সর্বশেষ সংবাদ নুরকে খোলা চিঠি মাক্স না পড়লে মিলবেনা সরকারী সেবা গোমস্তাপুরে বেতনের অভাবে মানবেতর জীবন যাপন ৪ শতাধিক কে.জি’র শিক্ষকের বিডিপিএ এর চাঁপাইনবাবগঞ্জ জেলা শাখার বিশেষ সভা রোহিঙ্গাদের জন্য জাপানের ৫ মিলিয়ন ডলার উন্নয়নশীল দেশ ২০২৪ ই নতুন গ্যাসক্ষেত্র অনুসন্ধানে ৭টি প্রস্তাব অনুমোদন গোমস্তাপুর অটোর ধাক্কায় শিশুর মৃত্যু bring all drivers under a dope testing system: PM দুর্গাপূজা উপলক্ষে প্রকাশ হয়েছে ‘হরিবোল’

জুয়েলের ‘চিতকার’ শুরু

রাজধানীর উত্তরার একটি শুটিং হাউজে মহরতের মাধ্যমে শুরু হল নতুন সিনেমা ‘চিতকার’ এর শুটিং। আহাদুর রহমানের গল্পে এবং ইয়াসির আরাফাত জুয়েল এর পরিচালনায় চলচ্চিত্রটি নির্মাণ হচ্ছে ক্লিওপেট্রা ফিল্মস-এর ব্যানারে।

সাইকো থ্রিলার ধাঁচের চলচ্চিত্রটির প্রধান চরিত্রে অভিনয় করছেন এ কে আজাদ আদর ও চিত্রনায়িকা আঁচল। সিনেমাটির গানের সঙ্গীত পরিচালনা করেছেন পিন্টু ঘোষ, সিনেমাটোগ্রাফী করছেন রুমন পাইকার এবং লাইন প্রযোজক হিসেবে রয়েছেন ইমদাদুল ইসলাম যিকরান।

নির্মাতা বলেন, ইচ্ছা ছিলো জমকালো অনুষ্টানের মাধ্যমে মহরত করার। কিন্তু করোনা ভাইরাসের কারণে সেটি সম্ভব হয়নি। সব ধরনের স্বাস্থ্যবিধি মেনেই শুটিং করছি। ‘চিতকার’ এ আজাদ এবং আঁচলের চরিত্রটি খুবই ডিফিকাল্ট। প্রায় এক মাস রিহার্সেল করিয়ে চরিত্রের সঙ্গে তাদেরকে মিলিয়েছি। এই সিনেমার মাধ্যমে আশা করছি দর্শকরা নতুন কিছু পাবে।

এ কে আজাদ আদর বলেন, আহাদ ভাই চমৎকার একটি গল্প লিখেছেন। আামার চরিত্রটি খুবই ডেঞ্জারাস। পরিচালক ইয়াসির আরাফাত জুয়েল ভাইয়ের সঙ্গে আগেও কাজ করেছি। তিনি অসাধারণ মেকার। তার নির্দেশনায় আাশা করছি আমি নিজের চরিত্রটি ফুটিয়ে তুলতে পারব। আর সেটা পারলে দর্শকদের জন্য বিশেষ কিছু হবে বলে আমার বিশ্বাস।

আঁচল বলেন, এই সিনেমায় আমার জীবনের চ্যালেঞ্জিং একটি চরিত্র। এ ধরনের গল্পে কখনোই কাজ করিনি। এক কথায় বলতে পারি এখন পর্যন্ত আমার জীবনের সেরা কাজ হতে যাচ্ছে ‘চিতকার’। আমার বিশ্বাস বাংলাদের দর্শকরা নিরাশ হবে না।

‘চিতকার’ চলচ্চিত্রটিতে এ কে আজাদ আদর এবং আঁচল ছাড়াও বিভিন্ন চরিত্রে আরও অভিনয় করছেন শাহেদ আলী, সুম্মিতা সিনহাসহ অনেকে।

কঠোর আইনের পরও গরুর খামারে মানসিক ভারসাম্যহীন নারীকে ধর্ষণ

নরসিংদী প্রতিনিধি

নরসিংদীর মাধবদীতে গরুর খামারে নিয়ে মানসিক ভারসাম্যহীন এক নারীকে (৩২) ধর্ষণের ঘটনা ঘটেছে। বুধবার দুপুরে নরসিংদী সদর হাসপাতালে ওই নারীর ডাক্তারি পরীক্ষা সম্পন্ন হয়েছে। এর আগে মঙ্গলবার বিকালে মাধবদী থানার মেহেরপাড়া ইউনিয়নের কবিরাজপুর গ্রামে এ ধর্ষণের ঘটনা ঘটে।

এ ঘটনায় নির্যাতিতা ওই নারীর ভাবী বাদি হয়ে অভিযুক্ত সোলায়মানকে (৩৫) আসামি করে মামলা দায়ের করেছেন।

অভিযুক্ত সোলায়মান মাধবদী থানার কবিরাজপুর গ্রামের মৃত আব্দুল কাদিরের ছেলে ও ওই গ্রামের একটি গরুর খামারের কর্মচারী।

মাধবদী থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. সৈয়দজ্জামান বলেন, নির্যাতিতা নারী কুড়িগ্রাম জেলার বাসিন্দা। তার ২০১২ সালে বিয়ে হয়েছিলো কিন্তু স্বামীর সাথে বনিবনা না হওয়ায় তাদের ছাড়াছাড়ি হয়ে যায়। তাদের একটি সন্তান রয়েছে। ছাড়াছাড়ি হওয়ার পর থেকেই সে মানসিকভাবে অসুস্থ হয়ে যায়। তার ভাই নরসিংদীর মাধবদীতে একটি ফ্যাক্টরিতে কাজ করে। বোনকে চিকিৎসা করার জন্য মাধবদী নিজের কাছে নিয়ে আসে।

মঙ্গলবার বিকালে মানসিক ভারসাম্যহীন ওই নারীকে বাড়ির পাশের গরুর খামারের একটি ঘরে ডেকে নিয়ে ধর্ষণ করে খামারের কর্মচারী সোলায়মান। এ সময় নির্যাতিতা ওই নারীকে খুঁজতে তার ভাবী গরুর ঘরে গেলে সোলায়মান পালিয়ে যায়।

পরে এ ঘটনায় রাতেই মাধবদী থানায় মামলা দায়ের করা হয়। পুলিশ নির্যাতিতা ওই নারীকে উদ্ধার করে ডাক্তারি পরীক্ষার জন্য নরসিংদী সদর হাসপাতালে পাঠায়। আর অভিযুক্তকে গ্রেপ্তার করতে পুলিশ চেষ্টা করছে।

১৪ মাস পর মুক্তি পেলেন মেহবুবা মুফতি

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

ভারত নিয়ন্ত্রিত কাশ্মীরের সাবেক মুখ্যমন্ত্রী মেহবুবা মুফতি মুক্তি পেয়েছেন। প্রায় এক বছরের বেশি সময় পর তাকে মুক্তি দিয়েছে ভারতের কেন্দ্রীয় সরকার। খবর বিবিসির।

২০১৯ সালে ৫ আগস্ট জম্মু ও কাশ্মীরে ৩৭০ ধারা বাতিলের আগেই আটক করা হয় জম্মু ও কাশ্মীরের সাবেক মুখ্যমন্ত্রী মেহবুবা মুফতিকে। তারপর থেকে টানা ৪৩৬ দিন কেটেছে বন্দিদশায়। জম্মু ও কাশ্মীরে ৩৭০ ধারা রদের পর রাজ্যের অধিকাংশ নেতাই বন্দি হন। তারপর থেকে এখন পর্যন্ত ছাড়া পেয়েছেন ফারুক আবদুল্লাহ ও ওমর আবদুল্লাহ।

মুক্তি পাওয়ার পর নিজের জীবনের কঠিন সময়ের কথা ট্যুইটারে ভিডিও করে শেয়ার করলেন মেহবুবা মুফতি। ভিডিওতে তিনি জম্মু কাশ্মীরের লড়াই চলবে বলে জানান। তাছাড়া যাদের আটকে রাখা হয়েছে তাদেরকেও মুক্তি দেয়ার দাবি জানান।

ভারতীয় সংবিধানের ৩৭০ অনুচ্ছেদ প্রত্যাহারের পর ২০১৯-এর ৫ অগস্টে জম্মু-কাশ্মীরের তিন প্রাক্তন মুখ্যমন্ত্রী ফারুক আবদুল্লা, ওমর আবদুল্লা এবং মেহবুবা মুফতি-সহ কাশ্মীরের বহু রাজনীতিককে আটক করে কেন্দ্র।

উল্লেখ্য, মেহবুবাকে প্রথমে দু’টি সরকারি বাসস্থানে আট মাস গৃহবন্দি করে রাখা হয়। তার পর এ বছরের ফেব্রুয়ারিতে তাকে ফের আটক করা হয় জন নিরাপত্তা আইনে।

পেঁয়াজ সঙ্কট কাটাতে সরকারের বিশেষ কর্মকৌশল

পর পর দুই বছর পেঁয়াজ সঙ্কটে নড়ে চড়ে বসেছে সরকার। আগামী দু’বছরের মধ্যে পেঁয়াজে স্বয়ংসম্পূর্ণ হতে বিশেষ কর্মকৌশল প্রণয়ন করা হয়েছে। আর আমদানি নয় বরং এখন থেকে উৎপাদন বাড়িয়ে প্রয়োজনীয় চাহিদা মিটিয়ে রফতানির লক্ষ্য নির্ধারণ করা হয়েছে। প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ের নির্দেশে তিন মন্ত্রণালয় গ্রহণ করেছে সমন্বিত উদ্যোগ। এই কর্মসূচীর মূল্য লক্ষ্য চাহিদা মতো পেঁয়াজ উৎপাদন। তিন মন্ত্রণালয়ের মধ্যে রয়েছে বাণিজ্য, কৃষি এবং অর্থ মন্ত্রণালয়। বাণিজ্য মন্ত্রনালয় সূত্র জানায়, পেঁয়াজে স্বয়ংসম্পূর্ণ হতে প্রধানমন্ত্রীর বিশেষ নির্দেশে একটি কর্মকৌশল প্রণয়ন করে বাণিজ্য মন্ত্রণালয়। পরে তা কৃষি মন্ত্রণালয়ে পাঠানো হয়। কর্মকৌশল বাস্তবায়নে অর্থের প্রয়োজন হবে। এজন্য এর সঙ্গে অর্থ মন্ত্রণালয়কেও যুক্ত করা হয়। তিন মন্ত্রণালয়ের কর্মকর্তারা বসে একটি সমন্বিত কর্মকৌশল নির্ধারণ করেন। শীঘ্রই তা চূড়ান্ত অনুমোদনের জন্য প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ে পাঠানো হবে। নতুন এই কর্মকৌশলে পেঁয়াজের উৎপাদন বাড়াতে যেসব কৌশল নির্ধারণ করা হয়েছে তার মধ্যে রয়েছে, বীজের সরবরাহ বাড়ানো, চাষাবাদে ভূমির পরিমাণ বৃদ্ধি করা, সংরক্ষণে হিমাগার নির্মাণ, কৃষকের ন্যায্যমূল্য নিশ্চিতে সঠিকভাবে বাজারজাতকরণ ও গ্রীষ্মকালীন উৎপাদনে গবেষণা কার্যক্রম জোরদার করা। পেঁয়াজ উৎপাদনে সমৃদ্ধ চার জেলাকে নিয়ে বিশেষ পরিকল্পনা গ্রহণ করা হয়েছে। বীজ, সার, কীটনাশক কেনায় বিশেষ ভর্তুকি পাবেন কৃষকরা। এছাড়া ব্র্যান্ডিং করতে পেঁয়াজ ঋণ নামে একটি কর্মসূচী চালু করবে কেন্দ্রীয় ব্যাংক। এই কর্মসূচীতে স্থানীয় কৃষি ব্যাংক থেকে কৃষকদের সহজ শর্তে স্বল্প সুদে ঋণ দেবে সরকার।

কর্মকৌশল প্রণয়নে সংশ্লিষ্টরা জানান, আগামী মৌসুম থেকেই যাতে এটি বাস্তবায়ন হতে পারে সে লক্ষ্যে কাজ শুরু করা হয়েছে। কর্মকৌশল নির্ধারণ ও তা বাস্তবায়নের মাধ্যমে পেঁয়াজে স্বয়ংসম্পূর্ণ হওয়া সম্ভব। ইতোমধ্যে গরুর খামার বাড়িয়ে গরু উৎপাদনে সাফল্য পেয়েছে বাংলাদেশ। এখন আর ভারত থেকে গরু আমদানি করতে হয় না। একইভাবে সুযোগ-সুবিধা ও কৃষকের ন্যায্যদাম নিশ্চিত করে পেঁয়াজ উৎপাদন বাড়ানো সম্ভব। শুধু সরকারীভাবে নীতিগত সহায়তা বাড়াতে হবে। পেঁয়াজ আমদানিতে প্রতিবছর ব্যয় করতে হচ্ছে বাংলাদেশী মুদ্রায় প্রায় ২ হাজার কোটি টাকা। অথচ আমদানি ব্যয়ের অর্ধেক টাকা দেশে উৎপাদন বৃদ্ধিতে খরচ করলে পেঁয়াজের সঙ্কট মিটিয়ে আরও রফতানি করা যাবে।

বাণিজ্য সচিব ড. মোঃ জাফর উদ্দীন বলেন, আগামী দু’বছরের মধ্যে পেঁয়াজে স্বয়ংসম্পূর্ণ হওয়ার লক্ষ্যে কাজ শুরু করা হয়েছে। বাণিজ্য মন্ত্রণালয় থেকে একটি কর্মকৌশল প্রণয়ন করা হয়েছে। মূল মিনিস্ট্রি হিসেবে বাণিজ্য মন্ত্রণালয় কাজ করলেও এতে কৃষি ও অর্থ মন্ত্রণালয় সম্পৃক্ত রয়েছে। তিনি বলেন, পেঁয়াজ কৃষিপণ্য, ওই হিসেবে এটির উৎপাদন বাড়াতে মূল কাজটি করবে কৃষি মন্ত্রণালয়। প্রতিবছর নিত্যপণ্যের বাজারে এটি যেভাবে আলোচিত সমালোচিত হয় তাতে বাণিজ্য মন্ত্রণালয়ের কিছু করণীয় রয়েছে। আর এ কারণেই পেঁয়াজের উৎপাদন বাড়িয়ে স্বয়ংসম্পূর্ণ হওয়ার কর্মকৌশল তৈরি করার উদ্যোগ নেয় বাণিজ্য মন্ত্রণালয়। তিনি আরও বলেন, পেঁয়াজের উৎপাদন, ঘাটতি এবং বাজারজাতকরণে কি সমস্যা রয়েছে তা চিহ্নিত করা হয়েছে। এখন সমাধানের পালা। আগামী মৌসুম থেকে আশা করছি পেঁয়াজের উৎপাদন বাড়বে।

প্রসঙ্গত, ভারত রফতানি বন্ধ ঘোষণার পর থেকেই অস্থির হয়ে উঠে পেঁয়াজের বাজার। বর্তমান বাজারে প্রতিকেজি দেশী পেঁয়াজ ৯০-১০০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে। আর আমদানি করা পেঁয়াজ তেমন নেই বললেই চলে। পেঁয়াজে ভর করছে গত বছরের আতঙ্ক। গত বছর এই সময় দেশে প্রতিকেজি পেঁয়াজ বিক্রি হয় ৩০০ টাকায়। এবারও বাজার পরিস্থিতি সামাল দিতে ভারতের বিকল্প বাজার হিসেবে তুরস্ক ও মিসর, নেদারল্যান্ডসসহ বিশ্বের ১১ দেশ থেকে পেঁয়াজ আমদানির অনুমতি দেয় সরকার। কিন্তু এরপরও বাজার স্বাভাবিক হয়নি। আর এ কারণে পেঁয়াজ সঙ্কটের একটি স্থায়ী সমাধানের কথা বলছেন বিশেষজ্ঞরা। তাদের মতে, বাংলাদেশে পেঁয়াজের মোট চাহিদার প্রায় ৫৭ শতাংশ দেশে উৎপাদিত হয়। বাকিটা বিদেশ থেকে, প্রধানত ভারত থেকে আমদানি করতে হয়। এ কারণে পেঁয়াজের ব্যাপারে ভারত কোন সিদ্ধান্ত নিলে তার প্রভাব পড়ে বাংলাদেশের বাজারে। এছাড়া মিয়ানমার, মিসর, তুরস্ক, চীন থেকেও বাংলাদেশে অল্প কিছু পেঁয়াজ আমদানি হয়ে থাকে।

বাংলাদেশ কৃষি সম্প্রসারণ অধিদফতরের তথ্যমতে, সারাবছরে পেঁয়াজের চাহিদা রয়েছে ৩০ লাখ টনের মতো। চলতি ২০২০ সালের সালের মার্চ মাসে পেঁয়াজ উৎপাদন হয়েছে ২৫ লাখ ৫৭ হাজার টন। তবে এই উৎপাদন থেকে গড়ে ২৫-৩০ শতাংশ নষ্ট হয়ে যায়। ফলে দেশে মোট পেঁয়াজের উৎপাদন দাঁড়ায় ১৮ থেকে ১৯ লাখ টনে। অথচ দেশের বাকি চাহিদা পূরণ করতে প্রায় ১১ লাখ টন পেঁয়াজ আমদানি করতে হয়। আনা সহজ ও পরিবহন খরচ কম হওয়ায় বাংলাদেশ ভারতের পেঁয়াজের উপর নির্ভরশীল। সংশ্লিষ্টদের মতে, বাংলাদেশের চাহিদার পুরোটা পূরণ করতে হলে দেশে অন্তত ৩৫ লাখ টন পেঁয়াজের উৎপাদন করতে হবে। তাহলে যেটুকু নষ্ট হবে, তা বাদ দিয়ে বাকি পেঁয়াজ দিয়ে দেশের পুরো চাহিদা পূরণ সম্ভব হবে।

বাংলাদেশে মসলা জাতীয় ফসলের গবেষণা জোরদারকরণ প্রকল্পের পরিচালক ড. শৈলেন্দ্রনাথ মজুমদার সম্প্রতি এ সংক্রান্ত একটি আলোচনায় জানান, পেঁয়াজ উৎপাদনে স্বয়ংসম্পূর্ণ হওয়া আমাদের পক্ষে সম্ভব। কৃষকদেরও আগ্রহ আছে। কিন্তু কিছু সমস্যা আছে। পেঁয়াজ উৎপাদনে স্বয়ংসম্পূর্ণ হতে হলে এই সমস্যাগুলোর সমাধান আগে করতে হবে। তিনি জানান, সময়মতো বীজের সরবরাহ বাড়ানো, উৎপাদনে ভূমির ব্যবহার বৃদ্ধি এবং পেঁয়াজ সংরক্ষণের মতো উদ্যোগ নিতে হবে।

প্রয়োজনীয় বীজ সরবরাহ করা হবে ॥ পেঁয়াজ চাষে সবচেয়ে বড় সমস্যা সময়মতো বীজ না পাওয়া। এ লক্ষ্যে প্রয়োজনীয় বীজ সরবরাহ বাড়ানোর উদ্যোগ নেয়া হবে। দেশে প্রতিবছর মোট ১১০০ টন পেঁয়াজ বীজের দরকার হয়। সরকারীভাবে পাঁচ-ছয় টন, বেসরকারীভাবে ৫০-৬০ টন পেঁয়াজ বীজ উৎপাদিত হয়। বাকিটা কৃষকরা উৎপাদন করেন। পেঁয়াজ উৎপাদন বাড়াতে হলে এই বীজের উৎপাদন এবং সংরক্ষণও বাড়াতে হবে। এক কেজি পেঁয়াজের বীজে দুই বিঘা জমিতে পেঁয়াজ চাষ করা হয়। একেক বিঘায় গড়ে ৪০ মণ দেশী পেঁয়াজ উৎপাদিত হয়। গত বছর এক কেজি পেঁয়াজের বীজের দাম আড়াই হাজার টাকা, অর্থাৎ এক মণ পেঁয়াজের দাম এক লাখ টাকায় বিক্রি হয়েছে। কিন্তু এই বছর দুই লাখ টাকা দিয়েও এক মণ পেঁয়াজের বীজ পাওয়া যাচ্ছে না। এর প্রভাব পড়ার আশঙ্কা রয়েছে সামনের বছরের উৎপাদনে। বাণিজ্য সচিব বলেন, কর্মকৌশলে সবচেয়ে বেশি জোর দেয়া হয়েছে বীজের সরবরাহে। আশা করছি, সময়মতো কৃষকের হাতে পেঁয়াজের বীজ দেয়া যাবে।

চাষাবাদে ভূমির ব্যবহার বাড়ানো হবে ॥ দেশের ফরিদরপুর, রাজবাড়ী, মানিকগঞ্জ ও পাবনা জেলায় পেঁয়াজ সবচেয়ে বেশি উৎপাদন হয়। আর এ কারণে এই চার জেলাকে নিয়ে বিশেষ উদ্যোগ থাকবে। এর পাশাপাশি চরাঞ্চল ও উত্তরবঙ্গের রংপুরে পেঁয়াজ চাষে কৃষকদের উদ্বুদ্ধ করা হবে। দেশে ২ লাখ ৩৭ হাজার হেক্টর জমিতে পেঁয়াজের চাষ হচ্ছে।

বাংলাদেশ কৃষি গবেষণা ইনস্টিটিউট, গাজীপুরের প্রধান বৈজ্ঞানিক কর্মকর্তা ড. রুম্মান আরা সম্প্রতি বলেন, পেঁয়াজের দামটা যাতে সহনীয় থাকে, সেজন্য দেশে একটা নীতিমালা থাকা দরকার, যাতে কৃষক এই ফসল উৎপাদন করে হতাশ হয়ে না পড়েন। এছাড়া বাংলাদেশে শুধুমাত্র পেঁয়াজ সংরক্ষণের জন্য কোন কোল্ড স্টোরেজ নেই। কিন্তু সারাবছরের চাহিদা মেটানোর মতে পেঁয়াজ উৎপাদিত করতে হলে সেটা সংরক্ষণের ব্যবস্থা রাখতে হবে। বর্তমানে কৃষকরা নিজেদের বাড়িতে দেশীয় পদ্ধতিতে সংরক্ষণ করে থাকেন। কিন্তু তাতে পেঁয়াজ নষ্ট হওয়ার হারটা বেশি হয়। পেঁয়াজের জন্য ১২ থেকে ২০ ডিগ্রী সেন্টিগ্রেডের তাপমাত্রা দরকার। আর্দ্রতা থাকতে হবে ৩৫ থেকে ৪৫ এর মধ্যে। ফরিদপুর, পাবনা, রাজবাড়ীর মতো যেসব স্থানে পেঁয়াজের আবাদ বেশি হয়, সেখানে এ রকম অনেকগুলো কোল্ড স্টোরেজ থাকলে কৃষকরা পেঁয়াজটা সংরক্ষণ করে রাখতে পারতেন। ফলে তারা বেশি করে উৎপাদন করতেন।

এছাড়া বাংলাদেশের কৃষি গবেষণা ইনস্টিটিউটের মসলা গবেষণা কেন্দ্র বর্তমানে পেঁয়াজের ছয়টি জাত অবমুক্ত করেছে। তার মধ্যে তিনটি জাত গ্রীষ্মকালীন পেঁয়াজের জাত। সেগুলোর ভেতর বারি-৫ এর ওপর গবেষণাকারীরা সবচেয়ে বেশি জোর দিচ্ছেন। মার্চ মাসে রোপণ করে জুন-জুলাই মাসে অথবা আগস্ট মাসে রোপণ করে নবেম্বর-ডিসেম্বর মাসে এসব পেঁয়াজের ফসল পাওয়া যায়। ড. রুম্মান আরা আরও বলেছেন, এসব গ্রীষ্মকালীন পেঁয়াজ চাষাবাদ করলে সেটা চাহিদা বড় একটি অংশ যোগান দিতে পারে। কারণ এসব ফসল যখন উঠবে, তখন পেঁয়াজের দামও বেশি থাকে। ফলে কৃষকও লাভবান হবেন। আবার সারাবছর ধরেই দেশে পেঁয়াজের উৎপাদন, যোগান অব্যাহত থাকবে।

এদিকে কৃষিমন্ত্রী ড. আব্দুর রাজ্জাক বলেছেন, ক্ষুদ্র ও মাঝারি কৃষকদের জন্য ৫ হাজার কোটি টাকার বিশেষ প্রণোদনা প্যাকেজ ঘোষণা করেছেন প্রধানমন্ত্রী। যারা পোল্ট্রি, কৃষি ফার্ম, ফলমূল ও মসলা জাতীয় খাদ্যপণ্য উৎপাদন করবেন তারা এই তহবিল থেকে সহজ শর্তে মাত্র চার শতাংশ সুদে ঋণ সুবিধা পাবেন। এ ছাড়াও নয় শতাংশ সুদের জায়গায় মাত্র চার শতাংশ সুদে কৃষকদের ঋণ বিতরণের জন্য বাংলাদেশ ব্যাংক ১৪ হাজার ৫০০ কোটি টাকার বিশেষ ঋণ প্রণোদনা দেবে। বিশেষ প্রণোদনা ছাড়াও বাজেটে কৃষকের স্বার্থে সারসহ সেচ কাজে বিদ্যুত বিলের রিবেট বাবদ কৃষি খাতে ৯ হাজার ৫০০ কোটি টাকার ভর্তুকি কার্যক্রম বাস্তবায়ন করা হচ্ছে। বাজেটে সারের জন্য ৯ হাজার ৫০০ কোটি টাকা ভর্তুকি, বীজের জন্য ১৫০ কোটি টাকা এবং কৃষকের জন্য আরও ১০০ কোটি টাকা বরাদ্দ রাখা হয়েছে। সেই সঙ্গে পেঁয়াজ, রসুন ও আদার মতো মসলা উৎপাদকদের জন্য চার শতাংশ সুদে ঋণ সুবিধা চালু রয়েছে।

‘পেঁয়াজ ঋণ’ নামে কর্মসূচী ॥ দেশীয় উৎপাদন বাড়াতে ‘পেঁয়াজ ঋণ’ নামে একটি কর্মসূচী চালু করার উদ্যোগ নেয়া হচ্ছে। এই কর্মসূচীর আওতায় স্থানীয় কৃষি ব্যাংক থেকে চাহিদা মতো ঋণ গ্রহণ করতে পারবেন পেঁয়াজ চাষীরা। সহনীয় সুদের এই ঋণের টাকায় পেঁয়াজ চাষী প্রয়োজনীয় সার, বীজ ও কীটনাশক সংগ্রহ করবেন। পেঁয়াজের উৎপাদন বাড়াতে ন্যায্যমূল্য নিশ্চিত করা হবে, যাতে কোন কৃষক না ঠকেন। আগামী মৌসুম থেকেই যাতে দেশীয় পেঁয়াজের উৎপাদন বাড়ে সে লক্ষ্যে দ্রুত এই কর্মসূচীটি বাস্তবায়নের উদ্যোগ নিয়েছে সরকার।

জানা গেছে, পেঁয়াজ ঋণ কর্মসূচীটি বাস্তবায়নের লক্ষ্যে বাণিজ্য মন্ত্রণালয় একটি প্রস্তাবনা ও গাইড লাইন তৈরি করছে। প্রস্তাবনাটি বাস্তবায়নে কৃষি মন্ত্রণালয় ও অথর্ মন্ত্রণালয়কে বিশেষভাবে অনুরোধ করবে বাণিজ্য মন্ত্রণালয়। এর আগে বাণিজ্য, কৃষি ও অর্থ মন্ত্রণালয়ের মধ্যে ত্রিপক্ষীয় উদ্যোগে একটি সমন্বয় বৈঠক করার সিদ্ধান্ত নেয়া হয়েছে। ওই বৈঠকে অর্থমন্ত্রী আ হ ম মুস্তফা কামাল, বাণিজ্যমন্ত্রী টিপু মুনশি, কৃষিমন্ত্রী ড. আব্দুর রাজ্জাক ও সংশ্লিষ্ট তিন সচিব উপস্থিত থাকবেন। চলতি অক্টোবর মাসে পেঁয়াজ ঋণ নিয়ে প্রস্তাবনাটি বাংলাদেশে ব্যাংকে প্রেরণ করা হবে। পরবর্তীতে এ সংক্রান্ত একটি সার্কুলার আসবে কেন্দ্রীয় ব্যাংক থেকে।

এ প্রসঙ্গে বাণিজ্য সচিব ড. মোঃ জাফর উদ্দীন আরও বলেন, বৃহত্তর স্বার্থে পেঁয়াজের আমদানি নির্ভরতা কমানো প্রয়োজন। পেঁয়াজের কেন ঘাটতি হয় কোথায় কোথায় সমস্যা রয়েছে তা বেশভালে স্পষ্ট হয়েছে। এরমধ্যে সবচেয়ে বেশি প্রয়োজন কৃষকদের উৎসাহিত করা। তিনি বলেন, পাবনা ও বৃহত্তর ফরিদপুরসহ দেশের মোট ৮ জেলায় পেঁয়াজের চাষ হয়ে থাকে। এরমধ্যে বৃহত্তর রংপুর জেলার পেঁয়াজ চাষীদের উদ্বুদ্ধ করা গেলে ভাল ফল আসবে। দেশে পেঁয়াজের উৎপাদন বাড়ানো সম্ভব। যে পরিমাণ পেঁয়াজ আমদানি হয়, তা উৎপাদন বাড়িয়ে চাহিদা মেটানা হবে। এজন্য কৃষকদের ভাল দাম নিশ্চিত করা প্রয়োজন। তিনি বলেন, কৃষকদের সহজশর্তে শুধু পেঁয়াজের উপর ঋণ দেয়ার একটি কর্মসূচী আনা হচ্ছে। এ ব্যাপারে একটি পূর্ণাঙ্গ গাইড লাইন ও প্রস্তাবনা করা হচ্ছে। আগামী মৌসুম শুরুর আগে সরকারী উদ্যোগগুলো বাস্তবায়ন করা হবে।

জানা গেছে, দেশে প্রতিদিন গড়ে সাড়ে ৭ থেকে ৮ হাজার টন পেঁয়াজের চাহিদা রয়েছে। ওই হিসেবে বছরে প্রায় ২৪-২৫ লাখ টন পেঁয়াজের প্রয়োজন হয়। কিন্তু দেশীয় উৎপাদনের ৩০ শতাংশ নষ্ট হয়। ফলে ১০ থেকে ১১ লাখ টন পেঁয়াজ আমদানি হয় বড় উৎস প্রতিবেশী রাষ্ট্র ভারত থেকে। এ বছর ভারতে উৎপাদন ব্যাহত হওয়ার কারণে দেশটি রফতানি কার্যক্রম বন্ধ করে দিয়েছে। এর ফলে একলাফে দ্বিগুণ হয়ে যায় পেঁয়াজের দাম। এ কারণে পেঁয়াজের দাম দ্রুত কমাতে জরুরী ভিত্তিতে তুরস্ক থেকে ১ লাখ টন পেঁয়াজ আমদানির সিদ্ধান্ত নেয়া হয়েছে। এছাড়া জি টু জি বৈঠকের পর মিয়ানমার থেকে ফের পেঁয়াজ আমদানি কার্যক্রম শুরু হয়েছে। চট্টগ্রাম বন্দরের মাধ্যমে এই পেঁয়াজ জাহাজে করে দেশে আনবেন বেসরকারী খাতের আমদানিকারকরা। ইতোমধ্যে মিয়ানমারের পেঁয়াজ এসে গেছে। করোনার কারণে দীর্ঘদিন মিয়ানমার থেকে পেঁয়াজসহ অন্যান্য পণ্য আমদানি বন্ধ রাখা হয়। কিন্তু মিয়ানমারে বাংলাদেশ দূতাবাসের কমার্শিয়াল কাউন্সিলর ও দেশটির শিল্প-বাণিজ্য মন্ত্রণালয়ের উদ্যোগে বড় পাঁচ উদ্যোক্তা বাংলাদেশে পেঁয়াজ রফতানিতে আগ্রহ প্রকাশ করেছেন।

বছরে ২ হাজার কোটি টাকার পেঁয়াজ আমদানি ॥ বাংলাদেশ ব্যাংকের হিসাব অনুযায়ী, ২০১৮-১৯ অর্থবছরে পেঁয়াজ আমদানিতে ব্যয় হয় ১ হাজার ৭৮২ কোটি টাকা। চলতি ২০২০-২১ অর্থবছরে পেঁয়াজ আমদানির পরিমাণ আরও বাড়বে। কারণ প্রতিবছর দেশে চাহিদা বাড়ছে। এ কারণে বাড়ছে আমদানিও। শুল্ক স্টেশনের তথ্য অনুযায়ী, গেল অর্থবছরে পেঁয়াজ আমদানিতে ব্যয় হয়েছে ১ হাজার ৯৩৭ কোটি টাকা। আমদানি ব্যয়ের মতো খুচরা পর্যায়েও ক্রেতাকে খরচ করতে হয়েছে আরও বেশি। গত বছরের ২৯ সেপ্টেম্বর থেকে গত মার্চের মাঝামাঝি পর্যন্ত ভারত থেকে পেঁয়াজ রফতানি বন্ধ ছিল। এ সময় দেশে প্রতিকেজি সর্বোচ্চ ২৫০ টাকায় পেঁয়াজ বিক্রি হয়। ক্রেতার পকেট কাটা গেলেও সঙ্কটের সময়জুড়ে দেশে উৎপাদিত পেঁয়াজ বেঁচে ভাল দাম পেয়েছেন কৃষক। ফলনও বেড়েছে। ভারতের বিকল্প আমদানির নতুন নতুন বাজারও তৈরি হয়েছে। এ প্রসঙ্গে বিআইডিএসে’র সিনিয়র গবেষক ড. নাজনীন আহমেদ বলেন, সঙ্কট থেকে শিক্ষণীয় অনেক কিছুই আছে। দেশে উৎপাদিত পেঁয়াজের ভাল সরবরাহ থাকে মার্চ থেকে আগস্ট পর্যন্ত। বছরের বাকি সময় আমদানির ওপর নির্ভরশীলতা বেশি। এবারের মতো যাতে আর সঙ্কট তৈরি না হয়, তাই এ সময় (আগস্টেও শেষ থেকে ডিসেম্বর পর্যন্ত) ভারতে পেঁয়াজ উৎপাদনে সমস্যা হচ্ছে কি না, তা খেয়াল রাখা উচিত। আবার বিকল্প বাজার থেকে আমদানি এবং পেঁয়াজ সংরক্ষণের আধুনিক ব্যবস্থায় নজর দেয়া উচিত। তাহলে সঙ্কট হলেও খুব বেশি দামে পেঁয়াজ খেতে হবে না।

প্রাথমিকের সব সহকারী শিক্ষকের বেতন নিয়ে আসছে সুখবর

নিয়োগবিধি–সংক্রান্ত জটিলতা নিরসন করে এখন সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের সব সহকারী শিক্ষককেই বেতন ১৩তম গ্রেডে দেওয়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছে প্রাথমিক ও গণশিক্ষা মন্ত্রণালয়। এ বিষয়ে  প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নিতে গত রোববার অর্থ বিভাগের কাছে চিঠি পাঠিয়েছে প্রাথমিক ও গণশিক্ষা মন্ত্রণালয়।

গত ফেব্রুয়ারিতে দেশের সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের প্রশিক্ষণপ্রাপ্ত ও প্রশিক্ষণবিহীন সহকারী শিক্ষকদের বেতন গ্রেড ১৩তম করার সিদ্ধান্ত হয়েছিল। একই সঙ্গে প্রশিক্ষণ পাওয়া ও প্রশিক্ষণবিহীন দুই ধরনের প্রধান শিক্ষকদের বেতন গ্রেড ১১তম করার সিদ্ধান্ত হয়। এত দিন প্রশিক্ষণ পাওয়া প্রধান শিক্ষকেরা ১১তম গ্রেডে এবং প্রশিক্ষণবিহীন প্রধান শিক্ষকেরা ১২তম গ্রেডে বেতন পাচ্ছিলেন। অন্যদিকে প্রশিক্ষণপ্রাপ্ত সহকারী শিক্ষকেরা ১৪তম গ্রেডে ও প্রশিক্ষণবিহীন শিক্ষকেরা ১৫তম গ্রেডে বেতন পাচ্ছিলেন।

কিন্তু পরিবর্তিত নিয়োগবিধির কারণে যোগ্যতার কারণে বেতন নির্ধারণ করতে গিয়ে জটিলতার সৃষ্টি হয়। তাতে অসংখ্য শিক্ষক বঞ্চিত হতে যাচ্ছিলেন। কারণ, ২০১৯ সালের নিয়োগবিধি জারি হওয়ার আগে যে শিক্ষাগত যোগ্যতা ছিল, পরে তা বাড়ানো হয়। এ নিয়ে শিক্ষকদের মধ্যে ক্ষোভের সৃষ্টি হয়। এখন আগের নিয়োগবিধি অনুযায়ী যাঁরা সহকারী শিক্ষক হিসেবে সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে নিয়োগ পেয়েছেন, তাঁদেরও শিক্ষাগত যোগ্যতানির্বিশেষে বেতন গ্রেড-১৩–এর সুবিধা দেওয়ার বিষয়ে সিদ্ধান্ত হলো।

এর ফলে দীর্ঘদিন ধরে যে জটিলতা সৃষ্টি হয়েছিল, সেটি দূর হবে বলে মনে করেন প্রাথমিক ও গণশিক্ষা মন্ত্রণালয় এবং শিক্ষকেরা।

এ বিষয়ে সহকারী প্রাথমিক শিক্ষকদের একটি সংগঠন বাংলাদেশ প্রাথমিক বিদ্যালয় সহকারী শিক্ষক সমিতির সভাপতি মোহাম্মদ শামছুদ্দিন বলেন, প্রাথমিক ও গণশিক্ষা মন্ত্রণালয় যে সিদ্ধান্ত নিয়েছে, তাতে এই জটিলতার নিরসন হবে বলে তাঁরা মনে করেন। এতে আর শিক্ষকেরা বঞ্চিত হবেন না। এখন তাঁরা চান দ্রুত এই সিদ্ধান্ত বাস্তবায়ন করা হোক।

বর্তমানে প্রশিক্ষণ পাওয়া প্রধান শিক্ষকেরা ১১তম গ্রেডে এবং প্রশিক্ষণবিহীন প্রধান শিক্ষকেরা ১২তম গ্রেডে বেতন পান। অন্যদিকে প্রশিক্ষণপ্রাপ্ত সহকারী শিক্ষকেরা ১৪তম গ্রেডে ও প্রশিক্ষণবিহীন শিক্ষকেরা ১৫তম গ্রেডে বেতন পান। আর বর্তমানে সহকারী প্রধান শিক্ষকের কোনো পদ নেই।

ভ্রাম্যমাণ ভূমিসেবা দিতে বাড়ি বাড়ি যাবে ভূমি অফিস


সেবা নিতে ভূমি অফিসে গিয়ে পদে পদে দুর্ভোগ আর হয়রানির অভিযোগ বরাবরের। জনগণের এই ভোগান্তি লাঘবে ব্যতিক্রমী উদ্যোগ নিয়েছে কিশোরগঞ্জের হোসেনপুর ভূমি অফিস। ভূমি অফিসের সেবা মানুষের দোরগোড়ায় নিয়ে যেতে এখানে শুরু হয়েছে ভ্রাম্যমাণ ভূমিসেবা কার্যক্রম। জেলায় প্রথমবারের মতো সৃজনশীল এই উদ্যোগ নিয়েছেন হোসেনপুরের সহকারী কমিশনার (ভূমি) ওয়াহিদুজ্জামান।

জানা গেছে, হোসেনপুর উপজেলায় ছয়টি ইউনিয়ন রয়েছে। প্রতিটি ইউনিয়নে সপ্তাহে দুই দিন পুরো অফিস নিয়ে হাজির থাকবেন এসি ল্যান্ড। এই উদ্যোগে ই-নামজারি আবেদন, নামজারি (খারিজ) শুনানি, অনুমোদিত নামজারি (ডিসিআর) ও খতিয়ান সংগ্রহ, ভূমি উন্নয়ন কর (খাজনা) দেওয়াসহ ভূমিসংক্রান্ত যেকোনো সমস্যা তাত্ক্ষণিকভাবে সমাধান বা পরামর্শ দেওয়া হবে। শুধু তা-ই নয়, এক দিনেই একসনা চান্দিনা ভিটি নবায়ন করে দেবে এই ভ্রাম্যমাণ ভূমিসেবা কার্যক্রম।

উপজেলা ভূমি অফিস চত্বরে গত রবিবার আনুষ্ঠানিকভাবে ভ্রাম্যমাণ ভূমিসেবা কার্যক্রমটির উদ্বোধন করেন উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা এ এস এম জাহিদুর রহমান। এদিনই উপজেলার শাহেদল ইউনিয়নে কার্যক্রমটি শুরু করা হয়।

উপজেলা ভূমি অফিস জানায়, প্রথম দিনেই ১০ জনের নামজারি শুনানি হয়। ৩০ জন তাঁদের জমির খাজনা দিয়েছেন। এ ছাড়া জমিসংক্রান্ত নানা সমস্যার পরামর্শ নিতে জড়ো হয়েছিলেন অর্ধশতাধিক মানুষ। তাঁদের সমস্যা শুনে করণীয় সম্পর্কে এসি ল্যান্ড পরামর্শ দিয়েছেন।

ভ্রাম্যমাণ ভূমিসেবা উদ্যোগটি লোকজনের মধ্যে এরই মধ্যে ব্যাপক আগ্রহ সৃষ্টি করেছে। সেবা নিতে আসা শাহেদল ইউনিয়নের গোলাপ মিয়া বলেন, ‘আমরা আগে সেবার জন্য অফিসে অফিসে ঘুরতাম। এখন ভূমি অফিসই মানুষের কাছে যাচ্ছে। এতে আমাদের সময় ও অর্থ দুই-ই বাঁচবে। দালালের খপ্পরে পড়তে হবে না। এলাকাতেই ভূমি খারিজ করা ও খাজনা দিতে পারব।’

এসি ল্যান্ড কালের কণ্ঠকে বলেন, ‘ভূমিসেবা গ্রহণে সাধারণ মানুষের সুবিধার কথা চিন্তা করেই এমন উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। প্রতিটি ইউনিয়নে সপ্তাহে দু-এক দিন করে আমরা যাব। একটা কার্যপদ্ধতি এরই মধ্যে তৈরি করা হয়েছে। এর অংশ হিসেবে আগামী ১৫ অক্টোবর ভ্রাম্যমাণ ভূমিসেবা যাচ্ছে আড়াইবাড়িয়া ইউনিয়নে। সেখানে জামাইল বাজারে আমরা বসব। অক্টোবরের ১৮ তারিখ সেবা নিয়ে যাব গোবিন্দপুর ইউনিয়নের গাঙ্গাটিয়া জমিদারবাড়ির কাছে। এভাবে পর্যায়ক্রমে সব ইউনিয়নে ভ্রাম্যমাণ ভূমিসেবা যাবে।’ তিনি জানান, মাসে ৯ দিন তাঁরা মাঠেঘাটে সেবা নিয়ে ঘুরবেন। হোসেনপুর পৌরসভা, শাহেদল ইউনিয়ন, আড়াইবাড়িয়া, গোবিন্দপুর, সিদলা, জিনারি ও পুমদি ইউনিয়নে এই সেবা কার্যক্রম চলবে।

২০২২ সালে উৎপাদনে যাবে রামপাল

বাগেরহাটের রামপালে ১৩২০ মেগাওয়াট ক্ষমতার কয়লাভিত্তিক তাপবিদ্যুৎকেন্দ্র হচ্ছে। বাংলাদেশ ও ভারতের গঠিত যৌথ কোম্পানি ‘বাংলাদেশ-ভারত ফ্রেন্ডশিপ পাওয়ার কোম্পানি (বিআইএফপিসিএল) প্রকল্পটি বাস্তবায়ন করছে। সুন্দরবনের পরিবেশ ক্ষতি করে এ প্রকল্প বাস্তবায়ন হচ্ছে এমন অভিযোগ রয়েছে জাতীয় তেল-গ্যাস-খনিজসম্পদ রক্ষা জাতীয় কমিটির। প্রকল্পের শুরুতে নানা আন্দোলন ও প্রতিবাদ করে জাতীয় কমিটি। সম্প্রতি ভারত থেকে আসা কোম্পানির ব্যবস্থাপনা পরিচালক (এমডি) হিসেবে যোগ দেওয়া প্রকৌশলী অনিমেশ জৈন আমাদের সময়কে বলেন, এ প্রকল্প পরিবেশের কোনো ক্ষতি করবে না। পরিবেশ সুরক্ষার সব ধরনের পদক্ষেপ নিয়েই প্রকল্পটি বাস্তবায়ন করা হচ্ছে। তিনি বলেন, বাংলাদেশ-ভারত ফ্রেন্ডশিপ কোম্পানি দৃঢ়প্রতিজ্ঞ প্রকল্পটিকে পরিবেশবান্ধব হিসেবে গড়ে তুলতে। পরিববেশ সুরক্ষার জন্য ইতোমধ্যে প্রকল্প এলাকায় প্রায় দেড় লাখ গাছ লাগানো হয়েছে। যার কারণে সেখানকার পরিবেশ স্বাভাবিক থাকবে। তাপমাত্রা থাকবে কাক্সিক্ষত পর্যায়ে। এ ছাড়া প্রকল্পটিতে সব আধুনিক প্রযুক্তি ব্যবহার করা হবে। যেসব প্রযুক্তির কারণে পরিবেশের ক্ষতির আশঙ্কা নেই।

সাম্প্রতিক সময়ে বিশ্বব্যাপী করোনা ভাইরাসের কারণে প্রায় পাঁচ মাস প্রকল্পের কাজের কিছুটা ক্ষতি হলেও ২০২২ সালের মধ্যে প্রকল্প থেকে বিদ্যুৎ গ্রিডে যুক্ত করা যাবে বলে তিনি জানান। রামপাল প্রকল্প নিয়ে ব্যবস্থাপনা পরিচালক অনিমেশ জৈনের সঙ্গে ইস্কাটন গার্ডেনের ইউনিক হাইটসে কোম্পানির অফিসে কথা হয় আমাদের সময়ের সঙ্গে। তিনি প্রকল্পটি নিয়ে বিস্তারিত তথ্য তুলে ধরেন।

অনিমেশ জৈন বলেন, কোভিড প্রকল্পটি পিছিয়ে দিলেও লক্ষ্য অনুযায়ী সেটি বাস্তবায়ন করতে জোর কাজ চালানো হচ্ছে। প্রতিদিন প্রায় ছয় হাজার কর্মী রামপাল প্রকল্পে কাজ করছে ‘মৈত্রী সুপার থারমাল পাওয়ার প্লান্টে। তিনি বলেন, প্রকল্পটির নাম ‘মৈত্রী থারমাল পাওয়ার প্লান্ট’। কারণ বাংলাদেশ ও ভারতের মধ্যে যে সম্পর্ক সেটি বন্ধুত্বের। এ প্রকল্পটিও বন্ধুত্বের নিদর্শন। তিনি বলেন, বাংলাদেশ ও ভারতে কৃষ্টিকালচার, সাহিত্য ও সংস্কৃতি এক। দুটি দেশই গণতান্ত্রিক ধারা অব্যাহত। প্রতিবেশী দুটি দেশের রামপাল বিদ্যুৎ প্রকল্পটিও হবে পরিবেশবান্ধব এবং একটি সফল প্রকল্প।

প্রকৌশলী অনিমেশ জৈন বলেন, করোনায় প্রকল্পের কাজ বন্ধ থাকার পর সেপ্টেম্বর থেকে পুরোদমে আবার শুরু হয়েছে। এখন অতিরিক্ত লোকবল ও প্রচেষ্টা চালানো হচ্ছে, যেন ক্ষতি পুষিয়ে নেওয়া যায়। তিনি যোগ করেন প্রকল্পে যারা কাজ করছেন, তাদের দক্ষতা বৃদ্ধি পাচ্ছে। এ প্রকল্পেই অনেকের কাজের সুযোগ তৈরি হবে। প্রকল্পটিকে ঘিরে প্রকল্প এলাকার মানুষের জীবন মান উন্নতি হবে। প্রকল্প এলাকার মানুষের জীবন মান উন্নয়নে কাজ করা হচ্ছে। স্থানীয়দের নানা প্রশিক্ষণের মাধ্যমে দক্ষতা বৃদ্ধির উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। এ ছাড়া ওই এলাকার মানুষের মধ্যে বিশুদ্ধ খাবার পানি সরবরাহের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।

বিআইএফপিসিএল নতুন কোনো প্রকল্প বাস্তবায়ন করবে কিনা এমন প্রশ্নে তিনি বলেন, বাংলাদেশে বিদ্যুতের চাহিদা ক্রমান্বয়ে বাড়বে। দুই দেশের যৌথ স্টিয়ারিং কমিটির একাধিক বৈঠকে সোলার প্রকল্প নিয়ে আলোচনা হয়েছে। দুই দেশের সিদ্ধান্ত হলে সোলার প্রকল্প ভারত বা বাংলাদেশ যে কোনো দেশেই হতে পারে।

রামপাল প্রকল্পের বিদ্যুতের দাম প্রতি ইউনিট কত হতে পারে এমন প্রশ্নে তিনি বলেন, আসলে বিদ্যুতের দাম কত হতে পারে সেটি আগে থেকেই বলা মুশকিল। কয়লাভিত্তিক বিদ্যুৎ প্রকল্পের বিদ্যুতের দাম নির্ভর করে আন্তর্জাতিক বাজারে কয়লার দাম, সেই কয়লা পরিবহন খরচসহ আনুষঙ্গিক আরও অনেক বিষয়ের ওপর। অর্থাৎ প্রাইমারি জ্বালানি বা কাঁচামালের ওপর অনেকাংশে নির্ভরশীল। তিনি যোগ করে বলেন, এখন সুখবর হচ্ছে- আন্তর্জাতিক বাজারে কয়লার দাম কম। কয়লার দাম আন্তর্জাতিক বাজারে তেলের দামের ওপরও নির্ভরশীল। কারণ তেলের দাম বাড়লে পরিবহন খরচ বেড়ে যায়। ফলে আমি মনে করি আন্তর্জাতিক বাজারে কয়লার দাম, কয়লা কেনার চুক্তির ওপর অনেক কিছু নির্ভরশীল।

প্রসঙ্গত রামপাল প্রকল্পটি বাস্তবায়নে যৌথ কোম্পানি গঠন করা হয় ২০১২ সালে। ইপিসি কাজে দরপত্র আহ্বান করা হয় ২০১৫ সালের ফেব্রুয়ারিতে এবং চুক্তি করা হয় ২০১৬ সালের জুলাই মাসে।

গোমস্তাপুরে আসন্ন শারদীয় দুর্গাপূজা উপলক্ষে প্রস্তুতিমূলক সভা

গোমস্তাপুর (চাঁপাইনবাবগঞ্জ) প্রতিনিধিঃ আসন্ন শারদীয়া দুর্গাপূজা উৎসব উপলক্ষে প্রস্তুতিমূলক সভা উপজেলা সভাকক্ষে অনুষ্ঠিত হয়। গোমস্তাপুর উপজেলা প্রশাসনের আয়োজনে বুধবার সকালে আয়োজিত আলোচনা সভায় সভাপতিত্ব করেন উপজেলা নির্বাহি অফিসার মিজানুর রহমান। প্রধান অতিথি ছিলেন উপজেলা পরিষদের চেয়ারম্যান আলহাজ্ব হুমায়ুন রেজা। বিশেষ অতিথি ছিলেন উপজেলা পরিষদের ভাইস চেয়ারম্যান হাসানুজ্জামান নুহু, মহিলা ভাইস চেয়ারম্যান মিসেস মাহফুজা খাতুন। বক্তব্য রাখেন উপজেলা প্রকল্প বাস্তবায়ন অফিসার হাবিবুর রহমান, রহনপুর তদন্ত কেন্দ্রের ইনচার্জ আব্দুল মালেক, বাংলাদেশ পূজা উদযাপন পরিষদ গোমস্তাপুর উপজেলা শাখার সাধারণ সম্পাদক ডলার কুমার সাহা, যুগ্ন সম্পাদক বলাই চন্দ্র শীল, হল পাড়া পূজা উদযাপন কমিটির সাধারণ সম্পাদক মিঠু সরকার প্রমুখ উল্লেখ্য যে এই উপজেলায় ২৯টি পূজামণ্ডপে শারদীয় দুর্গাপূজা অনুষ্ঠিত হবে উপজেলা প্রশাসনের পক্ষ থেকে যাবতীয় সহযোগিতা প্রদান করা হবে।

মোটরসাইকেলে স্কুল ব্যাগে ফেনসিডিল পাচার কালে আটক শিবগঞ্জের জনি

নিজস্ব প্রতিবেদক, চাঁপাইনবাবগঞ্জ ||চাঁপাইনবাবগঞ্জে বীর শ্রেষ্ঠ ক্যাপ্টেন মহিউদ্দিন জাহাঙ্গীর মহানন্দা সেতুর টোলঘর এলাকা থেকে ৫০ বোতল ফেনসিডিলসহ জামিরুল ইসলাম ওরফে জনি (২৮) কে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। 
গ্রেপ্তারকৃত ব্যক্তি, চাঁপাইনবাবগঞ্জের শিবগঞ্জ উপজেলার ৭ নং ওয়ার্ডের জালামাছমারি হাজিপাড়ার মোসা. জারজিয়া ও হাইরুল ওরফে হারুর ছেলে। 
সদর মডেল থানার অফিসার ইনচার্জ ওসি মো মোজাফফর হোসেন জানান, গোপন সংবাদের ভিত্তিতে সদর ফাঁড়ি পুলিশ জানতে পারে সীমান্তবর্তী এলাকা শিবগঞ্জ থেকে মোটরসাইকেলে এক ব্যক্তি মাদকনিয়ে রাজশাহীর দিকে যাচ্ছে। 
খবরটি পাবার পর দ্রুত এসআই শ্রী উৎপল কুমার সরকার, এএসআই মোফাজ্জল হোসেন, আতিকুল ইসলাম, নাহারুলসহ সঙ্গীয় ফোর্স টোলঘর এলাকায় ১৩ অক্টোবর মঙ্গলবার সকাল সাড়ে ৯টার দিকে একটি পালসার মোটরসাইকেল, ৫০ বোতল ফেনসিডিলসহ জনিকে গ্রেপ্তার করা হয়। 
এ ঘটনায় সদর মডেল থানায় বিশেষ ক্ষমতা আইনে একটি মামলা রুজু করা হয়েছে। উল্লেখ্য, কয়েকদিন আগে শ্রী এসআই উৎপল কুমার সরকারের নেতৃত্বে একই টিম বিপুল পরিমাণ চোলাইমদসহ ১ জনকে গ্রেপ্তার করে। –

চাঁপাইনবাবগঞ্জে র‌্যাবের অভিযানে ১০ মাদকসেবী আটক


চাঁপাইনবাবগঞ্জ প্রতিনিধি ॥ মাদক বিরোধী অভিযানের অংশ হিসেবে গোপন সংবাদের ভিত্তিতে অভিযান চালিয়ে ১০ মাদকসেবীকে আটক করেছে র‌্যাব ৫ এর চাঁপাইনবাবগঞ্জ ক্যাম্পের সদস্যরা। বুধবার দুপুরে এদের আটক করা হয় সদর উপজেলার বারঘরিয়া নতুন বাজার এলাকা থেকে। র‌্যাবের এক প্রেসনোটে বুধবার বিকেলে জানানো হয়, ১৪ অক্টোবর বুধবার বেলা পৌনে ১১টা থেকে সাড়ে ১২টা পর্যন্ত র‌্যাব-৫ এর চাঁপাইনবাবগঞ্জ ক্যাম্পের একটি দল চাঁপাইনবাবগঞ্জ সদর থানার বারঘরিয়া নতুন বাজার সরকারী প্রাথমিক বিদ্যালয়ের সামনে অভিযান চালায়। এসময় প্রকাশ্যে মাদক সেবনের অপরাধে মোট ১০ জন মাদকসেবীকে আটক করা হয়। আটককৃতরা হচ্ছে, পোলাডাঙ্গার মোঃ ওবাইদুল (৪০), মাঠিলাপাড়ার মোঃ রেজাউল (৪২), বারঘরিয়া নতুন বাজারের মোঃ মানিক (৩৭), কাথনিপাড়ার মোঃ ইসরাফিল (২০), পিটিসি কলেজ মোড়ের মোঃ আসিক (২৩), ফরিদপুর জেলার মালতা থানার রায়েরচরের মৃত আঃ হালিম মোল্লার ছেলে মোঃ সিরাজ মিয়া (৫০), রামচন্দ্রপুর হাটের মোঃ শাকিল মিয়া (২০), নয়লাভাঙ্গা মোঃ নাজমুল (২৬) ও মোঃ তারেক বিশ্বাস (৩০), ছত্রাজিৎপুরের মোঃ নাজিম (২৬)। এসময় গাঁজা, কলকী, গ্যাস লাইট উদ্ধার করা হয়।
এ ঘটনায় চাঁপাইনবাবগঞ্জ সদর মডেল থানায় মামলা হয়েছে।