়রা ছিটকে পড়ে গুরুতর আহতদের গোমস্তাপুর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপে¬ক্সে নিলে কর্তব্যরত চিকিৎসক আফসার আলীকে মৃত ঘোষণ করেন। আরেক মোটরসাইকেল আরোহী মাইনুল হক গুরতর জখম হওয়ায় প্রাথমিক চিকিৎসা শেষে তাকে রামেক (রাজশাহী মেডিকেল কলেজ) হাসপাতালে স্থানান্তর করা হয়।

এ ব্যাপারে গোমস্তাপুর থানার ওসি দিলিপ কুমার ঘটনাটি নিশ্চিত করে জানান; ঘাতক ট্রাকসহ ড্রাইভার পলাতক আছে। আইনানুগ ব্যবস্থা শেষে আফসার আলীর মরদেহ পরিবারের কাছে হস্তান্তর করা হবে।

এবার পশ্চিমবঙ্গে মৃত্যুর রেকর্ড, শনাক্ত সাড়ে ১৭ হাজার

ডেস্ক

করোনাভাইরাসে আক্রান্ত হয়ে পশ্চিমবঙ্গে গত একদিনে আরও ৮৯ জন মারা গেছেন। ভারতের এ রাজ্যে করোনায় একদিনে এটাই সর্ব্বোচ্চ মৃত্যু। এ নিয়ে পশ্চিমবঙ্গে করোনায় মোট মৃতের সংখ্যা বেড়ে দাঁড়াল ১১ হাজার ২৪৮ জনে। আনন্দবাজার।

এদিকে গত ২৪ ঘণ্টায় পশ্চিমবঙ্গে ১৭ হাজার ৪০৩ জনের করোনা শনাক্ত হয়েছে। এ নিয়ে রাজ্যে মোট করোনা আক্রান্তের সংখ্যা বেড়ে দাঁড়াল ৮ লাখ ১০ হাজার ৯৫৫ জনে। পশ্চিমবঙ্গ স্বাস্থ্য দফতর প্রকাশিত বৃহস্পতিবারের বুলেটিন থেকে এসব তথ্য জানা গেছে।

এতে বলা হয়েছে, বৃহস্পতিবার করোনায় মৃত ৮৯ জনের মধ্যে কলকাতায় ২৩, উত্তর ২৪ পরগনায় ২১, দক্ষিণ ২৪ পরগনায় ১১, হাওড়ায় ৭, হুগলিতে ৬, বাঁকুড়ায় ৫, পশ্চিম মেদিনীপুরে ৪ ও বীরভূমে ৪ জন মারা গেছেন।

সংক্রমণের হিসাবে শীর্ষে রয়েছে উত্তর ২৪ পরগনা (৩ হাজার ৯১২ জন) ও কলকাতা (৩ হাজার ৯০১ জন)। এছাড়া রাজ্যের আলিপুরদুয়ারে ৫৮, কোচবিহারে ১৫১, দার্জিলিংয়ে ১৯১, কালিম্পংয়ে ৩৬, জলপাইগুড়িতে ১৫২, উত্তর দিনাজপুরে ২৯৩, দক্ষিণ দিনাজপুরে ১৭৪, মালদহে ৫২৮, মুর্শিদাবাদে ৫৫৩, নদিয়ায় ৭৪৯, বীরভূমে ৭৪৬, পুরুলিয়ায় ৩৫৪, বাঁকুড়ায় ৪০২, ঝাড়গ্রামে ৭৪, পশ্চিম মেদিনীপুরে ২৬১, পূর্ব মেদিনীপুরে ৫৪৩, পূর্ব বর্ধমানে ৫৮৫, পশ্চিম বর্ধমানে ৮৯৩, হাওড়ায় ৯২৭, হুগলিতে ৯৩০ ও দক্ষিণ দিনাজপুরে ৯৯০ জন।

পশ্চিমবঙ্গে এখন পর্যন্ত সক্রিয় করোনা রোগী রয়েছেন ১ লাখ ১০ হাজার ২৪১ জন, যা বুধবারের তুলনায় ৪ হাজার ৪২৯ জন বেশি। গত ২৪ ঘণ্টায় এ রাজ্যে হাসপাতাল থেকে ছাড়া পেয়েছেন ১২ হাজার ৮৮৫ জন। ফলে, পশ্চিমবঙ্গে এখন মোট ৬ লক্ষ ৮৯ হাজার ৪৬৬ জন সুস্থ।

স্বাস্থ্য দফতরের পরিসংখ্যান অনুযায়ী, গত ২৪ ঘণ্টায় সংক্রমণের হার ৩২.৩৯ শতাংশে। মোট সংক্রণের হারও বেড়ে হয়েছে ৭.৮১ শতাংশ, যা এখন পর্যন্ত সর্বোচ্চ। ২৪ ঘণ্টায় রাজ্যে ৫৩ হাজার ৭২৪ জনের নমুনা পরীক্ষা করা হয়। প্রতি দিন যত সংখ্যক নমুনা পরীক্ষা হয়, তার মধ্যে যত জনের রিপোর্ট পজিটিভ আসে তার শতাংশের হারকেই সংক্রমণের হার বলে।

এদিকে, পশ্চিমবঙ্গে গত ২৪ ঘণ্টায় ১ লাখ ৯৩ হাজার ৮৫২ মানুষ করোনাভাইরাসের টিকা নিয়েছেন। এ নিয়ে এখন পর্যন্ত রাজ্যে মোট টিকা নিয়েছেন ১ কোটি ৬ লাখ ৩২ হাজার ৮৭ জন।

বাংলাদেশে ২৪ ঘণ্টায় মৃত্যু ৫৭, শনাক্ত ২১৭৭

ডেস্ক

করোনাভাইরাসে দেশে একদিনে আরও ৫৭ জনের মৃত্যু হয়েছে। এসময় রোগী শনাক্ত হয়েছে ২১৭৭ জন।

শুক্রবার স্বাস্থ্য অধিদপ্তর থেকে পাঠানো করোনা বিষয়ক নিয়মিত সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য জানানো হয়েছে।

প্রসঙ্গত, ২০২০ সালের ৮ মার্চ দেশে করোনা ভাইরাসের প্রথম রোগী শনাক্ত হয়। এর ১০ দিন পর ১৮ মার্চ করোনায় প্রথম একজনের মৃত্যু হয়।

মামুনুল হকের দাবি করা দ্বিতীয় স্ত্রী জান্নাতের সেচ্ছায় মামলা দায়ের—-সোনারগাঁ থানার ওসি

নারায়ণগঞ্জ: হেফাজতে ইসলামের সদ্য বিলুপ্ত কমিটির যুগ্ম মহাসচিব ও ঢাকা মহানগরের সাধারণ সম্পাদক মামুনুল হকের দাবি করা দ্বিতীয় স্ত্রী জান্নাত আরা ঝর্ণা নিজে স্বেচ্ছায় থানায় এসে মামলা দায়ের করেছেন। তিনি আসার পর তার মামলা গ্রহণ করা হয়েছে। এরপর মহিলা পুলিশের মাধ্যমে তাকে নিরাপত্তা দিয়ে শহরের সদর জেনারেল হাসপাতালে মামলায় প্রয়োজনীয় আলামত সংগ্রহের জন্য তার মেডিক্যাল পরীক্ষা করানো হয়েছে। পরে সে নিজেই বাড়ি ফিরে গেছেন।

শুক্রবার (৩০ এপ্রিল) বিকেলে এসব তথ্য জানান মামলার তদন্তকারী কর্মকর্তা সোনারগাঁ থানার ওসি (তদন্ত) শফিকুল।

এর আগে সকালে মামুনুলের বিরুদ্ধে প্রলোভন, প্রতারণা, নির্যাতনের অভিযোগ এনে সোনারগাঁ থানায় মামলা দায়ের করেন ঝর্ণা। এরপর পুলিশ পাহারায় দুপুরে নারায়ণগঞ্জ সদর জেনারেল হাসপাতালে এসে মেডিক্যাল পরীক্ষা সম্পন্ন করেন ঝর্ণা। পুলিশ তাকে আবার সোনারগাঁ থানা পর্যন্ত নিয়ে গেলে সেখান থেকে ঝর্ণা নিজেই বাড়ি ফিরে যান।

শফিকুল জানান, মামলা হওয়ার পর থেকেই পুলিশ কার্যক্রম শুরু করেছে। আমরা তদন্তের স্বার্থে যা যা প্রয়োজন হবে করবো।

দিশেহারা ভারত কে ‘অক্সিজেন’ কিনতে ১ কোটি রুপি দান

করোনা ভাইরাস মহামারির দ্বিতীয় ঢেউয়ে বিপর্যস্ত ভারতে এখন তীব্র ‘অক্সিজেন’ সংকট দেখা দিয়েছে। এমন বিপর্যয়ে সহায়তার হাত বাড়িয়ে দিচ্ছেন অনেক বলিউড তারকা, ক্রীড়া ব্যক্তিত্ব থেকে শুরু করে সাধারণ মানুষও। এবার সেই তালিকায় যোগ দিলেন ভারতের কিংবদন্তি ক্রিকেটার শচীন টেন্ডুলকারও।

করোনা আক্রান্ত রোগীদের ‘অক্সিজেন’ সরবরাহের ব্যবস্থা করতে ‘মিশন অক্সিজেন’ তহবিলে ১ কোটি রুপি দান করেছেন শচীন। বিষয়টি টুইটারে নিজেই জানিয়েছেন ‘লিটল মাস্টার’।

টুইটারে শচীন লিখেছেন, ‘করোনার দ্বিতীয় ঢেউয়ে অনেক মানুষ আক্রান্ত হচ্ছেন। ফলে দেশের স্বাস্থ্য ব্যবস্থাও একেবারেই ভেঙে পড়ার উপক্রম। এই সময়ে প্রচুর অক্সিজেন দরকার। এই দুর্দিনে অনেকেই সাহায্য করার জন্য এগিয়ে আসছেন। এটা দেখে খুব ভালো লাগছে। মিশন অক্সিজেন নামের সংস্থায় ২৫০ জনের বেশি যুবক-যুবতী যোগ দিয়েছেন। বিভিন্ন হাসপাতালে অক্সিজেন কনসেন্ট্রেটর পৌঁছে দিতে তারা অর্থ সংগ্রহ করছে। আমি ওদের সাহায্য করলাম। আশা করি, ভারতের বিভিন্ন হাসপাতালে এই অক্সিজেন কনসেন্ট্রেটর দ্রুত পৌঁছে যাবে। ’

শচীন নিজেও করোনা আক্রান্ত হয়ে হাসপাতালে ভর্তি হয়েছিলেন। পরে অবশ্য সুস্থ হয়ে বাসায় ফিরেছেন তিনি। কিছুদিন আগে ডাক্তারদের পরামর্শ মেনে প্লাজমা দিয়েও চেয়েছিলেন সর্বকালের অন্যতম সেরা এই ব্যাটসম্যান।

এর আগে ‘অক্সিজেন’ কিনতে ৫০ হাজার মার্কিন ডলার দা করেছিলেন আইপিএল খেলতে ভারতে অবস্থান করা কলকাতা নাইট রাইডার্সের অজি পেসার প্যাট কামিন্স। পরে প্রায় সমপরিমাণ অর্থ দান করেন তারই স্বদেশী কিংবদন্তি পেসার ব্রেট লি। দলীয়ভাবে এগিয়ে এসেছে মোস্তাফিজদের দল রাজস্থান রয়্যালসও।

গোমস্তাপুরে করোনায় আক্রান্ত প্রথম ব্যক্তির মৃত্যু

চাপাইনবাবগঞ্জ প্রতিনিধি ঃ
চাঁপাইনবাবগঞ্জের গোমস্তাপুরে এক ব্যাক্তির মৃত্যুর পর মৃত্যু ব্যক্তির নমুনায় করোনা পজিটিভ ফলাফল এসেছে। এর আগে গত শুক্রবার করোনা উপসর্গ নিয়ে মুখলেসুর রহমানের (৭৫) নামে ঐ ব্যক্তি মৃত্যুবরণ করেন। মৃত্যুও আগে তিনি সহ একই এলাকার অন্যন্যরা করোনা পরীক্ষার জন্য নমুনা দিলে মঙ্গলাবর সন্ধ্যায় উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে আর টি পিসিআর পরীক্ষার মাধ্যমে তারসহ আরোও ৩ জনের ফলাফল করোনা পজিটিভ আসে। আক্রান্ত ব্যক্তিরা সকলেই বাড়িতে আইসোলেশনে রয়েছেন।
গোমস্তাপুর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের করোনা মনিটরিং কর্মকর্তা ডা. হাসান আলী জানান, করোনার দ্বিতীয় টেউয়ে গত ১৭ এপ্রিল হতে উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে র‌্যাপিড অ্যান্টিজেন পরীক্ষা চালু হয়। পরীক্ষা চালুর পর থেকে প্রতিদিন ১থেকে ২ জনের দেহে করোনী শনাক্ত হচ্ছে। এ পর্যন্ত র‌্যাপিড অ্যান্টিজেন পরীক্ষায় ৭ জন রোগী শনাক্ত হয়েছে। তাদের নমুনা পুণরায় পিসিআর পরীক্ষায় পাঠানো হলে ৩ জনের রিপোর্ট পজিটিভ আসে। এরা হলো,রফিকুল (৫০), আব্দুর রশিদ (৫৫) ও জিল্লুর রহমান (৫৯)। এছাড়া গত বৃহস্পতিবার গোমস্তাপুর ইউনিয়নের জাহিদ নগর গ্রামের মুখলেসুর রহমান (৭৫) নামে বৃদ্ধ জ্বর ও কাঁশি নিয়ে উপজেলা স্বাস্থ্য কমপে¬ক্সে আসলে কর্তব্যরত চিকিৎসক তাকে তাৎক্ষণিক র‌্যাপিড অ্যান্টিজেন টেস্ট পরীক্ষা করানো হয়। পরীক্ষায় তার নেগেটিভ রিপোর্ট আসে। আরেকটি স্যাম্পল পিসিআর পরীক্ষার জন্য রাজশাহী মেডিকেল কলেজে পাঠানো হয়। এর মধ্যেই ওই রোগী গত শুক্রবারে বাড়িতে মৃত্যুবরণ করেন। মঙ্গলবার রাতে পিসিআর রিপোর্ট পজিটিভ আসে। ফলে তার করোনায় মৃত্যু হয়।
তিনি জানান, গোমস্তপুর উপজেলা ভয়াবহ করোনার ঝুঁকিতে আছে। এমতাবস্থায় সকলে সচেতন থাকতে,স্বাস্থ্যবিধি মেনে চলতে অনুরোধ করেন। এছাড়া জ্বর-কাঁশি হলে দ্রুত হাসপাতালে যোগোযোগ করে র‌্যাপিড আ্যান্টিজেন টেস্টের মাধ্যমে ৩০মিনিটেই করোনা শনাক্ত করা সম্ভব হচ্ছে।
গত ১৭ এপ্রিল থেকে উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে র‌্যাপিড অ্যান্টিজেন টেস্ট করে গোমস্তাপুর উপজেলায় ৬ জন ও নাচোল উপজেলার ১ জন মোট ৭ জনের দেহে করোনা শনাক্ত হয়।
এ নিয়ে জেলায় এ পর্যন্ত ১৬ জনের মৃত্যু হলো।

গোমস্তাপুরে  ফসলী জমি কেটে ইউপি সদস্যের পুকুর খনন

চাঁপাইনবাবগঞ্জ :

আইন অমান্য করে ফসলী জমি কেটে ইউপি সদস্য পুকুর কেটে মাটি বিক্রি করছেন বিভিন্ন ইটভাটায়। অভিযুক্ত ইউ’পি সদস্য চাঁপাইনবাবগঞ্জের গোমস্তাপুর উপজেলার চৌডালা ইউনিয়নের ৭নং ওয়ার্ড সদস্য শরিফুল ইসলাম।

স্থানীয়রা জানান, সরকারী নিয়ম অনুযায়ী পুকুর, খাল-বিল, নদ-নদী, চরাঞ্চল, পতিত ও আবাদী জমি থেকে মাটি কাটা নিষিদ্ধ। এছাড়া স্থানীয় সরকার প্রকৌশল অধিদপ্তরের অধীনে নির্মিত উপজেলা, ইউনিয়ন বা গ্রামীণ সড়ক ব্যবহার করে কোন ভারী যানবাহন দিয়ে ইটভাটার কাঁচামাল আনা নেয়া নিষিদ্ধ। কিন্তু এর কোন নিয়মই মানছেন না স্থানীয় ওই প্রভাবশালী  ইউপি সদস্য।
তিনি উপজেলার চৌডালা ইউনিয়নের কুমারগাড়া বিলে তার নিজ মালিকানাধীন ফসলী জমিতে এক্সকেভেটর (ভেকু) চালক দিয়ে ৭দিন থেকে  মাটি কেটে দীঘি পুকুর খনন করছেন। এছাড়া খননকৃত ওই পুকুরের চারপাশেই ফসলী জমি ও আম বাগান থাকলেও প্রভাব খাটিয়ে মাটি কাটছেন তিনি। সেসাথে মাটি আনা নেয়ার কাজে নিয়োজিত ট্রাকগুলো চলাচলের ফলে বিস্তীর্ণ ফসলি জমিও নষ্ট হচ্ছে।

মাটি কাটার কাজে নিয়োজিত চৌডালা ইউনিয়নের বেলালবাজার আমীর হোসেন জানান, শরিফুল ইসলাম এখন ৫বিঘার জায়গায় পুকুর খনন করে উত্তোলিত মাটি আশেপাশের বিভিন্ন ভাটায় বিক্রি করছেন। প্রতি ট্রাক মাটি ৬’শ’ থেকে ৭’শ’টাকায় বিক্রি করা হচ্ছে। প্রতিদিন এ মাটি বহন করার কাজে ব্যবহৃত হচ্ছে ৭/৮ টি ট্রাক।

নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক পার্শ^বর্তী জমির একাধিক মালিক জানান, শরিফুল ইসলাম প্রভাবশালী ও বর্তমান ইউপি মেম্বার হওয়ায় তিনি কোন নিষেধ শুনছেন না। ট্রাক বারবার আসা-যাওয়া করায় ধুলোতে আমাদের ফসলী জমির অনেক ক্ষতি হচ্ছে। সেই সাথে পরিবেশের পাশাপাশি নষ্ট হচ্ছে রাস্তাঘাটও।

এ ব্যাপারে গোমস্তাপুর উপজেলা সহকারী কমিশনার (ভূমি) শাহরিয়ার নজির বলেন, অভিযোগের ভিত্তিতে অতি দ্রুত প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেয়া হবে।

২৪ ঘণ্টায় বিশ্বে করোনায় ১৪ হাজারের বেশি মৃত্যু

বিশ্বে দিন দিন করোনা ভাইরাসের ভয়াবহতা বেড়েই চলেছে। বেশ কয়েকটি দেশ করোনার দ্বিতীয় ঢেউয়ে বিপর্যস্ত।এরই মধ্যে গত ২৪ ঘণ্টায় নতুন করে মারা গেছে ১৪ হাজার ৮২১ জন। একই সময়ে করোনা রোগী শনাক্ত হয়েছে ৮ লাখ ৩০ হাজার ৮২২ জন।

বুধবার (২৮ এপ্রিল) সকাল ৮টায় আন্তর্জাতিক পরিসংখ্যানভিত্তিক ওয়েবসাইট ওয়ার্ল্ডোমিটার থেকে এই তথ্য জানা যায়।

ওয়ার্ল্ডোমিটারের তথ্যানুযায়ী, বিশ্বে এখন পর্যন্ত করোনায় আক্রান্ত রোগী শনাক্ত হয়েছে মোট ১৪ কোটি ৯৩ লাখ ২৮ হাজার ৮৫৮ জন। এর মধ্যে মারা গেছে ৩১ লাখ ৪৮ হাজার ৭৮১ জন। আর এখন পর্যন্ত করোনা থেকে সুস্থ হয়েছেন মোট ১২ কোটি ৬৯ লাখ ৮২ হাজার ১৩৭ জন।

বিশ্বে করোনায় ক্ষতিগ্রস্ত দেশের তালিকায় সবার ওপরে রয়েছে যুক্তরাষ্ট্র। সে দেশে এখন পর্যন্ত করোনায় আক্রান্ত হিসাবে শনাক্ত হয়েছে ৩ কোটি ২৯ লাখ ২৭ হাজার ৯১ জন। মৃত্যু হয়েছে ৫ লাখ ৮৭ হাজার ৩৮৪ জনের।

এরপরই রয়েছে ভারত। গত কয়েকদিন ধরে ভারতে প্রতিদিনের সংক্রমণের সংখ্যা বিশ্বের মধ্যে সর্বোচ্চ হচ্ছে। দেশটিতে এখন পর্যন্ত করোনা সংক্রমণ শনাক্ত হয়েছে ১ কোটি ৭৯ লাখ ৮৮ হাজার ৬৩৭ জনের শরীরে। মৃত্যু হয়েছে ২ লাখ ১ হাজার ১৬৫ জনের।

তালিকার তৃতীয় স্থানে রয়েছে ব্রাজিল। ল্যাটিন আমেরিকার দেশটিতে এখন পর্যন্ত করোনা আক্রান্ত হিসাবে শনাক্ত হয়েছে ১ কোটি ৪৪ লাখ ৪৬ হাজার ৫৪১ জন। মৃত্যু হয়েছে ৩ লাখ ৯৫ হাজার ৩২৪ জনের। এছাড়া শনাক্তের তালিকায় চতুর্থ স্থানে ফ্রান্স, পঞ্চম স্থানে রাশিয়া, ষষ্ঠ স্থানে তুরস্ক, সপ্তম স্থানে যুক্তরাজ্য, অষ্টম স্থানে ইতালি, নবম স্থানে স্পেন এবং দশম স্থানে রয়েছে জার্মানি।

সংক্রমণ ও মৃত্যুর তালিকায় বাংলাদেশের অবস্থান ৩৩তম। দেশে এখন পর্যন্ত ৭ লাখ ৫১ হাজার ৬৫৯ জন করোনা রোগী শনাক্ত হয়েছে। মৃত্যু হয়েছে ১১ হাজার ২২৮ জনের।

বাংলাদেশে করোনা ভ্যাকসিন উৎপাদনে রাশিয়া ও চীনকে অনুমোদন

 

ঢাকা: রাশিয়া ও চীনের প্রযুক্তি কিনে বাংলাদেশে করোনা ভাইরাসের ভ্যাকসিন উৎপাদনে নীতিগত অনুমোদন দিয়েছে অর্থনৈতিক বিষয়ক সংক্রান্ত মন্ত্রিসভা কমিটি।

বুধবার (২৮ এপ্রিল) অর্থমন্ত্রী আ হ ম মুস্তফা কামালের সভাপতিত্বে অর্থনৈতিক বিষয়ক সংক্রান্ত মন্ত্রিসভা কমিটির ভার্চ্যুয়াল বৈঠকে এ সংক্রান্ত প্রস্তাবের অনুমোদন দেওয়া হয়।
বৈঠকে কমিটির সদস্য, মন্ত্রিপরিষদ বিভাগের সিনিয়র সচিব, সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয়ের সচিব ও ঊর্ধ্বতন কর্মর্তারা উপস্থিত ছিলেন। বৈঠক শেষে অনুমোদিত প্রস্তাবগুলোর বিভিন্ন দিক তুলে ধরেন অর্থমন্ত্রী ও মন্ত্রিপরিষদ বিভাগের অতিরিক্ত সচিব ড. শাহিদা আক্তার।

বৈঠক শেষে মন্ত্রিপরিষদ বিভাগের অতিরিক্ত সচিব ড. শাহিদা আক্তার বলেন, আজ অর্থনৈতিক বিষয়ক সংক্রান্ত কমিটির বৈঠকে মোট তিনটি প্রস্তাব উত্থাপিত হয়। কিন্তু জরুরি প্রয়োজনে টেবিলে উত্থাপিত হয় একটি প্রস্তাব।

সেটি রাশিয়ার ‘স্পুতনিক’ ও চীনের ‘সিনোফার্ম’ থেকে সরাসরি ক্রয় পদ্ধতি অনুসরণ করে বাংলাদেশে ভ্যাকসিন উৎপাদনের প্রস্তাব। প্রস্তাবটি নীতিগত অনুমোদন দেওয়া হয়েছে। রাশিয়ার স্পুতনিক ও চীনের সিনোফার্ম- এ দু’টি নাম জানা গেছে। বাংলাদেশের কোনো কোম্পানির নাম আলোচনায় উঠে আসেনি। বৈঠকে বাংলাদেশের কয়েকটি কোম্পানি সক্ষম সেটা জানানো হয়েছে।

তিনি বলেন, বাংলাদেশে করোনা ভ্যাকসিন উৎপানের বিষয় নিয়ে রাশিয়া এবং চীনের সঙ্গে আলোচনা হয়েছে। এ বিষয়ে কতো টাকা যুক্ত তা ক্রয় কমিটিতে প্রস্তাব যখন আসবে তখন জানা যাবে। এখন শুধু নীতিগত অনুমোদন দেওয়া হয়েছে।

রাশিয়া ও চীনের দু’টি প্রতিষ্ঠান বাংলাদেশের কোম্পানিগুলোর কাছে স্যাম্পল এনে ভ্যাকসিন উৎপাদন করবে- বিষয়টি এরকম কিনা জানতে চাইলে তিনি বলেন, আমাদের যে কারিগরি ও পরামর্শক কমিটি রয়েছে তাদের সঙ্গে বিস্তারিত আলোচনা হয়েছে এবং আমাদের নীতিনির্ধারকরা রয়েছেন তারাও আলোচনা করেছে। তারপরই এ বিষয়ে সম্মতি দেওয়া হয়েছে। খুব শিগগিরই দ্রুততার সঙ্গে কার্যক্রম শুরু হবে। বাংলাদেশ ও চীন দু’পক্ষই এটি উৎপাদনে একমত হয়েছে। যত দ্রুত সম্ভব বাংলাদেশে উৎপাদন হবে।

এ বিষয়ে অর্থমন্ত্রী আ হ ম মুস্তফা কামাল বলেন, হেলথ মিনিস্ট্রি সম্পর্কে আপনারা ভালো জানেন। হেলথ মিনিস্ট্রি আস্তে আস্তে ইম্প্রুভ হচ্ছে, এটা আমাদের সবাইকে স্বীকার করতে হবে। আজ দু’টি প্রস্তাব ছিল, একটি হলো ভ্যাকসিন কেনা। ভ্যাকসিন আমাদের বিকল্প সোর্স থেকেও চেষ্টা করতে হবে। তার মানে এই নয় আমাদের প্রথম যে সোর্স সেটি বাতিল হয়ে গেছে। তবে বিকল্প হিসেবে আমাদের মাথায় সব সময় রাখতে হবে। তাই বিকল্প হিসেবে আমরা রাশিয়ার ভ্যাকসিন ‘স্পুতনিক-ভি’ ও চীনের ভ্যাকসিনের জন্য দু’টি দেশের সংশ্লিষ্ট সংস্থা যারা আছে তাদের সঙ্গে আলোচনা চলছে এ বিষয়ে ব্যবস্থা নেওয়ার জন্য।

বৈঠকে অনুমোদিত অন্য প্রস্তাবগুলো হলো- বাংলাদেশে কোভিড-১৯ মহামারির ভয়াবহ দ্বিতীয় ঢেউ মোকাবিলায় স্বাস্থ্যসেবা বিভাগের অধীন সেন্ট্রাল মেডিক্যাল স্টোরস ডিপো (সিএমএসডি)-এর মাধ্যমে আরটি-পিসিআর টেস্ট কিট এবং পিসিআর ল্যাব কনজ্যুমেবলস সরাসরি ক্রয় পদ্ধতিতে বেসরকারি প্রতিষ্ঠান থেকে ক্রয়ের নীতিগত অনুমোদন দেওয়া হয়েছে।

বাংলাদেশে কোভিড-১৯ মহামারির ভয়াবহ দ্বিতীয় ঢেউ মোকাবিলায় স্বাস্থ্যসেবা বিভাগের অধীন সেন্ট্রাল মেডিক্যাল স্টোরস ডিপো (সিএমএসডি)-এর মাধ্যমে স্বাস্থ্য সুরক্ষাসামগ্রী ও চিকিৎসা সরঞ্জাম সরাসরি ক্রয় পদ্ধতিতে বেসরকারি প্রতিষ্ঠান থেকে ক্রয়ের নীতিগত অনুমোদন দেওয়া হয়েছে।

এছাড়া মাধ্যমিক ও উচ্চ শিক্ষা বিভাগের অধীন ‘বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান মেরিটাইম ইউনিভার্সিটি, বাংলাদেশের স্থায়ী ক্যাম্পাস প্রতিষ্ঠা’ প্রকল্পের অতিরিক্ত মাটি ভরাটসহ হল/বাসভবন/প্রশাসনিক ভবন, অন্য অবকাঠামো ও রাস্তাঘাট ইত্যাদি নির্মাণ কাজের ৩৬টি অঙ্গের ক্রয় কাজ সরাসরি ক্রয় পদ্ধতিতে ক্রয়ের নীতিগত অনুমোদন দেওয়া হয়েছে।