সর্বশেষ সংবাদ অপরাধীদের দিন শেষঃ তৈরী হচ্ছে জাতীয় ডিএনএ ডাটাবেজ’ গণভবন থেকে ভার্চুয়াল মাধ্যমে বহু প্রতিক্ষীত রেলসেতুর নির্মাণকাজের উদ্বোধন করলেন প্রধানমন্ত্রী করোনাযোদ্ধাদের কোয়ারেন্টিন’ ভাতা পাওয়া শুরু গোমস্তাপুরে সাবেক ছাত্র নেতা সুমনের ওপর হামলার প্রতিবাদে মানববন্ধন চাঁপাইনবাবগঞ্জ সীমান্তে ২ বাংলাদেশীকে ধরে নিয়ে গেছে বিএসএফ অন্যের ট্রাক থেকে তেল চুরি করতে গিয়ে আটক ৪ বঙ্গবন্ধুর ভার্স্কয নিয়ে কটুক্তির প্রতিবাদে চাঁপাইনবাবগঞ্জে স্বেচ্ছাসেবকলীগের মানববন্ধন পদ্মা সেতুতে বসল ৩৯তম স্প্যান ঃ আর বসবে মাত্র দুটি স্প্যান র‌্যাংকিংয়ে সুখবর বয়ে আনল বাংলাদেশ ফুটবল দল তিন ব্যাংক তালিকাভুক্ত হচ্ছে শেয়ারবাজারে

মন্দিরে মুসলিম যুবককে চুুম্বন

বিনোদন ডেস্ক

মন্দিরের মধ্যেই গভীর চুম্বনে লিপ্ত হিন্দু তরুণী ও এক মুসলিম যুবক। লাভ জেহাদের আবহে ওটিটি প্ল্যাটফর্ম নেটফ্লিক্সের একটি ওয়েব সিরিজে এমনই দৃশ্য দেখানো হয়েছে। যার জেরে নেটিজেনদের তীব্র রোষের মুখে পড়েছে নেটফ্লিক্স কর্তৃপক্ষ। এমন কি, এই ওটিটি প্ল্যাটফর্ম বয়কটেরও ডাক দিয়েছে তারা। ইতোমধ্যে মধ্যপ্রদেশের রেওয়া থানায় অভিযোগ দায়ের করেছেন এক বিজেপি নেতা।

মীরা নায়ার পরিচালিত ‘এ সুইটেবল বয়’ ওয়েব সিরিজটি নেটফ্লিক্সে সম্প্রচারিত হচ্ছে। এই ওয়েব সিরিজটি লাভ জেহাদকে সমর্থন করছে বলে অভিযোগ উঠেছে। উল্লেখ্য, সম্প্রতি লাভ জেহাদ ছড়ানোর অভিযোগে গয়না বিপণি তানিশকে বয়কটের ডাক দিয়েছিল নেটিজেনদের একাংশ। শেষপর্যন্ত বিজ্ঞাপনটি সরিয়ে ফেলতে হয়।

বিক্রম শেঠের এক উপন্যাসকে পর্দায় ফুটিয়ে তুলেছেন পরিচালক মীরা নায়ার। গল্পটি সদ্য স্বাধীন হওয়া ভারতের সামাজিক-পারিবারিক-রাজনৈতিক ঘটনাবলি অবলম্বনে তৈরি। গল্পের নায়িকা লতা মেহরা পারিবারিক দায়িত্ব ও প্রেমের সম্পর্কের জাঁতাকলে আটকে পড়েছেন। কলেজের মুসলিম বন্ধুর প্রেমে পড়েন তিনি।তারপরই মন্দির চত্বরে প্রেমিককে চুমুর দৃশ্য। আর ঠিক এই দৃশ্য নিয়েই প্রশ্ন তুলেছেন নেটিজেনরা।

একদল নেটিজেন দাবি করছেন, শিল্পের স্বাধীনতা রয়েছে। তাই তারা এই দৃশ্য দেখাতেই পারে। তাদের উদ্দেশে নেটিজেনদের একাংশের পালটা প্রশ্ন, এই স্বাধীনতা কেন মসজিদে দেখানো হল না? মসজিদে মুসলিম মেয়ে হিন্দু ছেলেকে চুম্বন করছে, কেন এই দৃশ্য দেখানো হল না?

এই প্রশ্ন তুলেছেন মধ্যপ্রদেশের বিজেপি নেতা গৌরব তিওয়ারিও। টুইটারে তিনি লিখেছেন, “সুইটেবল বয়-এর একটি পর্বে তিনবার ওই মন্দিরে চুম্বনের দৃশ্য দেখানো হয়েছে। কেন এটা হবে?” তিনি নেটফ্লিক্স অ্যাপও আনইনস্টল করে দিয়েছেন বলে জানিয়েছেন।

নেটিজেনদের অভিযোগ, ভারতীয় সংস্কৃতির পরিপন্থী দৃশ্য এই ওয়েব সিরিজে তুলে ধরা হয়েছে। যদিও এ বিষয়ে নেটফ্লিক্স কর্তৃপক্ষ বা পরিচালকের তরফে কোনও প্রতিক্রিয়া মেলেনি। তবে রোববার দিনভর টুইটারে ট্রেন্ডিং রইল

এলিভেটেড এক্সপ্রেসওয়ের নির্মাণকাজ শুরু হচ্ছে জানুয়ারীর মধ্যেই


ঢাকা-আশুলিয়া এলিভেটেড এক্সপ্রেসওয়ের নির্মাণকাজ শুরু হচ্ছে জানুয়ারীর মধ্যেই। জি-টু-জি ভিত্তিতে বিশাল এ প্রকল্প বাস্তবায়ন করবে বাংলাদেশ ও চীন সরকার। ১৬ হাজার ৯০১ কোটি ৩২ লাখ টাকার প্রকল্পে চীনের অর্থায়ন হচ্ছে প্রায় ১১ হাজার কোটি টাকা। বাংলাদেশ অর্থায়ন করবে প্রায় ছয় হাজার কোটি টাকা। দীর্ঘদিন অপেক্ষার পর অবশেষে চলতি মাসেই চীনের সাথে ঋণচুক্তি সম্পন্ন হবে বলে জানিয়েছেন সেতু বিভাগের সচিব মোহাম্মদ বেলায়েত হোসেন। গতকাল ইনকিলাবকে তিনি বলেন, সব প্রস্তুতি শেষ। এখন ঋণচুক্তি হলেই আমরা কাজ শুরু করতে পারবো। জানুয়ারীর মধ্যেই কাজ শুরু হবে বলে তিনি আশা প্রকাশ করেন। এ এক্সপ্রেসওয়ের নির্মাণের কাজ শেষ হলে এটিই হবে বাংলাদেশের সবচেয়ে দীর্ঘ এক্সপ্রেসওয়ে।

বিশাল এ প্রকল্পের অধীনে ঢাকার বিমানবন্দর থেকে আবদুল্লাহপুর-ধউর-বড় আশুলিয়া-জিরাবো-বাইপাইল হয়ে ঢাকা ইপিজেড পর্যন্ত নির্মাণ করা হবে ২৪ কিলোমিটার এলিভেটেড এক্সপ্রেসওয়ে। এই এক্সপ্রেসওয়ের নিচের সড়কটিকে সার্ভিস লেনসহ উন্নীত করা হবে চার লেনে। প্রকল্প বাস্তবায়নে নকশা রিভিউ এবং নির্মাণকাজ তদারকির জন্য পরামর্শক প্রতিষ্ঠান নিয়োগে ইতোমধ্যে চুক্তি স্বাক্ষরিত হয়েছে বাংলাদেশ সেতু কর্তৃপক্ষ এবং পরামর্শক প্রতিষ্ঠান স্পেনের টেকনিকা ওয়াই প্রয়োকটস ও বাংলাদেশি কোম্পানি ডিওএইচডব্লিউএ অ্যান্ড ডিডিসির মধ্যে।

এ প্রকল্পটি শেষ হওয়ার টার্গেট নির্ধারণ করা হয়েছে ২০২২ সালের ডিসেম্বরে। এটি বাস্তবায়িত হলে দেশের উত্তর-পশ্চিমাঞ্চলের ২৫টি জেলা এবং দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চলের ৫টি জেলার মানুষ খুব সহজে ও দ্রুততার সঙ্গে ঢাকায় প্রবেশ করতে পারবে। নিরসন হবে এই অঞ্চলের বিভিন্ন সড়কের যানজট। সব মিলিয়ে প্রায় চার কোটি মানুষ এ প্রকল্পের সুবিধাভোগী হবেন। প্রকল্পতি বাস্তবায়িত হলে সাভার ইপিজেড-এ বিদেশি বিনিয়োগ বাড়বে। নতুন কর্মসংস্থানের সুযোগ সৃষ্টি হবে। গতি ফিরবে অর্থনীতিতে। রাজধানী ও আশপাশ এলাকার যানজট কমাতে প্রায় দুই বছর আগে ঢাকা-আশুলিয়া এলিভেটেড এক্সপ্রেসওয়ে নির্মাণ প্রকল্পের অনুমোদন দেয় জাতীয় অর্থনৈতিক পরিষদের নির্বাহী কমিটি (একনেক)। ২৪ কিলোমিটার দীর্ঘ এলিভেটেড এক্সপ্রেসওয়ে নির্মাণ হবে চীনের অর্থায়নে। প্রকল্পটি বাস্তবায়নে মোট খরচ হবে ১৬ হাজার ৯০১ কোটি টাকা। এর মধ্যে চীনের এক্সিম ব্যাংক ঋণ দেবে ১০ হাজার ৯৫০ কোটি টাকা। বাকি টাকা রাষ্ট্রীয় কোষাগার থেকে দেওয়া হবে। সরাসরি দরপত্র প্রক্রিয়ার (ডিটিএম) মাধ্যমে চীনের ন্যাশনাল মেশিনারি ইমপোর্ট এ্যান্ড এক্সপোর্ট করপোরেশন (সিএমসি) প্রকল্পটি বাস্তবায়ন, পরিচালনা ও রক্ষণাবেক্ষণ করবে। ২০২২ সালে এলিভেটেড এক্সপ্রেসওয়ের নির্মাণকাজ শেষ করার প্রতিশ্রুতি দিয়েছে সেতু বিভাগ। তবে সম্প্রসারিত অংশ শেষ করতে আরও দুই বছর লাগতে পারে বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা।

অর্থনৈতিক সম্পর্ক বিভাগ (ইআরডি) সূত্র জানায়, ২০১৯ সালে প্রকল্পের আওতায় ঋণ চুক্তির বিষয়ে সর্বাত্ত্ব প্রচেষ্টা চালানো হয়েছিল। কিন্তু শেষ পর্যায়ে ওই অর্থবছরে ঋণ চুক্তি হয়নি। এখন ইআরডি ও চায়না এক্সিম ব্যাংকের মধ্যে ঋণচুক্তির বিষয়ে আলোচনা প্রায় চূড়ান্ত পর্যায়ে। চায়না এক্সিম ব্যাংক বিষয়টি মূল্যায়ন করেছে। সড়ক পরিবহন ও সেতু মন্ত্রণালয়ের অধীন সেতু বিভাগের সচিব মোহাম্মদ বেলায়েত হোসেন গতকাল ইনকিলাবকে বলেন, সব কিছুই ফলপ্রসূ হয়েছে। চলতি মাসেই চীনের সাথে ঋণচুক্তি হবে। আশা করছি জানুয়ারীর মধ্যেই কাজ শুরু করতে পারবো। তিনি বলেন, আমাদের সব কিছুই প্রস্তুত রয়েছে। সে জন্য আর দেরি হওয়ার কোনো শঙ্কা নেই।

এ বিষয়ে অর্থনৈতিক সম্পর্ক বিভাগের (ইআরডি) যুগ্মসচিব ও এশীয়া উইংয়ের প্রধান মো. শাহরিয়ার কাদের ছিদ্দিকী বলেন, ঢাকা-আশুলিয়া এলিভেটেড এক্সপ্রেসওয়ে নির্মাণ প্রকল্পটি অনেক গুরুত্বপূর্ণ। ঢাকার যানজট নিরসনে বিরাট অবদান রাখবে প্রকল্পটি। গত অর্থবছরেই (২০১৯) এ প্রকল্পটির আওতায় ঋণ চুক্তির কথা ছিল। কিন্তু শেষ পর্যন্ত চূড়ান্তভাবে ঋণচুক্তি হয়নি। তারা (চীন) নানা ধরনের তথ্য উপাত্ত নিয়েছে। এখন ঋণচুক্তি সই হবে।

জানা গেছে, ঢাকা-আশুলিয়া এলিভেটেড এক্সপ্রেসওয়ে প্রকল্পটি সংযুক্ত করবে ঢাকা এলিভেটেড এক্সপ্রেসওয়েকে। বিমানবন্দরের উল্টোদিকের ঢাকা এলিভেটেডের স্টার্টিং পয়েন্ট (কাওলা) থেকে আশুলিয়া এলিভেটেড এক্সপ্রেসওয়ের নির্মাণ কাজ শুরু হবে। কাওলার থেকে রেললাইনের ওপর দিয়ে আবদুল্লাহপুর-বাইপাইল-আশুলিয়া হয়ে সাভার ইপিজেডে গিয়ে শেষ হবে এ প্রকল্প। সাভার ইপিজেড থেকে যে কেউ আশুলিয়া এলিভেটেডে উঠে কাওলা এসে ঢাকা এলিভেটেড হয়ে কুতুবখালী পর্যন্ত গিয়ে ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড়কে যুক্ত হতে পারবেন। এছাড়া চলাচলকারীরা এর মধ্যে নির্দিষ্ট স্থানের র‌্যাম্প ব্যবহার করে সাভার, আশুলিয়া, পূবাইল, আবদুল্লাপুর বা ঢাকা এলিভেটেডের (কাওলা-কুতুবখালী) নির্ধারিত র‌্যাম্প ব্যবহার করে শহরের বিভিন্ন স্থানে ওঠানামা করতে পারবেন।

এ মেগা প্রকল্প বাস্তবায়িত হলে সাভার, আশুলিয়া, নবীনগর ও সাভার ইপিজেড এলাকার যানজট নিরসন এবং যোগাযোগ ব্যবস্থার উন্নয়ন হবে। একইসঙ্গে ঢাকা-আশুলিয়া এলিভেটেড এক্সপ্রেসওয়ে প্রকল্পটি নির্মাণাধীন ঢাকা এলিভেটেড এক্সপ্রেসওয়ের সঙ্গে সংযুক্ত হওয়ায় সাভার ইপিজেড সংলগ্ন শিল্পাঞ্চল, ঢাকা চিটাগাং হাইওয়ের সঙ্গে দ্রুতগতিতে চলাচল করা যাবে। উন্নত ও দ্রুতগতির যোগাযোগের কারণে সাভার শিল্পাঞ্চলে নতুন নতুন বিনিয়োগ আকৃষ্ট হবে। এতে উল্লেখযোগ্য সংখ্যক কর্মসংস্থানের সৃষ্টি হবে এবং স্থানীয় জনগণের আর্থ-সামাজিক অবস্থানের উন্নতি হবে। এ প্রসঙ্গে ঢাকা-আশুলিয়া এলিভেটেড এক্সপ্রেসওয়ের প্রকল্প পরিচালক প্রকৌশলী মো. শাহাবুদ্দিন খান বলেন, প্রকল্পের ডিপিপি অনুমোদন হয়েছে। ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান ও সহ-ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান নির্বাচন সম্পন্ন হয়েছে। এখন চায়না এক্সিম ব্যাংকের সঙ্গে ঋণচুক্তি হলেই প্রকল্পের মূল কার্যক্রম শুরু করা হবে।

২১ জেলায় মাদক পরীক্ষা কেন্দ্র হচ্ছে


সরকারি চাকরিপ্রার্থীদের মাদক পরীক্ষা নিশ্চিত করতে উদ্যোগ নিয়েছে সরকার। তা বাস্তবায়নে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় ২১ জেলায় ২৩টি পরীক্ষাকেন্দ্র বসাবে মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদফতর। পরীক্ষার ফলাফল অনুযায়ী চাকরি পাওয়ার বিষয়টি নির্ভর করবে। এ জন্য অধিদফতর একটি প্রকল্প নিয়েছে। ব্যয় ধরা হয়েছে ৬৩ কোটি টাকা। মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদফতরের প্রকল্পটি এখন পরিকল্পনা কমিশনে যাচাই-বাছাই করা হচ্ছে। শিগগিরই তা জাতীয় অর্থনৈতিক পরিষদের নির্বাহী কমিটির (একনেক) সভায় চ‚ড়ান্ত অনুমোদনের জন্য পাঠানো হবে। প্রকল্পটি ২০২২ সালের ডিসেম্বরের মধ্যে বাস্তবায়নের কথা বলা হয়েছে। এর ব্যয় বহন করবে সরকার।
সরকারি চাকরিতে নিয়োগের আগে প্রার্থীদের মাদক পরীক্ষা বা ডোপ টেস্ট বাধ্যতামূলক করতে ২০১৮ সালের মে মাসে জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়কে চিঠি দেয় স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়। বলা হয়, দেশে মাদকাসক্ত ব্যক্তির সংখ্যা প্রায় ৭০ লাখ। উচ্চ শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের বিপুলসংখ্যক ছাত্রছাত্রী মাদকাসক্ত হয়ে পড়েছেন। পেশাজীবীদের মধ্যেও মাদক ব্যবহারকারীর সংখ্যা বাড়ছে। চাকরিপ্রার্থীদের মাদক পরীক্ষা বাধ্যতামূলক করলে যুবসমাজের মধ্যে ইতিবাচক প্রভাব পড়তে পারে। অবশ্য কোনো বিধিমালা না থাকা ও পরীক্ষাকেন্দ্রের অভাবে চাকরিপ্রার্থীদের মাদক পরীক্ষার উদ্যোগ বাস্তবায়ন করা যাচ্ছিল না।
মহাপরিচালক (ডিজি) অতিরিক্ত সচিব মুহাম্মদ আহসানুল জব্বার ফোনে বলেন, মাদক পরীক্ষাকেন্দ্রের পাশাপাশি বিধিমালাও করা হচ্ছে। খসড়া বিধিমালা আইন মন্ত্রণালয়ে ভেটিংয়ের জন্য পাঠানো হয়েছে। প্রস্তাবিত বিধিমালা অনুযায়ী সরকারি, আধা সরকারি ও স্বায়ত্তশাসিত সংস্থায় চাকরিতে চূড়ান্তভাবে বিবেচিত হওয়ার পর প্রার্থীকে মাদক পরীক্ষার জন্য পাঠানো হবে। প্রার্থী তার যেখানে সুবিধা হয়, সেই কেন্দ্রে গিয়ে পরীক্ষা দেবেন। পরীক্ষার ফলাফল অনুযায়ী চাকরি পাওয়ার বিষয়টি নির্ভর করবে।
পরিকল্পনা কমিশনে গত ২৭ সেপ্টেম্বর প্রকল্পটির একটি মূল্যায়ন সভা অনুষ্ঠিত হয়। কার্যবিবরণী অনুযায়ী, সভায় মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদফতরের প্রতিনিধিকে প্রশ্ন করা হয় যে শুধু সরকারি চাকরিতে ডোপ টেস্ট বাধ্যতামূলক করা হবে কি-না। জবাবে প্রতিনিধি বলেন, বেসরকারি চাকরি ও বিদেশে জনশক্তি পাঠানোর বিষয়টিও প্রকল্পে বিবেচনা করা হয়েছে।
প্রকল্প প্রস্তাবে বলা হয়েছে, ২৩টি মাদক পরীক্ষাকেন্দ্রে ৭৬ জন জনবল নিয়োগ দেয়া হবে। মাদকের পরীক্ষার বিষয়ে অভিজ্ঞতা অর্জনে ২৩ কর্মকর্তা ভারত ও সিঙ্গাপুর সফরে যাবেন।
মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদফতর থেকে পাওয়া তথ্য অনুযায়ী, প্রাথমিকভাবে ঢাকা, চট্টগ্রাম, ফরিদপুর, ময়মনসিংহ, টাঙ্গাইল, দিনাজপুর, রংপুর, রাজশাহী, পাবনা, সিলেট, কুমিল্লা, বরিশাল, পটুয়াখালী, যশোর, কুষ্টিয়া, খুলনা, বগুড়া, রাঙামাটি, নোয়াখালী, কিশোরগঞ্জ ও ভোলায় পরীক্ষাগার বসানো হবে। ঢাকা জেলায় বসবে মোট তিনটি পরীক্ষাকেন্দ্র। পরে দেশের সব জেলায় মাদক পরীক্ষাকেন্দ্র বসানোর পরিকল্পনা রয়েছে অধিদফতরের।
পরিকল্পনা কমিশনের সদস্য আবুল কালাম আজাদ জানান, মাদকের লাগাম টেনে ধরতে সরকারি চাকরিপ্রার্থীদের পরীক্ষা ও পরীক্ষাকেন্দ্র বসানোর উদ্যোগ অবশ্যই ভালো। তবে পরীক্ষার নামে যাতে চাকরিপ্রার্থীরা হয়রানি না হন, সেদিকে নজর দিতে হবে। এর অপব্যবহার রোধেও সরকারকে ব্যবস্থা নিতে হবে।
মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদফতরের উপপরিচালক মঞ্জুরুল ইসলাম জানান, মাদক পরীক্ষা করার সময় ফি নির্ধারণ করা হবে কি-না, তা এখনো চূড়ান্ত হয়নি। অবশ্য পরীক্ষায় ফি না বসানোর পক্ষে বলছেন মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদফতরের কর্মকর্তারা। তারা আরও জানিয়েছেন, বেসরকারি প্রতিষ্ঠানগুলো সরকারি পরীক্ষাকেন্দ্র থেকে ফি দিয়ে চাকরিপ্রার্থীদের মাদক পরীক্ষা করিয়ে নিতে পারবে। প্রকল্পের পক্ষে যুক্তি তুলে ধরে মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদফতরের কর্মকর্তারা বলছেন, সরকারি চাকরিতে মাদক পরীক্ষা বাধ্যতামূলক করা হলে শিক্ষার্থীরা মাদক থেকে দূরে থাকবে।

পাঁচ দশকে ১০৫ ধানের জাত উদ্ভাবন করেছে ব্রি


দেশে এখন আর খাদ্যের অভাব নেই। দেশ থেকে খাদ্যাভাব দূর করতে জোরালো ভূমিকা রাখছে কৃষি মন্ত্রণালয়ের অধীন বাংলাদেশ ধান গবেষণা ইনস্টিটিউট (ব্রি)। এই গবেষণা প্রতিষ্ঠানটির চলতি বছরে অক্টোবরে ৫০ বছর পূর্তি হয়েছে। আগামী ডিসেম্বরে ব্রি ৫০ বছর হিসেবে সুবর্ণ জয়ন্তী উদ্বোধন করবেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। ব্রি গত পাঁচ দশকে ১০৫টি ধানের জাত উদ্ভাবন করে অবদান রাখছে খাদ্য নিরাপত্তায়। ফলে দেশে, এখন ভাতের কোন অভাব নেই। এক সময়ের খাদ্য ঘাটতির দেশ এখন খাদ্য উদ্বৃত্তের দেশে পরিণত হয়েছে। তবে জনবল নিয়ে ধুকছে প্রতিষ্ঠানটি। শুরু হওয়া জনবল নিয়েই পরিচালিত হচ্ছে ৫০ বছর ধরেই। তাই কৃষি সংশ্লিষ্টরা মনে করছেন জলবায়ুর পরিবর্তনের চ্যালেঞ্জ মোকাবেলা ও টেকসই খাদ্য নিরাপত্তা নিশ্চিতে প্রয়োজন ব্রির সক্ষমতা বৃদ্ধি করার কথা।

একাধিক তথ্যে জানা গেছে, একটা সময় এ দেশে অভাব ছিল সীমাহীন, জনসংখ্যার বিপরীতে খাদ্য উৎপাদন ছিল অপ্রতুল। এমনকি স্বাধীনতার প্রথম দশকেও অবস্থার তেমন উন্নতি হয়নি। ১৯৭০-৭১ সালে দেশের সাত কোটি বার লক্ষ জনসংখ্যার বিপরীতে চাল উৎপাদনের পরিমাণ ছিল এক কোটি ১০ লক্ষ মেট্রিক টন মাত্র। কিন্তু ২০১৯-২০ সালে এসে প্রায় ১৭ কোটি জনসংখ্যার বিপরীতে খাদ্য উৎপাদন হয়েছে তিন কোটি ৮৭ লক্ষ মেট্রিক টন। অথচ আবাদি জমির পরিমাণ প্রতিবছর কমছে। ব্রি’র গবেষণালব্ধ জাত ও প্রযুক্তির ব্যবহার করার ফলেই দুর্ভিক্ষ এদেশ থেকে চিরতরে বিদায় নিয়েছে বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা। জানা গেছে, গত কয়েকদশকে কৃষি খাতে যে রূপান্তর ঘটেছে তার নেতৃত্বে ছিল ব্রি। পাঁচ দশকে শতাধিকের ধানের জাত উদ্ভাবন করে অবদান রেখে চলেছে খাদ্যনিরাপত্তায়। তবে ব্রি’র জনবল কাঠামোতে ধুকছে বলেও জানা গেছে। ব্রি’র যাত্রালগ্ন থেকে সর্বমোট ৬৭৩ জন জনবল (যার মাত্র ২৪৯ জন গবেষক) দ্বারা এখন পর্যন্ত গবেষণা কার্যক্রম পরিচালিত হয়ে আসছে।

এদিকে, ব্রির এই ৫০ বছর অনুষ্ঠানটি স্বরণীয় করে রাখতে উদ্যোগ নেয়া হয়েছে। ইতোমধ্যেই প্রধানমন্ত্রী অনুষ্ঠানের উদ্বোধন করবেন বলে সম্মতি দিয়েছেন। যা ডিসেম্বরে হওয়ার কথা রয়েছে। তবে এখনও তারিখ ঠিক করা হয়নি। ব্রি’র কার্যক্রম নিয়ে সন্তুষ্টি প্রকাশ করে কৃষিমন্ত্রী ড. আব্দুর রাজ্জাক জনকণ্ঠকে বলেন, ব্রিকে আরও শক্তিশালী করা হবে। আমরা ধীরে ধীরে এগুচ্ছি। উৎপাদনশীলতা না বাড়ালে খাদ্য নিরাপত্তা নিশ্চিত করা যাবে না। আর এক্ষেত্রে ব্রি ভাল কাজ করছে। আমরাও ব্রি নিয়ে কাজ করছি। সামনে জনবলসহ আরও অনান্য কার্যক্রম শক্তিশালী হবে।

কৃষি মন্ত্রণালয়ের দিক নির্দেশনায় ব্রি বর্তমান মহাপরিচালক ড. মোঃ শাজাহান কবীর দক্ষ হাতে এই প্রতিষ্ঠানকে সামনে এগিয়ে নিয়ে যাচ্ছেন। শাজাহান কবীর বলেন, জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের স্বপ্ন ছিল ক্ষুধা ও দারিদ্র্যমুক্ত স্বপ্নের সোনার বাংলা প্রতিষ্ঠা করা। সোনার এই দেশকে বঙ্গবন্ধুর সোনালী ফসলে ভরপুর দেখতে চেয়েছিলেন। তাই স্বাধীনতা অর্জনের পর প্রথমেই গুরুত্ব দিয়েছিলেন কৃষির ওপর। উপলব্ধি করেছিলেন, দেশের মানুষকে বাঁচাতে হলে খাদ্যে উৎপাদন বাড়ানোর বিকল্প নেই। সে কারণেই স্বাধীনতার পর তিনি ডাক দিয়েছেন সবুুজ বিপ্লবের। দেশে ধান গবেষণার গুরুত্ব অনুধাবন করে বঙ্গবন্ধু ১৯৭৩ সালে আইন পাসের মাধ্যমে ধান গবেষণা ইনস্টিটিউট এর প্রতিষ্ঠানিক রূপ দেন এবং শুরু হয় ধানের ওপর নিয়মতান্ত্রিক গবেষণা। কিন্তু দুর্ভাগ্যজনকভাবে ১৯৭৫ সালে বঙ্গবন্ধুকে হত্যার পর তাঁর ঘোষিত ‘সবুজ বিপ্লব’ কর্মসূচীও থমকে যায়। তবে ১৯৯৬ সালে বঙ্গবন্ধুকন্যা শেখ হাসিনা সরকারে এলে বঙ্গবন্ধুর সবুজ বিপ্লবের ধারণা নতুন করে প্রাণ ফিরে পায়। ব্রি মহাপরিচালক আরও বলেন, ২০০৯ সালে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা যখন দ্বিতীয় মেয়াদে সরকার গঠন করেন তখন দেশে খাদ্য ঘাটতি ছিল ২৬ লক্ষ মেট্রিক টন। ব্রি কর্তৃক উচ্চ ফলনশীল ধানের জাত ও আনুষঙ্গিক লাগসই চাষাবাদ প্রযুক্তি উদ্ভাবন এবং কৃষক পর্যায়ে এসব প্রযুক্তি প্রয়োগের ফলে ২০১৩ সালে এসে দেশ শুধু খাদ্যে স্বয়ংসম্পূর্ণতাই অর্জন করেনি, খাদ্য উদ্বৃত্তের দেশে পরিণত হয়। এখন দেশের চাহিদা মিটিয়ে উদ্বৃত্ত চাল বিদেশেও রফতানি করা হচ্ছে।

কৃষি কর্মকর্তা ও কৃষি সংশ্লিষ্টদের মতে, দেশের প্রয়োজন মিটিয়ে এখন কিছু চাল বিদেশেও রফতানি করা যাচ্ছে। বিপুল জনসংখ্যার এই দেশে খাদ্য উৎপাদনে আমাদের এই সাফল্য বহির্বিশে^র কাছে এক মিরাকেল ঘটনা মনে হলেও খাদ্য উৎপাদনে এই অসামান্য অর্জন সম্ভব হয়েছে ব্রি উচ্চ ফলনশীল ধানের জাত ও আনুষঙ্গিক লাগসই চাষাবাদ প্রযুক্তি উদ্ভাবন এবং কৃষক পর্যায়ে এসব প্রযুক্তি প্রয়োগের ফলে। ব্রি থেকে জানা গেছে, বাংলাদেশ ধান গবেষণা ইনস্টিটিউট প্রতিষ্ঠালগ্ন ১৯৭০ সাল হতে এ পর্যন্ত ৯৮টি উচ্চফলনশীল এবং ৭টি হাইব্রিড ধানের জাতসহ মোট ১০৫টি ধানের জাত ও ধান চাষের দু’শতাধিক আধুনিক প্রযুক্তি উদ্ভাবন করেছে। প্রতিকূল পরিবেশ সহনশীল ও পুষ্টিগুণ বিচারে ব্রি উদ্ভাবিত ৯৮টি ইনব্রিড জাতের মধ্যে ১২টি লবণ সহনশীল, ৩টি জলমগ্নতা সহিষ্ণু, ২টি ঠাণ্ডা সহিষ্ণু, ৭টি খরা সহনশীল, ১টি খরা প্রতিরোধকারী, ৫টি জিঙ্ক সমৃদ্ধ এবং সুগন্ধি ও রফতানি উপযোগী ৯টি ধানের জাত রয়েছে। বর্তমানে আবাদকৃত ধানের শতকরা প্রায় ৮০ ভাগ জমিতে ব্রি উদ্ভাবিত ধানের জাতসমূহের আবাদ করা হচ্ছে এবং এ থেকে পাওয়া যাচ্ছে দেশের মোট ধান উৎপাদনের প্রায় ৯১ ভাগ। ব্রি দেশের খাদ্য ও পুষ্টি চাহিদা পূরণের জন্য প্রিমিয়াম কোয়ালিটি রাইস (সুগন্ধি চাল), বায়োফর্টিফাইড রাইস (পুষ্টিগুণ সমৃদ্ধ চাল), গোল্ডেন রাইস (বিটা ক্যারোটিন সমৃদ্ধ চাল) উদ্ভাবন করেছে। তাছাড়া ব্রি ইতোমধ্যে বোরো মৌসুমের জন্য প্রিমিয়াম কোয়ালিটির জাত ব্রি ধান ৫০ উদ্ভাবন করছে যা সর্বসাধারণের কাছে এই চাল গ্রহণযোগ্যতা পেয়েছে, এমনকি এই চাল রফতানির মাধ্যমে প্রচুর বৈদেশিক মুদ্রা অর্জন করা সম্ভব। ব্রি বিজ্ঞানীরা জনকণ্ঠকে বলেন, এসডিজি কে সামনে রেখে ব্রি বিজ্ঞানীরা ইতোমধ্যে ৫টি জিঙ্ক সমৃদ্ধ জাত উদ্ভাবন করেছে, পাশাপাশি অন্যান্য পুষ্টি উপাদান যেমন- প্রোটিন, আয়রন, এন্টি-অক্সিডেন্ট, গাবা ও বিটা ক্যারোটিন সমৃদ্ধ জাতসহ বিভিন্ন পুষ্টিকর ধান উদ্ভাবন করেছে।

বিশ্বব্যাংক-আইএমএফের অন্যায্য দাবি অগ্রাহ্য করেন বঙ্গবন্ধু`


স্বাধীনতার পর ত্রাণ ও ঋণ সহায়তা নিয়ে আসা বিশ্ব ব্যাংক, আইএমএফ ও ইউএসএইডের বিভিন্ন ‘অন্যায় অন্যায্য’ দাবি এবং চাপিয়ে দেওয়া সিদ্ধান্ত দেশের স্বার্থের বিরুদ্ধে গেলে বঙ্গবন্ধু তা দৃঢ়তার সঙ্গে অগ্রাহ্য করেন। পাশাপাশি যুদ্ধবিধ্বস্ত বাংলাদেশ পুনর্গঠনের এবং ফিরে আসা লাখ লাখ শরণার্থীর বন্দোবস্তে বঙ্গবন্ধু অনেকগুলো নীতি গ্রহণ করেন। এছাড়াও বিভিন্ন চ্যালেঞ্জের মুখে পড়তে হয়েছিল তাকে। স্বাধীন বাংলাদেশ পুনর্গঠনে বঙ্গবন্ধুর পরিকল্পনা নিয়ে শুক্রবার রাতে আয়োজিত এক ওয়েবিনারে বক্তারা বঙ্গবন্ধুর এসব বিষয় তুলে ধরেন।

ওয়েবিনারে অংশ নিয়ে প্রধানমন্ত্রীর অর্থনৈতিক উপদেষ্টা মসিউর রহমান, কলম্বিয়া বিশ্ববিদ্যালয়ের ভিজিটিং স্কলার গবেষক রওনক জাহান, জ্যেষ্ঠ সাংবাদিক ও কলামনিস্ট সৈয়দ বদরুল আহসান এবং তরুণ লেখক ও গবেষক হাসান মোরশেদ এসব বিষয় তুলে ধরেন। আওয়ামী লীগের অর্থ ও পরিকল্পনা উপকমিটি আয়োজিত ওয়েবিনারের এই পর্ব সঞ্চালনা করেন দলটির অর্থ ও পরিকল্পনা বিষয়ক সম্পাদক ওয়াসিকা আয়েশা খান।

স্বাধীনতা উত্তর বাংলাদেশ পুনর্গঠনে বঙ্গবন্ধুর অবদান নিয়ে আরও বেশি মানসম্মত গবেষণায় মন দিতে তরুণ প্রজন্মের প্রতি আহ্বন জানান রওনক জাহান।

স্বাধীনতা উত্তর বাংলাদেশে তরুণ সরকারি কর্মকর্তা হিসাবে বিভিন্ন মন্ত্রণালয়ে দায়িত্ব পালন করা মসিউর রহমান সেই সময়ের স্মৃতিচারণ করে বলেন, “স্বাধীনতার পরপরই এবং বঙ্গবন্ধু ফিরে আসার আগেই ভারত সরকার সিভিল অ্যাডমিনিস্ট্রেশন লিঁয়াজো অফিসার্স (সিএএলও) নামে আমাদের প্রশাসনকে সহায়তা করার জন্য কিছু সরকারি কর্মকর্তা দিয়েছিল। ইন্ডিয়ান প্ল্যানিং কমিশনের মেম্বার সুখময় চক্রবর্তী বিষয়টি সমন্বয় করতেন। তারা যখন দেখলেন নতুন দেশের পক্ষে কাজ করার মতো প্রশাসনে পর্যাপ্ত লোকবল রয়েছে তখন এখান থেকে তাদের উঠিয়ে নেওয়া হল।

‘এছাড়া এখানে শান্তি-শৃংখলা রক্ষার জন্য কিছু দিন পর্যন্ত ইন্ডিয়ান সৈন্যবাহিনীর কিছু অংশ ছিল। বঙ্গবন্ধুর একান্ত প্রত্যয় বা সাহসের বলে ভারতের প্রধানমন্ত্রী ইন্দিরা গান্ধীকে অনুরোধ করে সেনাবাহিনীকে ফিরে যেতে বাধ্য করেন।’

স্বাধীনতার পর ত্রাণ ও ঋণ সহায়তা নিয়ে আসা বিশ্ব ব্যাংক, আইএমএফ ও ইউএসএইডের বিভিন্ন ‘অন্যায় অন্যায্য’ দাবি চাপানোর বিষয়ে মসিউর রহমান বলেন, ‘রিলিফ ব্যবস্থাপনা ছিল একটা জটিল কাজ। বঙ্গবন্ধুকে এই কাজ দিয়েই রাষ্ট্রের অর্থনৈতিক কাজে হাত দিতে হয়েছিল। বিশ্ব ব্যাংক থেকে পাকিস্তানের নেওয়া ঋণদায় অন্যায়ভাবে বাংলাদেশর ওপর চাপিয়ে দেওয়ার চেষ্টা করে ব্যাংকটির কর্মকর্তারা। ‍তখন বঙ্গবন্ধু বলেছিলেন, আমার আবেদনে লাখ লাখ বাঙালি প্রাণ দিয়েছে। এখন আবার যদি আবেদন করি তারা না খেয়ে থাকবে। তবুও তোমাদের অন্যায় আবদার মেনে নেওয়া হবে না।’

পরে বিশ্ব ব্যাংকের কিছু ন্যায় সঙ্গত ঋণদায়ের প্রস্তাব বঙ্গবন্ধু মেনে নিয়েছিলেন বলেও জানান তিনি। ভূমি ও সম্পদ ব্যবস্থাপনা নিয়ে চীন ও রাশিয়ার অভিজ্ঞতা বিশ্লেষণ করে বঙ্গবন্ধু সমবায় ও কো-অপারেটিভ পদ্ধতি চালু করেন বলে জানান তৎকালীন প্রশাসনের এই কর্মকর্তা।

‌’বিভিন্ন ঋণ ও অর্থ সহায়তা পাওয়ার ক্ষেত্রে ডিভ্যালুয়েশনের প্রস্তাব দেয় আইএমএফ। বঙ্গবন্ধু তখন বাধ্য হয়ে ওই প্রস্তাব মেনে নিয়েছিলেন। তবে তিনি নিজের তীক্ষ্ণ বুদ্ধি দিয়ে সেখানে একটি শর্ত জুড়ে দেন। তাহল যখন নতুন ফসল বাজারে আসে তখনই ডিভ্যালুয়েশন বাস্তবায়ন করতে হবে, এর আগে নয়। তার আশা ছিল, তখন পণ্যের দাম নিম্নমুখী থাকে। ফলে বাজারে এর প্রভাব তুলনামূলক কম পড়বে।’

শিল্প কারখানা জাতীয়করণের যৌক্তিকতা তুলে ধরে মসিউর রহমান বলেন, ‘সেই সময় রপ্তানির ৭০ ভাগ আসত জুটমিল থেকে। বেশিরভাগ মিলের মালিক ছিল অবাঙালি। জুটমিলগুলো ছিল এর অংশ। মূলত জাতীয়করণটা ছিল স্বাধীনতা আন্দোলনেরই একটি অংশ। কারণ যাদের কাছ থেকে স্বাধীনতা আনছি তারাই ছিল এগুলোর মালিক।’

রওনক জাহান বলেন, স্বাধীনতা উত্তর বাংলাদেশে ভঙ্গুর অবকাঠামো উন্নয়নের পাশাপাশি বঙ্গবন্ধুকে অর্থনীতি পুনরুদ্ধারের কাজেও হাত দিতে হয়েছিল। স্বাধীনতার আগে বড় বড় শিল্প-কারখানাগুলো সব ছিল পাকিস্তানিদের দখলে। তখন ফরেন রিজার্ভ বলতে কিছুই ছিল না। প্রশাসনে যেসব লোকজন ছিল তারা বয়সে তরুণ ছিল।

‘বাংলাদেশই প্রথম একটা স্বাধীন দেশ যে পোস্ট কলোনিয়াল স্টেট সিস্টেমকে ভেঙে নতুন দেশ হয়েছে। সেই সময় এটা ছিল একটা ইউনিক ব্যাপার। এখন সভিয়েত ইউনিয়ন ভেঙে বিভিন্ন রাষ্ট্র হয়ে যাওয়ার পর স্বাধীন রাষ্ট্রের জন্মের বিষয়টি হয়ত স্বাভাবিক ঘটনা হয়েছে। তখন শুধু পশ্চিমা বিশ্ব নয়, তৃতীয় বিশ্বের দেশ, ইসলামি দেশগুলোও আমাদের পক্ষে ছিল না। কারণ তারা ভেবেছিল এতে করে নিজেদের দেশেও জাতীয়তাবাদী আন্দোলন দানা বাঁধতে পারে।’

যুক্তরাষ্ট্রের অনড় অবস্থান স্বাধীন বাংলাদেশে ১৯৭৪ সালের দুর্ভিক্ষের অন্যতম কারণ উল্লেখ করে তিনি বলেন, ‘আমেরিকা তখন ছিল বিশ্বের অনেক বড় খাদ্য সহায়তা দানকারী দেশ। ’৭২ সালের দিকে আমেরিকা যুদ্ধবিধ্বস্ত বাংলাদেশকে খাদ্য সহায়তা দিলেও বিপত্তিটা ঘটে ’৭৩ সালে এসে। তখন বাংলাদেশ খাদ্য কিনতে চাইলেও তারা দিতে চাচ্ছিল না। তারা কারণ হিসাবে দেখিয়েছে কিউবায় পাট বিক্রি করার বিষয়টি। সে কারণেই ১৯৭৪ সালে এই দেশে দুর্ভিক্ষটা হয়েছিল।’

বিশ্ব ব্যাংকের আশঙ্কাকে ভুল প্রমাণ করে দেশীয় কর্মীরাই স্বাধীনতার এক বছরের মাথায় প্রথম পঞ্চবার্ষিক পরিকল্পনা করে দিয়েছিলেন জানিয়ে অধ্যাপক রওনক বলেন, ‘দেশ যখন স্বাধীন হলো তখন দেশের নেতৃত্বে তরুণরাই ছিল। মাত্র সাড়ে তিন বছর তিনি ছিলেন। তিনি অনেকগুলো নীতি হাতে নিয়েছিলেন। তারপর যখন দেখেছেন কিছু নীতি কাজ করছে না সেগুলো বাদ দিয়েছেন। তিনি ছিলেন প্রাকটিক্যাল। তিনি নিজেই নিজের কিছু নীতির পরবর্তন আরম্ভ করে দিয়েছিলেন।

নতুন প্রজন্মের গবেষকদের এগুলো ঘেঁটে দেখতে হবে। বঙ্গবন্ধু এবং বাংলাদেশকে নিয়ে গবেষণার কাজে নতুন প্রজন্মকে এগিয়ে আসতে হবে। নির্মোহভাবে, সাহস করে মুক্ত মণ নিয়ে এসব বিষয়ে গবেষণা করতে হবে। আমাদের দেশে এখন পর্যন্ত বঙ্গবন্ধুকে নিয়ে ভালো গবেষণা নেই। তার সবচেয়ে ভালো জীবনীগ্রন্থটি তার নিজের হাতেই লেখা।’

‘বঙ্গবন্ধু দেশের পুনর্গঠনের জন্য এত পরিশ্রম করলেও ’৭৪ সালে দেশ একটি দুর্ভিক্ষের মুখে পড়েছিল। দেশটা যে ঘুরে দাঁড়াচ্ছে সেটা আর কটাদিন বেঁচে থাকলেই তিনি নিজের চোখে দেখতে পেতেন। ঘাতকেরা তাকে দেখতে দিল না।’

তরুণ লেখক ও গবেষক হাসান মোরশেদ বলেন, ‘অনেকটা শূন্য হাতেই যুদ্ধ পরবর্তী বাংলাদেশের অর্থনীতি পুনরুদ্ধারের কাজে হাত দিয়েছিলেন বঙ্গবন্ধু। ত্রাণ ও পুনর্বাসনকে অগ্রাধিকার দিয়েই বঙ্গবন্ধু স্বাধীন বাংলাদেশের অর্থনীতির যাত্রা শুরু করিয়েছিলেন। কারণ যুদ্ধের কারণে বিধ্বস্ত হওয়ার আগেও বাংলাদেশে বড় ধরনের বন্যা হয়েছিল। সেই বন্যার কারণে ১৯৬৯ ও ১৯৭০ সালে কৃষি অর্থনীতির ব্যাপক ক্ষতি হয়েছিল। তখন অভ্যন্তরীণ উৎপাদনের ৬৫ শতাংশ আসত কৃষি থেকে।

‘৭২ সালের জানুয়ারি থেকে জুন পর্যন্ত সময়টা ছিল পুনর্বাসনের সময়। ভারত থেকে ফিরে আসা শরণার্থীদের জন্য তখন ৪৩ লাখ বাসগৃহ নির্মাণ করা হয়েছিল। এছাড়া তাদেরকে খাদ্য সরবরাহ করতে হয়েছিল। তখন তৃণমূল পর্যায়ে রাজনৈতিক কর্মীদের কাজে লাগিয়ে এই ত্রাণ বিতরণ করা হয়েছিল।’

প্রথম ছয় মাস পর অর্থনীতি পুনরুদ্ধার কাজে যুক্ত হয় রিকনস্ট্রাকশন বা পুনঃনির্মাণ; তখন বাজেট ঘোষণা করা হয়। প্রথম বাজেটের নাম ছিল বাজেট ফর রিকনস্ট্রাকশন।

মাত্র এক বছরের মধ্যে ৫৯ মাইল রেললাইন পুনঃনির্মাণ, ৮২টি রেল ব্রিজ মেরামত করা হয়, সড়ক, সড়ক সেতু মেরামত করা হয়। চট্টগ্রাম বন্দর থেকে মাইন অপসারণ করা হয়। প্রচণ্ড রকমের গুরুত্ব দেওয়া হয়েছিল সমবায় পদ্ধতিতে এবং আধুনিক যন্ত্রপাতি যুক্ত করা হয়। ১৯৭২ সালে সমন্বিত পল্লী উন্নয়ন প্রকল্প চালু করেন বঙ্গবন্ধু। সেই প্রকল্পের আওতায় সর্বপ্রথম ক্ষুদ্র ঋণ বিতরণ শুরু হয়। ১৯৭৪ সালে চালু হয় সমবায়ভিত্তিক মিল্ক ভিটা।

জ্যেষ্ঠ সাংবাদিক ও কলামনিস্ট সৈয়দ বদরুল আহসান বলেন, ‘স্বাধীনতার পর পর আমাদের তিন হাজার মণ গম, দুই হাজার মণ বোরো ধান বীজ প্রয়োজন ছিল। ত্রিশ হাজার টন সার দরকার ছিল, ১৫ লাখ টন আলু বীজ দরকার ছিল বলে তখন বিশ্ব ব্যাংক প্রতিবেদন তৈরি করেছে। এতে বোঝা যায় বঙ্গবন্ধু সরকার কী একটা চাপ মাথায় নিয়ে সরকার গঠন করেছে। এই চ্যালেঞ্জগুলো মাথায় নিয়েই প্রথম বছর অতিক্রম করতে হয়েছে।’

১৯৭২ সালের ১০ জানুয়ারি স্বাধীন বাংলাদেশে ফিরে আসেন জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান। ১২ জানুয়ারি স্বাধীন বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রী হিসেবে শপথ গ্রহণ করেন তিনি। যুদ্ধবিধ্বস্ত দেশ পুনর্গঠনে নানামু্খী পরিকল্পনার পাশাপাশি বাংলাদেশের অর্থনৈতিক মুক্তি অর্জনের জন্য সুদূর প্রসারী পরিকল্পনা গ্রহণ করেন, যার সুফল এখনও পাচ্ছে বাংলাদেশ।

অনুষ্ঠানটি বাংলাদেশ আওয়ামী লীগের অফিসিয়াল ফেইসবুক পেইজ ও ইউটিউবে সরাসরি সম্প্রচারিত হয়। এতে সার্বিক সহযোগিতা করেছে দলের গবেষণা উইং সেন্টার ফর রিসার্চ অ্যান্ড ইনফরমেশন (সিআরআই)।

ওয়েবিনারের আয়োজন প্রসঙ্গে আওয়ামী লীগের গবেষণা সংস্থা সেন্টার ফর রিসার্চ অ্যান্ড ইনফরমেশন (সিআরআই)-এর কোঅর্ডিনেটর তন্ময় আহমেদ জানান, বাংলাদেশ আওয়ামী লীগের নিয়মিত কার্যক্রমের অংশ হিসেবে বিভিন্ন উপকমিটি বেশ কিছু গুরুত্বপূর্ণ বিষয়ে ওয়েবিনারে আলোচনা করেছে। আমাদের পরিকল্পনায় রয়েছে মাসে কমপক্ষে দুইদিন এ ধরণের ওয়েবিনার আয়োজনের।

নাচোলে সাংবাদিকের পিতার ইন্তেকাল

নাচোল প্রতিনিধি
চাঁপাইনবাবগঞ্জের নাচোলে সাংবাদিক আশরাফুল ইসলাম এর পিতা ইশাহাক আলী ইন্তেকাল করেছেন (ইন্না…..রাজেউন)। মৃত্যু কালে তার বয়স হয়েছিলো (৮৬) বছর। শনিবার রাত সাড়ে ১১টায় বার্ধক্ক জনিত কারনে নাচোল মাস্টার পাড়ায় নিজ বাসভবনে শেষ নিশ্বাস ত্যাগ করেন। মরহুমের জানাজার নামাজ আজ রবিবার মাঠপাড়ার গোরস্থানের পাশে দুপুর ২.৩০মিনিটে অনুষ্ঠিত হয়েছে। পরে তাকে পারিবারিক গোরস্থানে দাফন করা হয়। তিনি স্ত্রী, ৫ পুত্র ও ৫ কন্যাসহ নাতী নাতনী এবং অসংখ্য গুনগ্রাহী রেখে গেছেন। মরহুমের ছেলে আশরাফুল ইসলাম ঢাকায় “দৈনিক আমাদের সময়” পত্রিকার যুগ্নবার্তা সম্পাদ হিসেবে কর্মরত আছেন। মুরহুমের জানাজায় উপস্থিত থেকে সংক্ষিপ্ত আলোচনা করেন, নাচোল পৌর মেয়র আব্দুর রশিদ খান ঝালু, নাচোল উপজেলা পরিষদের সাবেক চেয়ারম্যান অ্যাড, সিরাজুল ইসলাম, সাবেক সদর ইউপি চেয়ারম্যান এম মজিদুল হক ও মৃতের ছেলে আশরাফুল ইসলাম। পরে চাঁপাইনবাবগঞ্জে’র সাবেক এমপি লতিফুর রহামন জানাজায় অংশ গ্রহন করেন।

চাঁপাইনবাবগঞ্জের রহনপুরে সেফটি ট্যাংকে রডের বদলে বাঁশ!

চাঁপাইনবাবগঞ্জ প্রতিনিধি :

চাঁপাইনবাবগঞ্জের রহনপুর পৌরসভার নবনির্মিত ভবনের সেফটি ট্যাংকের ঢাকনা স্থাপনের সময় রডের বদলে বাঁশের দিয়ে ঢালায় দেয়ার অভিযোগ উঠেছে। রোববার নবনির্মিত ভবনের পূর্ব ও দক্ষিন পাশে তৈরি করা সেফটি ট্যাংকের ঢাকনা টি বসানোর সময় একাজ করে সংশ্লিষ্ট ঠিকাদার।তবে বিষয়টি জানাজানি হয়ে গেলে কাজটি বন্ধ রাখা হয়।

স্থানীয়রা জানায়, সম্প্রতি নির্মিত রহনপুর পৌর ভবনের ব্যবহারের জন্য সেফটি ট্যাংকির উপর ঢাকনা লাগানোর সময় ঢাকনার চারপাশে বাঁশ দেয়া হয়।এরপর ঢাকনাটি স্থাপন করে তা ঢালাই দেয়া আরম্ভ হয়। বিষয়টি পৌর কাউন্সিলর ও কর্মচারীসহ উপস্থিত জনসাধারনের চোখে পড়ে।এসময় সেখানে উপস্থিত জনপ্রতিনিধিরা সেফটি ট্যাংকের ঢাকনা খুলতেই পুরাতন বাঁশের বাতা দেখতে পায়। ঢাকনা লাগাতেই সেখানে বাঁশের বাতা ব্যাবহার করা হয়। এ সময় এ নিয়ে ঝামেলা শুরু হলে কাজটি আটকে দিয়ে মেয়রের কাছে অভিযোগ করা হয়।
এ প্রসঙ্গে রহনপুর পৌর মেয়র তারিক আহমদ জানান,তিনি নিজে ও সংশ্লিষ্ট ঠিকাদারের
অজান্তে মিস্ত্রিরা কাজটি করে থাকতে পারে। তবে বিষয়টির দ্রুত সুরাহা করা হবে।

মুক্তিযুদ্ধের চার দশক পর বধ্য ভূমিতে নির্মিত হচ্ছে স্মৃতিস্তম্ভ।।

মুক্তিযুদ্ধের চার দশক পর বধ্য ভূমিতে “মুজিব বর্ষে”ফেরদৌসী ইসলাম জেসি এম পি,র উদ্যোগে নির্মিত হচ্ছে স্মৃতিস্তম্ভ।। মহান মুক্তিযুদ্ধে নিহত শহীদদের স্মৃতির প্রতি শ্রদ্ধা ও নতুন প্রজন্মের কাছে মুক্তিযুদ্ধের ইতিহাস তুলে ধরতে বধ্যভুমিতে নির্মিত হচ্ছে স্মৃতিস্তম্ভ। চাঁপাইনবাবগঞ্জ শহরের শ্মশান ঘাট সংলগ্ন মহানন্দা নদীর তীরে মহান মুক্তিযুদ্ধে নিহত নাম না জানা শত শত শহীদের বধ্যভূুমিতে স্বাধীনতার দীর্ঘদিন পর তাদের আত্মত্যাগের প্রতি শ্রদ্ধা ও আগামী প্রজন্মের কাছে মুক্তিযুদ্ধের ইতিহাস তুলে ধরতে চাঁপাইনবাবগঞ্জের অবিসংবাদিত নেতা, মুক্তিযুদ্ধের অন্যতম সংগঠক মরহুম ডাঃ আ,আ,ম,মেসবাহুল হক (বাচ্চু ডাঃ) এর সুযোগ্য কন্যা জাতীয় সংসদের সংরক্ষিত মহিলা আসনের মাননীয় সংসদ সদস্য ফেরদৌসী ইসলাম জেসি এম পি র নিজস্ব অর্থায়নে নির্মিত হচ্ছে স্মৃতিস্তম্ভ। এটি নির্মাণ করা প্রসঙ্গে ফেরদৌসী ইসলাম জেসি এম পি বলেন, জাতির শ্রেষ্ঠ সন্তান যারা দেশের স্বাধীনতার জন্য যুদ্ধ করতে গিয়ে পাক-হানাদার ও এদেশীয় রাজাকার আলবদর দের হাতে ৭১ সালে শহীদ হয়েছিলেন, তাদের প্রতি শ্রদ্ধা ও সম্মান জানাতে এবং নতুন প্রজন্মের কাছে মহান মুক্তিযুদ্ধের ইতিহাস তুলে ধরতে আমি এ বধ্যভূমিতে স্মৃতিসৌধ নির্মাণ করার উদ্যোগ গ্রহণ করেছি।স্বাধীনতার এতবছর কেন করা হয়নি এ প্রসঙ্গে তিনি বলেন এ বিতর্কে যেতে চাই না,আজ স্বাধীনতার পক্ষের যে দলের নেতৃত্বে মুক্তিযুদ্ধ করে,স্বাধীনতা ছিনিয়ে এনেছিলাম সেই বাংলাদেশ আওয়ামী লীগ,বঙ্গবন্ধুর সুযোগ্য কন্যা জননেত্রী শেখ হাসিনার নেতৃত্বে রাস্ট্রিয় ক্ষমতায় এবং আমি সেই সংসদের একজন সদস্য,আমার মরহুম পিতা মহান মুক্তিযুদ্ধের একজন অন্যতম সংগঠক ছিলেন,সেই অনুভুতি থেকেই দেশের শ্রেষ্ঠ সন্তানদের সম্মান, শ্রদ্ধা ও নতুন প্রজন্মের কাছে দেশের মুক্তিযুদ্ধের ইতিহাস কে অম্লান করে রাখতে নিজস্ব অর্থায়নে এটি নির্মাণ করার উদ্যোগ গ্রহণ করেছি, আগামী ১৪ ই ডিসেম্বর ২০২০ তাং বিজয়ের মাসে এটির উদ্বোধন করতে পারবো বলে আসাকরছি,এটি নির্মাণে সার্বক্ষণিক সহোযোগিতা করছেন জেলা যুবলীগের নেতা মেসবাহুল জাকের। তিনি সকলের সহোযোগিতা কামনা করেন।

চাঁপাইনবাবগঞ্জের ফেরদৌসী জনগণের তোপের মুখে ৩ ঘন্টা অবরুদ্ধ

চাঁপাইনবাবগঞ্জ প্রতিনিধি:

চাঁপাইনবাবগঞ্জের কানসাট ইউনিয়নে বয়স্ক ভাতা, বিধবা ভাতা, প্রতিবন্ধি ভাতাসহ বিভিন্ন ভাতার কার্ড করে দেওয়ার নাম করে সাধারন অসহায় মানুষের কাছ থেকে লক্ষ লক্ষ টাকা হাতিয়ে নেওয়া মহিলা ইউপি সদস্য ফেরদৌসি ওরফে বুচিয়াকে আটক করে ভুক্তভোগিরা। ২১ নভেম্বর বিকাল থেকে সন্ধ্যা সাড়ে ৭টা পযন্ত বাইঘাতলা হাজি মোড়ে অবরুদ্ধ করে রাখে। পুলিশ খবর পেয়ে তাকে উদ্ধার জনগণের রোষানলের ভিতর থেকে মুক্ত করে তার বোনের জিম্মায় রাখে।
প্রতক্ষ্যদর্শীদের দেয়া তথ্যমতে, চাঁপাইনবাবগঞ্জ জেলার শিবগঞ্জ উপজেলার কানসাট ইউনিয়নের ৭,৮ ও ৯নংওয়ার্ডের মহিলা ইউপি সদস্য ফেরদৌসী মেম্বারনি বয়স্ক ভাতা, প্রতিবন্ধি ভাতাসহ বিভিন্ন ভাতার কার্ড করে দেওয়ার নাম করে সাধারন মানুষকে বোকা বানিয়ে হাতিয়ে নিয়েছে লক্ষ লক্ষ টাকা। আজ হবে কাল হবে এমনিভাবে কালক্ষেপন করতে থাকলে ভূক্তভোগীরা ক্ষিপ্ত হয়ে উঠে। বিষয়টি মিডিয়ার নজরে আসে। তথ্য প্রমানসহকারে ‍উক্ত ইউপি সদস্য’র বিরুদ্ধে অনলাইন, ইলেক্ট্রিক ও প্রিন্ট মিডিয়ায় ব্যাপক প্রচার প্রচারণা হয়। তার অভিযোগের সত্যতার মিললে তাকে গত ১৬ নভেম্বর সাময়িক বহিস্কার করা হয়। বহিস্কারের বিষয়টি এলাকাবাসি ও ভূক্তভোগীরা জানতে পারে। তারা আর কোন ধরনের সুযোগ সুবিধা পাবেনা ভেবে তাকে আটক করে। এক পযায়ে তাকে পাওনা টাকার চাপ দিতে থাকে। পরিবেশ উত্তপ্ত হতে থাকে। এলাকাবাসী ও ভুক্তভোগীরা তাকে প্রায় তিন ঘন্টা অবরুদ্ধ করে রাখে। বিষয়টি শিবগঞ্জ থানা পুলিশে খবর দিতে পুলিশ এসে ফেরদৌসী মেম্বারনিকে তার বোনের জিম্মায় জমা দেন। তার বিরুদ্ধে আইনি প্রক্রিয়ার আশ্বাস থানা প্রতিনিধি এসআই সাজ্জাদ। পরে পরিবেশ শান্ত হলেও তার বিরুদ্ধে বিভিন্ন শ্লোগান দিতে থাকে ভূক্তভোগিরা।