সর্বশেষ সংবাদ নুরকে খোলা চিঠি মাক্স না পড়লে মিলবেনা সরকারী সেবা গোমস্তাপুরে বেতনের অভাবে মানবেতর জীবন যাপন ৪ শতাধিক কে.জি’র শিক্ষকের বিডিপিএ এর চাঁপাইনবাবগঞ্জ জেলা শাখার বিশেষ সভা রোহিঙ্গাদের জন্য জাপানের ৫ মিলিয়ন ডলার উন্নয়নশীল দেশ ২০২৪ ই নতুন গ্যাসক্ষেত্র অনুসন্ধানে ৭টি প্রস্তাব অনুমোদন গোমস্তাপুর অটোর ধাক্কায় শিশুর মৃত্যু bring all drivers under a dope testing system: PM দুর্গাপূজা উপলক্ষে প্রকাশ হয়েছে ‘হরিবোল’

Bangladesh reports 17 deaths, 1278 corona cases in 24-hr


Bangladesh today confirmed 17 more deaths from coronavirus (COVID-19) infection in the last 24 hours, raising the death toll to 5,477.

According to the Health authorities, 1,278 people have tested positive for coronavirus in the last 24 hours raising the total number of coronavirus cases in the country to 375,870.

The Directorate General of Health Services (DGHS) has made the update of the country’s coronavirus situation issuing a press release this afternoon.

As 1,596 patients have recovered in last 24 hours, the number of total recoveries reached 289,912, it also said.

A total of 20,50,669 samples have been tested so far as 11,506 samples tested in 109 coronavirus testing laboratories across the country in last 24 hours, the release added.

Bangladesh reported its first croronaviurs case on March 8 while first death on March 18.

৯ দফা না মানলে নোয়াখালী অভিমুখে লংমার্চ


ঢাকা: ধর্ষণ ও নিপীড়ন বিরোধী মহাসমাবেশ থেকে ৯ দফা দাবি ঘোষণা করা হয়েছে। এ দাবিগুলো মানা না হলে ঢাকা থেকে নোয়াখালী অভিমুখে লংমার্চ করা হবে। শুক্রবার (৯ অক্টোবর) সন্ধ্যায় অনুষ্ঠিত সমাবেশের সভাপতি ছাত্র ইউনিয়নের সাধারণ সম্পাদক অনিক রায় এ কর্মসূচি ঘোষণা করেন।

অনিক রায় বলেন, ১৫ অক্টোবরের মধ্যে আমাদের দাবি না মানলে আগামী ১৬ অক্টোবর ঢাকা থেকে নোয়াখালী লংমার্চ করা হবে। এছাড়াও প্রতিদিন বিকেল ৪টায় শাহবাগ জাতীয় জাদুঘরের সামনে অবস্থান কর্মসূচি পালন করা হবে। ১১ অক্টোবর ধর্ষণ বিরোধী আলোচনা সভা ও চিত্রাংকন। ১২ অক্টোবর ধর্ষণ বিরোধী সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান। ১৩ অক্টোবর চলচ্চিত্র উৎসব। ১৪ অক্টোবর নারী সমাবেশ এবং ১৫ অক্টোবর ধর্ষণ বিরোধী সাইকেল র‍্যালি অনুষ্ঠিত হবে।

সমাবেশে বাম ধারার ছাত্র ও যুব এবং নারী সংগঠনের নেতারা বক্তব্য দেন। আরও বক্তব্য দেন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের আন্তর্জাতিক সম্পর্ক বিভাগের শিক্ষক তানজিম উদ্দিন, বিশিষ্ট চিকিৎসা বিজ্ঞানী অধ্যাপক লিয়াকত আলি।

করোনা ভাইরাসের মহামারির কারণে সমাবেশে উপস্থিত না থাকলেও সংহতি জানান, ইমিরেটাস অধ্যাপক সিরাজুল ইসলাম চৌধুরী, অধ্যাপক মঞ্জুরুল ইসলাম, অধ্যাপক এম এম আকাশ, অধ্যাপক আনু মুহাম্মদ, কাবেরী গায়েন, বিশিষ্ট আলোকচিত্রী শহিদুল ইসলাম, বামজোটের সমন্বয়ক বজলুর রশিদ ফিরোজ প্রমুখ।

এর আগে বিকেল সাড়ে ৩টার দিকে মহাসমাবেশ শুরু হয়।

পাহাড় ও সমতলে অব্যাহত ধর্ষণ ও বিচারহীনতার প্রতিবাদে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর অপসারণের দাবিতে বাম ধারার ছাত্র সংগঠনগুলোর পক্ষ থেকে এ মহাসমাবেশের আয়োজন করা হয়।

ভারত পাকিস্তানের চেয়ে প্রবৃদ্ধিতে এগিয়ে থাকবে বাংলাদেশ-বিশ্বব্যাংকের পূর্বাভাস


স্টাফ রিপোর্টার ॥ দক্ষিণ এশিয়ায় করোনাভাইরাস মহামারীর প্রভাব অব্যাহত আছে। এ কারণে এই অঞ্চল সবচেয়ে খারাপ মন্দায় ডুবে আছে। অনানুষ্ঠানিক খাতে কর্মীদের ওপর অযৌক্তিক খড়গ নেমে এসেছে। লাখ লাখ মানুষ চাকরি হারিয়েছেন। কমে এসেছে কর্মসংস্থানের সুযোগ। এসব পরিস্থিতি দক্ষিণ এশিয়াকে চরম দারিদ্র্যের দিকে ঠেলে দিচ্ছে। এর প্রভাব পড়েছে বাংলাদেশেও। তারপরও প্রবৃদ্ধি অর্জনে ভারত পাকিস্তানের চেয়ে এগিয়ে থাকছে বাংলাদেশ। করোনার প্রভাবে চলতি ২০২০-২১ অর্থবছরে বাংলাদেশের মোট দেশজ উৎপাদন বা জিডিপি মাত্র ১ দশমিক ৬ শতাংশ হবে বলে পূর্বাভাস দিয়েছে বিশ্বব্যাংক। অন্যদিকে পাকিস্তানের প্রবৃদ্ধি হবে ০ দশমিক ৫ শতাংশ। আর দক্ষিণ এশিয়ায় সবচেয়ে খারাপ অবস্থায় আছে ভারত। তাদের প্রবৃদ্ধি হবে মাইনাস ৯ দশমিক ৬ শতাংশ। তবে ২০২১-২২ অর্থবছরে দেশের অর্থনীতি কিছুটা প্রাণ ফিরে পেয়ে প্রবৃদ্ধি ৩ দশমিক ৪ শতাংশ হবে বলে দাবি সংস্থাটির।

বৃহস্পতিবার বিশ্বব্যাংক থেকে পাঠানো এক প্রেস বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য জানানো হয়। দক্ষিণ এশিয়ার দেশগুলোর অর্থনীতির ওপর বিশ্বব্যাংক হালনাগাদ প্রতিবেদনে এমন তথ্য উঠে এসেছে। বিশ্বব্যাংকের দক্ষিণ এশিয়া ইকোনমিক ফোকাস রিপোর্টে আরও বলা হয়েছে, মহামারীর অভিঘাত প্রলম্বিত হওয়ায় দক্ষিণ এশিয়া নজিরবিহীন অর্থনৈতিক মন্দা পরিস্থিতির দিকে এগিয়ে যাচ্ছে। সবচেয়ে বেশি ক্ষতির শিকার হয়েছে অপ্রাতিষ্ঠানিক খাতের কর্মীরা, লাখ লাখ মানুষকে এই মহামারী চরম দারিদ্র্যের দিকে ঠেলে দিয়েছে। বিশ্বব্যাংক বলছে, চলতি অর্থবছরে দক্ষিণ এশিয়া অঞ্চলের জিডিপি প্রবৃদ্ধি ৭.৭ শতাংশ সঙ্কুচিত হয়ে পড়তে পারে, যেখানে গত পাঁচ বছর ধরে প্রবৃদ্ধির হার ৬ শতাংশের ওপরে ছিল।

২০১৮-১৯ অর্থবছরে ৮ দশমিক ১৫ শতাংশ জিডিপি প্রবৃদ্ধি অর্জন করা বাংলাদেশ ২০১৯-২০ অর্থবছরের জন্যও ৮ দশমিক ২ শতাংশ প্রবৃদ্ধির লক্ষ্য ধরেছিল। কিন্তু মহামারীর মধ্যে দুই মাসের লকডাউন আর বিশ্ব বাজারের স্থবিরতায় তা বড় ধাক্কা খায়। গত অর্থবছরে জিডিপি প্রবৃদ্ধি সরকারী হিসাবে ৫ দশমিক ২৪ শতাংশে নেমে আসে। বিশ্বব্যাংকের পূর্বাভাস বলছে, বিশ্বের অন্যতম দ্রুত বর্ধনশীল অর্থনীতির দেশ বাংলাদেশে রেমিটেন্স প্রবাহ সামনে কমে আসতে পারে, সেই সঙ্গে উৎপাদন ও নির্মাণ খাতে কর্মীদের আয় কমে আসায় ভোগ ব্যয় বাড়ার সুযোগ থাকবে না। ক্রেতা দেশগুলোতে তৈরি পোশাকের চাহিদা না বাড়লে বিনিয়োগ ও রফতানি আয়ের দিক দিয়েও বাংলাদেশকে আরও ভুগতে হতে পারে বলে মনে করছেন বিশ্বব্যাংক। ইউরোপ ও যুক্তরাষ্ট্রের বাজারে চাহিদা বাড়তে শুরু করলেও তা কতটা টেকসই হবে, সে সংশয় থাকবে।

মহামারীর মধ্যেও গত তিন মাসে বাংলাদেশে প্রবাসী আয়ের পরিমাণ রেকর্ড পরিমাণে বেড়েছে। বিশ্বব্যাংক বলছে, কাজ হারিয়ে দেশে ফেরার আগে প্রবাসীরা তাদের সমস্ত সঞ্চয় দেশে পাঠিয়ে দিচ্ছেন, রেমিটেন্সে এই উল্লম্ফন হয়ত তারই ফল। প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, মধ্যপ্রাচ্যের তেলসমৃদ্ধ দেশগুলোতে কর্মীর চাহিদা তেমন বাড়ার আভাস দেখা যাচ্ছে না। ফলে এ অর্থবছরে বাংলাদেশের রেমিটেন্স প্রবাহ কমে আসতে পারে।

এদিকে স্বল্পমেয়াদের জন্য হলেও দারিদ্র্যের হার উল্লেখযোগ্য মাত্রায় বেড়ে যেতে পারে বলে পূর্বাভাস দিয়েছে বিশ্বব্যাংক। কৃষির বাইরে বিভিন্ন অপ্রাতিষ্ঠানিক খাতের যে কর্মীরা দৈনিক আয়ের ওপর নির্ভরশীল, তাদেরই সবচেয়ে বেশি ক্ষতির শিকার হতে হবে। ঢাকা ও চট্টগ্রামের মতো বড় শহরে এর প্রভাব পড়বে সবচেয়ে বেশি। দক্ষিণ এশিয়া অঞ্চলের বিশ্বব্যাংকের ভাইস প্রেসিডেন্ট হার্টভিগ শ্যাফার বলেছেন, দক্ষিণ এশিয়ায় কোভিড-১৯ প্রত্যাশার চেয়েও বেশি ক্ষতি করেছে। বৈশ্বিক অর্থনৈতিক মন্দা বাংলাদেশের অর্থনীতিতে প্রভাব ফেলেছে।

বাংলাদেশ ও ভুটানে বিশ্বব্যাংকের কান্ট্রি ডিরেক্টর মার্সি টেম্বন বলেন, বিশ্ব অর্থনীতির মন্দা দশা বাংলাদেশের ওপরও প্রভাব ফেলবে। তবে এই ধাক্কা সামাল দিতে সরকার ইতোমধ্যে যেসব উদ্যোগ নিয়েছে, তা সঠিক পথেই আছে। তার পরামর্শ, অর্থনীতি ঘুরে দাঁড়ানো যেন টেকসই হয়, সেজন্য সরকারকে আর্থিক খাত ও ঋণ ব্যবস্থাপনার স্থিতিশীলতা ধরে রাখতে হবে। আর্থিক খাতকে মজবুত করার দিকে নজর দিতে হবে। দরিদ্র ও প্রান্তিক জনগোষ্ঠীকে রক্ষা করতে হবে। সেই সঙ্গে বেসরকারী খাতের উন্নয়ন ও কর্মসংস্থানের জন্য উপযুক্ত পরিবেশ তৈরি করতে হবে।

বিশ্বব্যাংকের পূর্বাভাসে দেখা গেছে, ২০২১-২২ অর্থবছরে এ অঞ্চলে বেশি প্রবৃদ্ধি অর্জন করবে মালদ্বীপ। তাদের প্রবৃদ্ধি হবে ৯ দশমিক ৫ শতাংশ। এছাড়াও, শ্রীলঙ্কা ৩ দশমিক ৩ শতাংশ, আফগানিস্তান ২ দশমিক ৫, ভুটান ১ দশমিক ৮ ও নেপাল ০ দশমিক ৬ প্রবৃদ্ধি অর্জন করবে।

উল্লেখ্য, চলতি অর্থবছরে দেশের প্রবৃদ্ধি ৮ শমিক ২ শতাংশ হবে বলে বাংলাদেশের প্রত্যাশা। সম্প্রতি এশীয় উন্নয়ন ব্যাংক (এডিবি) এশিয়ার অর্থনীতি নিয়ে সর্বশেষ প্রতিবেদনে বাংলাদেশে ৬ দশমিক ৮ শতাংশ প্রবৃদ্ধির পূর্বাভাস দিয়েছে।

বাংলাকে আবার তার হাজার বছরের ঐতিহ্যের মধ্যে পুনঃস্থাপিত করেন বঙ্গবন্ধু।

বঙ্গবন্ধুকে বলা হয় হাজার বছরের শ্রেষ্ঠ বাঙালি। কেন তিনি শ্রেষ্ঠ? হাজার বছরের বাঙালির ইতিহাসে শ্রেষ্ঠ হওয়ার মতো বাঙালি কি আর নেই? জ্ঞান-বিজ্ঞানের নানা ক্ষেত্রে অবদান রাখা গুণী বাঙালির সংখ্যা কম নয়। কিন্তু রাজনীতির ক্ষেত্রে দ্বিতীয়টি নেই। জ্ঞান, বিজ্ঞান, শিল্প, সাহিত্য, সংস্কৃতি, অর্থনীতি―সবকিছুর নিয়ন্তা হচ্ছে রাজনীতি। রাজনীতিই সবকিছুকে নিয়ন্ত্রণ করে। রাজনীতি তার সঠিক রাস্তায় থাকলে সবকিছুর বিকাশ ঘটে। রাজনীতি যদি তার সঠিক রাস্তা থেকে চ্যুত হয়, তবে সবকিছুই মুখ থুবড়ে পড়ে। বঙ্গবন্ধু এমন এক রাজনীতিবিদ, যিনি বাঙালিকে উপহার দিয়েছেন একটি স্বাধীন রাষ্ট্র।

ভারতবর্ষে, বিশেষত বাংলায়, সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতি বিনষ্টের অপচেষ্টা ব্রিটিশরা আসার আগেও ছিল, কোনো সন্দেহ নেই। কিন্তু অপচেষ্টাকারীরা কখনোই সফল হতে পারেনি। হিন্দু ও মুসলমান দুটি পক্ষ সরাসরিভাবে নিজেদের মধ্যে বোঝাপড়া করে নিয়েছিল এবং অসমতা থাকলেও তাদের মধ্যে সাম্প্রদায়িক-সংঘাত ছিল না। কিন্তু তৃতীয় পক্ষ হিসেবে ব্রিটিশদের আসার পরে বহুবিধ কারণে হিন্দু-মুসলমানের বৈচিত্রমূলক সম্পর্ক দ্রুত বিরোধমূলক সমস্যায় রূপ নেয় এবং যে পক্ষটি সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতি বিনষ্টের অপচেষ্টায় লিপ্ত ছিল তার একটি অংশ ইংরেজদের আশ্রয়ে-প্রশ্রয়ে শক্তিশালী হয়ে ওঠে। তারপর তো এলো তথাকথিত দ্বিজাতি তত্ত্ব। এই তত্ত্ব সঙ্গে নিয়ে এলো রক্তের বন্যা। ভারতবর্ষ ভাগ হলো। বাংলার সুন্দর দেহটিকে ধারালো অস্ত্র দিয়ে কেটে দু-টুকরো করে ফেলা হলো। ভাগাভাগির মাধ্যমে এর বড় টুকরোটি নিয়ে গেল পাকিস্তান, ছোট টুকরোটি নিল ভারত। কিন্তু সাম্প্রদায়িকতার ভিত্তিতে প্রতিষ্ঠিত পাকিস্তানের সঙ্গে অসাম্প্রদায়িক বাংলা কিছুতেই যৌথভাবে বসবাস করতে পারছিল না। শুরু হলো অর্থনৈতিক ও সাংস্কৃতিক সংঘাত। তেইশ বছর ধরে এই সংঘাত চলল। একটা সময় হাঁপিয়ে উঠল বাংলার মানুষ, সাম্প্রদায়িক পাকিস্তানের কাছ থেকে বিযুক্ত হতে অস্থির হয়ে উঠল।

বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের কৃতিত্ব এখানেই যে, তিনি সাম্প্রদায়িকতার ভিত্তিতে প্রতিষ্ঠিত পাকিস্তানের কাছ থেকে অসাম্প্রদায়িক বাংলার বড় টুকরোটিকে মহান মুক্তিযুদ্ধের মধ্য দিয়ে আলাদা করে, এই বাংলাকে আবার তার হাজার বছরের ঐতিহ্যের মধ্যে পুনঃস্থাপিত করে দিলেন। খেয়াল করা দরকার, ৭ মার্চের ভাষণে তিনি স্পষ্টভাবেই বলছেন, ‘বাঙালি-অবাঙালি, হিন্দু-মুসলমান সবাই আমাদের ভাই, তাদের রক্ষা করার দায়িত্ব আমাদের।’ এটি কিন্তু কেবলই তার কথা নয়, বাংলার হাজার বছরের ঐতিহ্যের কথা, হাজার বছরের সংস্কৃতির কথা। আরো খেয়াল করা দরকার, মুক্তিযুদ্ধের মূল চেতনার অন্যতম ছিল ধর্মনিরপেক্ষতা, যেটা পাকিস্তান প্রতিষ্ঠার আগে এই বাংলায় বর্তমান ছিল। তার মানে বঙ্গবন্ধু এই বাংলাকে স্বাধীন করার মধ্য দিয়ে আবার তার পূর্বের জায়গায় ফেরত এনেছেন। বাঙালির জন্য এরচেয়ে বড় উপহার আর কী হতে পারে? এখানেই বঙ্গবন্ধুর শ্রেষ্ঠত্ব। একারণেই তিনি হাজার বছরের শ্রেষ্ঠ বাঙালি, বাঙালি জাতির পিতা, বাঙালি জাতির কাণ্ডারি, বাঙালির বাতিঘর।

মানুষ দুই প্রকারের। আত্মমুখী এবং বহির্মুখী। আত্মমুখী মানুষরা শুধু নিজেকে নিয়েই ভাবেন, নিজেকে নিয়েই থাকেন। জন্ম নেন, চাকরি-বাকরি-ঘর সংসার ইত্যাদি করেন এবং যাওয়ার সময় হলে পৃথিবী থেকে চলে যান। মৃত্যুর পর আর উচ্চারিত হয় না তাদের নাম। অপরদিকে, বুহির্মুখী মানুষেরা শুধু নিজেকে নিয়ে ভাবেন না, তাদের সকল ভাবনা-চিন্তার কেন্দ্রবিন্দু সব মানুষ। মানুষ, সমাজ ও রাষ্ট্রের সেবায় তারা নিজেদের নিয়োজিত রাখেন। রাখেন বলেই মৃত্যুপরবর্তীকালেও মানুষ তাদের নাম স্মরণ করে।

একইভাবে রাজনীতিবিদও দুই প্রকারের। এক শ্রেণীর রাজনীতিবিদ আছেন, যারা নিজের জাতিকে মহিমান্বিত করার জন্য রাজনীতি করেন। যেমন মহামতি আলেকজান্ডার, নেপোলিয়ন বোনাপার্ট, আব্রাহাম লিংকন, জর্জ ওয়াশিংটন, মাও সেতুং, মহাত্মা গান্ধি, চে গুয়েভারা, নেলসন ম্যান্ডেলা প্রমুখ। আরেক ধরনের রাজনীতিবিদ আছেন, যারা রাজনীতি করেন নিজেকে মহিমান্বিত করার জন্য, নিজের শৌর্য বৃদ্ধির জন্য। প্রথম শ্রেণীভুক্ত রাজনীতিবিদরা ক্রুশবিদ্ধ যিশুর মতো গোটা জাতির ভার তুলে নেন নিজের মাথায়। জাতির দুঃখকে নিজের দুঃখ এবং জাতির সুখকে নিজের সুখ মনে করেন। তারা নিজেকে নিয়ে ভাবেন না, নিজের প্রাপ্তি-অপ্রাপ্তি নিয়ে ভাবেন না, পরোয়া করেন না মৃত্যুকেও। কর্মের মধ্য দিয়ে নিজের জীবনকে উন্নীত করেন এক অনন্য উচ্চতায়। শেষ পর্যন্ত এরাই ঠাঁই পান ইতিহাসের পাতায়। এরাই হয়ে ওঠেন প্রাতঃস্মরণীয়। যুগে যুগে, কালে কালে, শতাব্দীর পর শতাব্দী তাদের নাম ঘুরতে থাকে মানুষের মুখে মুখে।

জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান ছিলেন আদ্যোপ্রান্ত একজন বহির্মুখী মানুষ। নিজের প্রতি তার বিশেষ খেয়াল ছিল না। বাঙালি জাতির জন্য, বাংলাদেশের মানুষের সেবায় তিনি নিয়োজিত করেছিলেন নিজেকে। এবং তিনি উপরোল্লেখিত প্রথম শ্রেণিভুক্ত একজন রাজনীতিবিদ, যিনি ধারণ করেছিলেন মহৎ রাজনীতিবিদ ও মহৎ শাসকের গুণাবলি, কর্মের মধ্য দিয়ে যিনি নিজেকে উন্নীত করেছিলেন এক অনন্য উচ্চতায়। সারা জীবন বাংলার মানুষের জন্যই কাজ করে গেছেন তিনি। বাংলার মানুষকে ক্ষুধা-দারিদ্র এবং পশ্চিম পাকিস্তানি শাসক গোষ্ঠীর শোষণের যাঁতাকল থেকে মুক্তি দিয়েছেন। এই দেশের মানুষের ভাগ্য বদলের জন্য রাজনীতিকে বেছে নিয়েছিলেন লড়াইয়ের মাধ্যম হিসেবে।

১৯৭১ সালে হুট করেই নেতা হিসেবে বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের অভ্যুদয় ঘটেনি। বাঙালির স্বাধীকার আন্দোলনের গোড়া থেকেই ছিল তার সম্পৃক্ততা। বাংলার মানুষের অধিকার আদায়ের জন্য ছাত্রজীবন থেকেই তিনি রাজপথে সক্রিয় ছিলেন আন্দোলন-সংগ্রামে। ব্রিটিশবিরোধী আন্দোলন দিয়ে শুরুর পর বাংলাদেশের স্বাধীনতা আনা পর্যন্ত সারাজীবনের এক-চতুর্থাংশ সময় কারাগারেই কাটাতে হয়েছে তাকে। স্কুলের ছাত্র অবস্থায় ব্রিটিশ আমলে ৭ দিন কারাভোগ করেন, বাকি ৪ হাজার ৬৭৫ দিন তার জেলজীবন কাটে পাকিস্তান আমলে। ৫৪ বছরের জীবনে বঙ্গবন্ধু ৪ হাজার ৬৮২ দিন কারাগারে ছিলেন, যা তার মোট জীবনের সিকিভাগ। পাকিস্তান সরকার বারবার তাকে কারারুদ্ধ করেছে। ১৯৪৮ সালের ১১ মার্চ বাংলাকে রাষ্ট্রভাষার মর্যাদা দেওয়ার দাবিতে আন্দোলন শুরু করলে পাকিস্তান সরকার প্রথমবারের মতো তাকে গ্রেফতার করে। তারপর আরো বহুবার গ্রেফতার করা হয় তাকে। সর্বশেষ গ্রেফতার হন ১৯৭১ সালের ২৬ মার্চ। সেদিন প্রথম প্রহরে হানাদার বাহিনী তাকে ধানমন্ডি ৩২ নম্বর বাড়ি থেকে গ্রেফতার করে পাকিস্তান নিয়ে যায় এবং কারাগারে বন্দি করে রাখে।

আগেই বলেছি, বঙ্গবন্ধু ছিলেন সেই বহির্মুখী মানুষ এবং সেই মহৎ রাজনীতিবিদ, যিনি দেশ ও জাতির কল্যাণে সারাক্ষণ কাজের মধ্যে ডুবে থাকতে ভালবাসতেন। কিন্তু কারাগারে তো কাজ বলতে কিছু থাকত না। একটা নির্দিষ্ট সেলে বন্দী করে রাখা হতো তাকে। কারো সঙ্গে আড্ডা দেওয়া বা কথা বলার সুযোগ দেওয়া হতো না। কারাগারের রোজনামচায় সেই একাকীত্বের বর্ণনা দিয়েছেন তিনি এভাবে: ‘আমার অবস্থা হয়েছে ‘‘পর্দানসিন জানানা’’র মতো, কেউ আমাকে দেখতেও পারবে না, আমিও কাউকে দেখতে পারব না। কেউ কথা বলতে পারবে না, আমিও পারব না। আমার উপর সরকারের কড়া নজর। জেলের ডিআইজি সাহেবকে বলেছি, জেলের আইন ভঙ্গ করে আমাকে একাকী রেখেছেন। জেল আইনে কাহাকেও বিনা অপরাধে Solitary Confinement রাখার নিয়ম নাই। এটা আইনবিরুদ্ধ, তবুও আপনারা আইন ভঙ্গ করে চলেছেন। ‘‘উপরের হুকুম’’ বলে আপনারা চুপ করে থাকেন। আমাকে ‘‘হুকুম’’ দেখান, আমি আপত্তি করব না। একাকী থাকবো যত কষ্টই হয়।”

১৯৬৬ সালে ছয় দফা দাবি আদায়ের জন্য বঙ্গবন্ধু যখন আন্দোলন শুরু করলেন তখন তাকে গ্রেপ্তার করা হলো। ১৯৬৬ সাল থেকে ১৯৬৯ সাল পর্যন্ত তিনি বন্দী থাকলেন। কাজের মানুষ তিনি; কিছু না কিছু কাজ তাঁকে করতেই হবে। এই সময়গুলোতে তার স্ত্রী শেখ ফজিলাতুন্নেসার প্রেরণা ও অনুরোধে তিনি ডায়েরি লিখতে শুরু করলেন। যতবার তিনি জেলে গেছেন ফজিলাতুন্নেসা কিছু খাতা কিনে কারাগারে পৌঁছে দিয়েছেন। আবার যখন মুক্তি পেতেন খাতাগুলো সংগ্রহ করে নিজের কাছে যত্ন করে রেখে দিতেন। নিশ্চয়ই তার চিন্তা ছিল দূরদর্শী। এসব ডায়েরির লেখাগুলো যে একদিন বাংলার ইতিহাসের অংশ হয়ে উঠবে তা তিনি বুঝতে পেরেছিলেন। ১৯৬৬ থেকে ১৯৬৮ সাল পর্যন্ত বঙ্গবন্ধু কারাগারে বসে যে ডায়েরি লিখেছিলেন সেই ডায়েরি নিয়ে কারাগারের রোজনাচা বই প্রকাশিত হয় ২০১৭ সালে। বইটির নাম রেখেছেন বঙ্গবন্ধুকন্যা শেখ রেহানা।

বইটির শুরুর দিকে যুক্ত হয়েছে কারাগার সম্পর্কে খুঁটিনাটি নানা তথ্য নিয়ে একটি লেখা। ১৯৫৮ সালের ৭ অক্টোবর বঙ্গবন্ধুকে গ্রেফতার করা হয়। ১৯৬০ সালের ডিসেম্বর মাসে যখন তিনি কারাগার থেকে মুক্তি পান তখন তার লেখা খাতাগুলির মধ্যে দুটি খাতা সরকার বাজেয়াপ্ত করেছিল। ২০১৪ সালে এসবির কাছ থেকে একটি খাতা উদ্ধার করেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। খাতাটির একটা নামও দিয়েছিলেন বঙ্গবন্ধু: ‘থালা বাটি কম্বল জেলখানার সম্বল’। এই লেখাটিতে রয়েছে কারাজীবন, কয়েদিদের অনেক অজানা কথা, অপরাধীদের নানা কথা। প্রশ্ন উঠতে পারে, এতদিন কোথায় ছিল ডায়েরিগুলো? অর্ধ শতাব্দীরও বেশি হয়ে গেল ডায়েরিগুলোর বয়স। কেন এতদিন বই আকারে প্রকাশ করা হলো না? এই জবাব দিয়েছেন বঙ্গবন্ধুকন্যা শেখ হাসিনা। বইটির ভূমিকা লিখেছেন তিনি। ভূমিকায় তিনি বিস্তারিত লিখেছেন ডায়েরিগুলো খুঁজে পাওয়া ও সংরক্ষণের ইতিহাস এবং এতদিন ধরে প্রকাশিত না হওয়ার কারণ।

বঙ্গবন্ধু তার রোজনামচায় তুলে ধরেছেন সেই সময়কার রাজনৈতিক পরিস্থিতি, পত্রপত্রিকার অবস্থা, শাসকদের নির্যাতন, ছয় দফা দাবি নিয়ে মানুষের দৃষ্টি ভিন্ন দিকে নিয়ে যাওয়ার চেষ্টা ইত্যাদি বিষয়। ১৯৬৬ সালের ৮ জুন তারিখের ডায়েরির লেখাটি পড়লে বোঝা যায় কতটা নিষ্ঠুর ছিল পাকিস্তানি শাসকগোষ্ঠী। বঙ্গবন্ধু লিখেছেন, ‘ভোরে উঠে শুনলাম সমস্ত রাত ভর গ্রেপ্তার করে জেল ভরে দিয়েছে পুলিশ বাহিনী। সকালেও জেল অফিসে বহু লোক পড়ে রয়েছে। প্রায় তিনশত লোককে সকাল ৮টা পর্যন্ত জেলে আনা হয়েছে। এর মধ্যে ৬ বৎসর বয়স থেকে ৫০ বছর বয়সের লোকও আছে। কিছু কিছু ছেলে মা মা করে কাঁদছে। এরা দুধের বাচ্চা, খেতেও পারে না নিজে। কেস টেবিলের সামনে এনে রাখা হয়েছে। সমস্ত দিন এদের কিছুই খাবার দেয় নাই। অনেকগুলি যুবক আহত অবস্থায় এসেছে। কারও পায়ে জখম, কারও কপাল কেটে গিয়েছে, কারও হাত ভাঙ্গা। এদের চিকিৎসা করা বা ঔষধ দেওয়ার কোনো দরকার মনে করে নাই কর্তৃপক্ষ।’
স্বকৃত নোমান: কথাসাহিত্যিক

বন্ধুর স্ত্রীকে ৯ মাস ধর্ষণের অভিযোগ বিএনপি ’র ৩ নেতার বিরুদ্ধে !

এবার বন্ধুর স্ত্রীকে ধর্ষণ করে সেই ভিডিও ছড়িয়ে দেওয়ার ভয় দেখিয়ে ৯ মাস ধরে নিয়মিত ধর্ষণ করেছে তিন বন্ধু মিলে। তারা সবাই বিএনপি নেতা। ধর্ষণের এই ভিডিও আন্তর্জাতিক কয়েকটি পর্নোসাইটে বিক্রি করে টাকা হাতিয়ে নেওয়ার অভিযোগও পাওয়া গেছে। চাঞ্চল্যকর ঘটনাটি ঘটেছে গাজীপুরের কাপাসিয়ার সাফাইশ্রী গ্রামে।

এ ঘটনায় ধর্ষিতা গৃহবধূ বাদী হয়ে তিনজনের নাম উল্লেখ করে থানায় ও আদালতে মামলা দায়ের করেছেন। অভিযুক্তরা হলেন- কাপাসিয়া সাব-রেজিস্ট্রি অফিসের দলিল লেখক কাপাসিয়া উপজেলা বিএনপি নেতা মাহফুজুর রহমান ওরফে রাসেল মোল্লা (৪০), বিএনপি নেতা খাইরুল ইসলাম সবুজ (৩৮) ও সাব-রেজিস্ট্রি অফিসের দলিল লেখক জাকির হোসেন সোহেল (৩৯)। মাহফুজুর রহমান ওরফে রাসেল মোল্লা কাপাসিয়া উপজেলা ছাত্রদলের সাবেক যুগ্ম-আহ্বায়ক ও খাইরুল ইসলাম সবুজ ছাত্রদলের একই কমিটির সাবেক সদস্য। মামলা সূত্রে জানা গেছে, দলিল লেখক মাহফুজুর রহমান রাসেল মোল্লার সহকারী হিসেবে কাজ করতেন সাফাইশ্রী গ্রামের এক ব্যক্তি। ২০১৯ সালের ৩ ডিসেম্বর রাত ১১টার দিকে রাসেল মোল্লা ওই ব্যক্তির বাড়িতে যান। কিন্তু তিনি বাড়িতে না থাকার সুযোগে তার স্ত্রীকে জোর করে ধর্ষণ করেন রাসেল মোল্লা। এ দৃশ্য মোবাইলে ভিডিওতে ধারণ করেন। পরে ভিডিও প্রকাশের ভয় দেখিয়ে দুই বন্ধু সবুজ ও সোহেলকে নিয়ে প্রায়ই রাসেল ওই নারীকে ধর্ষণ করতেন।

মামলায় আরো বলা হয়, গত ২২ জুলাই খাইরুল ইসলাম সবুজ ওই নারীকে ধর্ষণ করেন। বিষয়টি ওই নারীর স্বামী জেনে যান। এ নিয়ে পারিবারিক কলহ সৃষ্টি হয়। স্ত্রীর বাড়ির লোকজনকে ডেকে এনে তার স্বামী সংসার ভাঙার ইচ্ছা প্রকাশ করেন। গত ২৪ আগস্ট রাত সাড়ে ৯টার দিকে অভিযুক্ত ধর্ষণকারী রাসেল মোল্লা, সবুজ ও সোহেল ও নারীর বাড়িতে গিয়ে ওই নারী ও তার স্বামীকে গালিগালাজ করেন। এক পর্যায়ে অস্ত্র দেখিয়ে তাদের হত্যার চেষ্টা করেন। পরে ওই নারী এ ঘটনার পরিপ্রেক্ষিতে কাপাসিয়া থানায় একটি মামলা দায়ের করেন।

ধর্ষিত ওই গৃহবধূ বলেন, ‘রাসেল মোল্লা, সবুজ ও সোহেল এখন আমাকে ও আমার স্বামীকে মেরে ফেলার হুমকি দিচ্ছে। এমনকি ফেসবুকে নানা ধরনের কুৎসা রটিয়ে আমাদেরকে আত্মহননের দিকে ঠেলে দিচ্ছে। আমি ও আমার স্বামী প্রধানমন্ত্রীর কাছে এর বিচার চাই।’

জানা গেছে, অভিযুক্ত ধর্ষণকারী রাসেল মোল্লা, সবুজ ও সোহেল ওই নারীকে ধর্ষণ করার ভিডিও বিদেশি কয়েকটি পর্নোসাইটে আপলোড করে মোটা অঙ্কের টাকা হাতিয়ে নিয়েছে। পর্নোসাইটে ধর্ষণের ভিডিও আপলোড করার অভিযোগ এনে গাজীপুর আদালতে ওই নারী বাদী হয়ে পর্নোগ্রাফি আইন ২০১২ এর ৮(১) এবং প্যানাল কোড ৪৪৮/৫০৬ ধারার মামলা (নম্বর সিআর ২৩৫/২০, তারিখ ০৩-০৯-২০২০, স্মারক নম্বর ১০৪৭ (মূল) তারিখ ১০-০৯-২০২০) দায়ের করেন।

তবে অভিযুক্তদের স্বজনরা জানান, মামলার অভিযোগ মিথ্যা ও বানোয়াট। জমি বেচা-কেনা নিয়ে ২০ লক্ষাধিক টাকা পাওনা রয়েছে ওই নারীর স্বামীর কাছে। টাকা আত্মসাতের জন্য এই ঘটনা সাজানো হয়েছে ও মিথ্যা মামলা দেয়া হয়েছে।

গাজীপুরের পুলিশ সুপার শামসুন্নাহার বলেন, পর্নোগ্রাফির বিষয়টি আমরা অত্যন্ত গুরুত্বের সঙ্গে দেখছি। পাশাপাশি অভিযুক্ত আসামিদের গ্রেপ্তারে পুলিশের তৎপরতা রয়েছে। বাংলাদেশে পর্নোগ্রাফি সাইট সম্পূর্ণভাবে নিষিদ্ধ। তার পরও কীভাবে আসামিরা বিদেশি পর্নোসাইটে ধর্ষণের ভিডিও আপলোড করেছে তা খতিয়ে দেখা হচ্ছে।

আরো পড়ুন: প্রবাসীর স্ত্রীর বিবস্ত্র ভিডিও ধারণ করে চাঁদা দাবি

ধর্ষিত ওই নারীর স্বামী অভিযোগ করে জানান, রাসেল মোল্লা, সবুজ ও সোহেল মিলে তার স্ত্রীকে ধর্ষণের ভিডিও আন্তর্জাতিক কয়েকটি পর্নোগ্রাফি সাইটে বিক্রি করে দেয়। ইন্দোনেশিয়া ও ভারতের এসব পর্নোসাইটে ধর্ষণের ভিডিও এখন সবার হাতে হাতে।

তিনি বলেন, ‘বিদেশি অনলাইন সার্ভার এনজিইবিওকেইপি নামের সার্ভারের ওয়েবসাইট টিআইএনওয়াইইউআরএল ডটকম এবং আন্তর্জাতিক কয়েকটি পর্নোসাইটে ধর্ষণের ভিডিও আপলোড করা হয়।’

অপরদিকে অভিযুক্তরা সামাজিক যোগযোগ মাধ্যমে ওই নারী, তার স্বামী ও আত্মীয়স্বজনদের নামে নানা কুৎসা রটাচ্ছেন। এমনকি অভিযুক্ত রাসেল মোল্লা, সবুজ ও সোহেলের আত্মীয়রা ধর্ষিত নারী ও তার স্বামীকে নানাভাবে হুমকি দিচ্ছে বলে কাপাসিয়া থানায় পৃথক ৪টি সাধারণ ডায়েরি করা হয়েছে।

র‌্যাপিড অ্যাকশন ব্যাটালিয়ন (র‌্যাব-১) গাজীপুর কোম্পানি কমান্ডার আবদুল্লাহ আল মামুন বলেন, পর্নোগ্রাফি একটি মারাত্মক অপরাধ। আমরা নানা কৌশলে আসামিদের গ্রেপ্তারের চেষ্টা অব্যাহত রেখেছি।

এদিকে ঘটনার প্রতিবাদে বৃহস্পতিবার সকালে কয়েকটি স্বেচ্ছাসেবী সংগঠন কাপাসিয়ার তাজউদ্দীন আহমদ চত্বরে মানববন্ধন করেছে। মানববন্ধনে বিক্ষুব্ধরা অভিযুক্ত ধর্ষণকারীদের দ্রুত গ্রেপ্তার করে দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি করেছেন।

এলাকাবাসী জানায়, বিএনপি নেতা রাসেল মোল্লা, সবুজ ও সোহেল তিনজন মিলে কাপাসিয়া উপজেলা শহরে জমি দখল, নারী ধর্ষণ, মাদক কারবারিসহ নানা অপকর্ম করে বেড়ায়। তাদের অপকর্মের সামনে কেউ প্রতিবাদ করলে হুমকি ধমকি দিয়ে আসছে। বিশেষ করে সাফাইশ্রী গ্রামের হিন্দু সম্প্রদায়ের সাধারণ অসহায় মানুষদের ভয় ভীতি দেখিয়ে জমি দখল করে নেওয়ার অভিযোগ রয়েছে।

সাফাইশ্রী গ্রামের ভূক্তভোগী ১০-১২ জন জানান, বিএনপি করেও নানা অপরাধসহ বিভিন্ন সময় এলাকায় মোটরসাইকেল মহড়া দিয়ে জনমনে এক ধরনের আতঙ্ক সৃষ্টি করে আসছে।

আওয়ামী লীগের বিক্ষোভে শিবির ! নাশকতার চেষ্টাকালে আটক


প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা ও স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আসাদুজ্জামান খান কামালকে কটুক্তির প্রতিবাদের রাজশাহীতে আওয়ামী লীগের বিক্ষোভ মিছিলে নাশকতার চেষ্টাকালে এক শিবির ক্যাডারকে আটক করে ছাত্রলীগের নেতারা। পরে তাকে পুলিশের কাছে তুলে দেওয়া হয়।

জানা যায়, বৃহস্পতিবার (৮ অক্টোবর) বিকেল ৪টায় প্রধানমন্ত্রীকে কটুক্তির প্রতিবাদে রাজশাহী মহানগর আওয়ামী লীগের সভাপতি সিটি মেয়র খায়রুজ্জামান লিটনের নেতৃত্বে বিক্ষোভ মিছিল বের হয়। মিছিলটি আরডিএ মার্কেটের কাছে পৌঁছলে কোনো এক সময় শিবির ওই ক্যাডার ঢুকে পড়ে। এসময় মহানগর ছাত্রলীগের নেতৃবৃন্দ তাকে চিনতে পেরে ধরে ফেলে। এই সময় ছাত্রলীগের নেতৃবৃন্দরা তাকে উত্তম মাধ্যম দেয়। পরে তাকে পুলিশ হেফাজতে দেওয়া হলে পুলিশ তাকে নিয়ে যায়। তবে তাৎক্ষণিক তার নাম পরিচয় পাওয়া সম্ভয় হয়নি।এ বিষয়ে বোয়ালিয়া থানার ওসি নিবারণ চন্দ্র বর্মণ বলেন, আমি সমাবেশের কার্যক্রম নিয়ে ব্যস্ত আছি বিষয়টি জানা নেই। পরে জেনে বলতে পারবো বলে জানান।

রাত পোহালেই শিবগঞ্জের পাঁকা ইউপির উপ-নির্বাচন


নিজস্ব প্রতিবেদক, শিবগঞ্জ
চাঁপাইনবাবগঞ্জে শিবগঞ্জ উপজেলার পাঁকা ইউনিয়ন পরিষদের উপ-নির্বাচন শনিবার (১০ অক্টোবর) অনুষ্ঠিত হচ্ছে। রির্টানিং অফিসার ও উপজেলা নির্বাচন কর্মকর্তা মাহবুবুল কবির জানান, শনিবার পাঁকা ইউনিয়নের উপ-নির্বাচনের তারিখ ঘোষণা করা হয়। এর আগে গত ২৯ মার্চ ইউপি উপ-নির্বাচনের তারিখ ঘোষণা করা হয়েছিল।তবে করোনাভাইরাসের কারণে নির্বাচন স্থগিত করা হয়েছিল।

উপ-নির্বাচনে অংশগ্রহণ করেছেন সাবেক চেয়ারম্যান আব্দুল মালেক (ধানের শীষ), বীরমুক্তিযোদ্ধা ইসমাইল হোসেন মাস্টার (নৌকা), মরহুম চেয়ারম্যান মজিবুর রহমানের সহধর্মণী মোসা. পারভিন (আনারস) ও জালাল উদ্দিন (মটরসাইকেল)। এর আগে নির্বাচনী তারিখ ঘোষণার সময় প্রার্থীদের প্রতীক বরাদ্দ দেয়া হয়। পাঁকা ইউনিয়নের মোট ভোটার সংখ্যা ১৪ হাজার ৩’শ ৭৯ জন। এর মধ্যে পুরুষ ভোটার ৭ হাজার ৩’শ ৬৭ জন ও মহিলা ভোটার ৭ হাজার ১২ জন। ৯টি ভোট কেন্দ্রে উপনির্বাচন অনুষ্ঠিত হবে। এদিকে করোনাভাইরাস ও পদ্মা নদীর পানি পাঁকা ইউনিয়নের বিভিন্ন স্থানে থাকলেও থেমে নেই নির্বাচনী প্রচার প্রচারণা।

প্রসঙ্গত: চলতি বছরের ৮ জানুয়ারি পাঁকা ইউনিয়ন পরিষদ (ইউপি) চেয়ারম্যান মজিবুর রহমান মৃত্যুবরণ করায় চেয়ারম্যানের পদটি শূন্য হয়।

চাঁপাইনবাবগঞ্জে এবার মোবাইল-টাকার লোভ দেখিয়ে শিশু ধর্ষণ, ৪০ হাজার টাকায় রফা



চাঁপাইনবাবগঞ্জ প্রতিনিধি:
এবার চাঁপাইনবাবগঞ্জের গোমস্তাপুরে মোবাইল, টাকা ও নিজের ছেলের সাথে বিয়ে দেয়ার প্রলোভন দেখিয়ে এক শিশুকে ধর্ষণের পর ৪০ হাজার টাকায় রফা করার অভিযোগ উঠেছে।
অভিযুক্ত ব্যক্তি ৫ সন্তানের জনক ও সেচ প্রকল্পের ড্রাইভার আনারুল। সে গোমস্তাপুর উপজেলার পাবর্তীপুর ইউনিয়নের দায়েমপুর-হঠাৎপাড়া গ্রামের ঝাটু কোলার ছেলে আনারুল ইসলাম (৫৫)।
স্থানীয়রা জানায়, মোবাইল, টাকা ও নিজের ছেলের সাথে বিয়ে দেয়ার প্রলোভন দেখিয়ে ৩০ সেপ্টেম্বর ১৩ বছর বয়সী ৪র্থ শ্রেণীর এক শিশুকে ধর্ষনের পর পারিবারিকভাবে স্থানীয় সালিশের মাধ্যমে ৪০ হাজার টাকায় সমাধান করা হয়।
অভিযুক্ত ব্যক্তি ঘটনার দিন দুপুরে শিশুটি ঘাস কাটতে গেলে বিভিন্ন লোভ দেখিয়ে পাশের আমবাগানে ধর্ষণ করে আনারুল ইসলাম। এরপর ৬ অক্টোবর সকালে অভিযুক্ত ব্যক্তির আত্মীয় ও ধান-চাল ব্যবসায়ী আজহারের ছেলে আমিনুল ইসলাম স্থানীয় সালিশে এর সমাধান করে দেন
ধর্ষনের শিকার শিশুটি জানায়, ঘাস কাটতে গেলে আনারুল তাতে বিভিন্ন লোভ দেখিয়ে ধর্ষণ করে এ সময় মেয়েটি চিৎকার করার চেষ্টা করলে মুখে গামছা বেঁধে দেয়। বিষয়টি কাউকে জানালে কেটে ফেলার হুমকিও দেয় সেই নরপিশাচ। হুমকি দেয় । মেয়েটি ভয়ে ভয়ে তার সাথে এমন আচরনের সত্যতা শিকার করে এ ঘটনার বিচার দাবী করে।
এদিকে পাবর্তীপুর ইউনিয়নের হঠাৎপাড়া গ্রামের ফারুকের ছেলে কারিম ও লুৎফর রহমানসহ আরো কয়েকজন স্থানীয় বাসিন্দা জানায়, ৫ দিন আগে পাশের আমাবাগানে এমন ঘটনা হয়েছে বলে আমরা জানি। কিন্তু টাকার বিনিময়ে মেয়ের মা-বাবার সাথে সমাধান হওয়ায় এবং মেয়েটির পরিবার এ ব্যাপারে নিরব থাকায় এলাকাবাসী নি:শ্চুপ।
এদিকে শিশুটির মা জানান, আমার মেয়েকে ফুসলিয়ে বাগানে নিয়ে গিয়ে অন্যায় কাজ করেছে।পরে ধান-চাল ব্যবসায়ী আমিনুল মঙ্গলবার ৪০ হাজার টাকায় ধর্ষনের সালিশ করে দেন।আমরা বিচার মেনে নিয়েছি।
এ ব্যাপারে ধর্ষনের সালিশকারী ও ধান-চাল ব্যবসায়ী আমিনুল ইসলাম এবং অভিযুক্ত ব্যক্তির সাথে সরাসরি ও মোবাইল ফোনে অনেকবার যোগাযোগের চেষ্টা করেও তাদের সাথে যোগাযোগ করা সম্ভব হয়নি। এ বিষয়ে কথা বলতে পাবর্তীপুর ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান মো. লিয়াকত আলী খানের যোগাযোগ করা হলে তারও মুঠোফোন বন্ধ পাওয়া যায়।তার বাড়িতে যোগাযোগ করা হলে তিনি অসুস্থ এবং দেখা করতে পারবেননা বলে জানিয়ে দেয়া হয়। এদিকে এ ব্যাপারে গোমস্তাপুর থানার অফিসার-ইন-চার্জ (ওসি) জসীম উদ্দীন জানান, এবিষয়ে এখন পর্যন্ত থানায় কোন অভিযোগ পাওয়া যায়নি। অভিযোগ পেলে প্রয়োজনীয় আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।

ভোলাহাটে অপরিকল্পিত খাল ভরাট;পানিবন্দি অনেক পরিবার

ভোলাহাট প্রতিনিধি: চাঁপাই নবাবগঞ্জ জেলার ভোলাহাট উপজেলার সদর ইউনিয়নের শিকারী গ্রামের পাশ দিয়ে হাউসপুর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় হতে শিকারী জামে মসজিদ পর্যন্ত সদর ইউনিয়নের অধিনস্থ খালটি অপরিকল্পিতভাবে ভরাটের কারনে পানি বন্দি হয়ে পড়েছে ১৫টি পরিবার। ভুক্তভোগীদের অভিযোগ অবৈধভাবে মাটি ভরাট করেছে এক কুচক্রী মহল ফলে জলাবদ্ধতার সৃষ্টি হয়েছে। প্রায় এক মাস ধরে মানবেতর জীবনযাপন করছে পরিবারগুলো। এ ব্যাপারে সংশ্লিষ্ট ইউপি চেয়ারম্যান ইয়াজদানী জর্জ জানান, বারবার অবৈধভাবে দখলদারদের নোটিশ করার পরও তারা বেঅাইনিভাবে ভোগদখল করে অাছে।তবে তিনি অারও জানান উপজেলাব্যাপি চলমান অবৈধ স্থাপনা উচ্ছেদের অংশ হিসেবে অবৈধভাবে দখল হওয়া খালটি অচিরেই দখলমুক্ত হবে।

রহনপুর রেলস্টেশনে সাবেক সাংসদ জিয়াউর রহমানকে সংবর্ধনা

গোমস্তাপুর( চাঁপাইনবাবগঞ্জ )প্রতিনিধি: কমিউটার ট্রেন পুণরায় চালু হওয়ায রহনপুর রেলস্টেশনে  সাবেক সংসদ সদস্য জিয়াউর রহমানকে গণসংবর্ধনা দিয়েছে নাচোল-গোমস্তাপুর-ভোলাহাট উপজেলার এলাকাবাসী। বৃহস্পতিবার রাতে রহনপুর রেলস্টেশন চত্বরে আয়োজিত এ সংবর্ধনা সভায় সভাপতিত্ব করেন রহনপুর উন্নয়ন আন্দোলনের মুখপাত্র নাজমুল হুদা খান রুবেল। এ সময় বক্তব্য রাখেন,আওয়ামী লীগ নেতা মতিউর রহমান খান মতি। করোনার কারণে বন্ধ হয়ে যাওয়া রহনপুর-রাজশাহী রুটের কমিউটার ট্রেন পুনরায় চালু হওয়ায় এলাকাবাসীর পক্ষ থেকে তাকে এ সংবর্ধনা প্রদান করা হয়। উল্লেখ্য গত সোমবার তিনি সচিবালয়ে রেলমন্ত্রী নুরুল হক সুজন এর সাথে দেখা করে বন্ধ থাকা কমিউটার ট্রেন পুনরায় চালুর বিষয়ে মন্ত্রীকে অনুরোধ জানালে মন্ত্রী ট্রেনটি চালু করার জন্য সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষকে নির্দেশ দেন । ফলে বৃহস্পতিবার থেকে ট্রেনটি পুনরায় চালু হয়।