সর্বশেষ সংবাদ নুরকে খোলা চিঠি মাক্স না পড়লে মিলবেনা সরকারী সেবা গোমস্তাপুরে বেতনের অভাবে মানবেতর জীবন যাপন ৪ শতাধিক কে.জি’র শিক্ষকের বিডিপিএ এর চাঁপাইনবাবগঞ্জ জেলা শাখার বিশেষ সভা রোহিঙ্গাদের জন্য জাপানের ৫ মিলিয়ন ডলার উন্নয়নশীল দেশ ২০২৪ ই নতুন গ্যাসক্ষেত্র অনুসন্ধানে ৭টি প্রস্তাব অনুমোদন গোমস্তাপুর অটোর ধাক্কায় শিশুর মৃত্যু bring all drivers under a dope testing system: PM দুর্গাপূজা উপলক্ষে প্রকাশ হয়েছে ‘হরিবোল’

শিবগঞ্জের গণহত্যা দিবস উপলক্ষে আলাচনা ও দোয়ামাহফিল অনুষ্ঠিত

শিবগঞ্জ (চাঁপাইনবাবগঞ্জ) প্রতিনিধি:

শিবগঞ্জ উপজেলার মনাকষা ইউনিয়নে গণহত্যা দিবস পালন উপলক্ষে আলাচনা সভা ও দায়া মাহফিল অনুষ্ঠিত হয়েছে। বুধবার সন্ধ্যায় মনাকষা ইউনিয়ন বাংলাদশ আওয়ামী প্রজন্মলীগের উদ্যোগে ও আয়োজিত মনাকষা ইউনিয়নের হুমায়ুন রেজা উচ্চবিদ্যালয় মিলনায়তনে শহীদের স্মরণে জনাব রাইসুদ্দিনের সভাপতিত্বে প্রধান অথিতি হিসাব উপস্থিত ছিলেন স্থানীয় সংসদ সদস্য ডা: সামিল উদ্দিন আহমদ শিমুল। থানা আওয়ামীলীগের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক তোহিদুল আলম টিয়ার সঞ্চালনায় বিশেষ অথিতি হিসাবে উপস্থিত ছিলেন মনাকষা দশর প্রথম যুদ্ধপরাধী মামলার বাদী শহীদ সন্তান বদিউর রহমান বুদ্ধু, ইউনিয়ন আওয়ামীলীগের সাধারণ সম্পাদক সারওয়ার জাহান শরফান, মনাকষা বালিকা উচবিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক আরিফ উদ্দিন, আদিনা কলেজের সাবেক ভিপি ফাইজুদ্দিন আহম্মেদ, বাংলাদেশ আওয়ামী প্রজন্ম লীগের ইউনিয়ন শাখার সভাপতি আজম আলি, সাধারণ সম্পাদক আসমাউল হক প্রমুখ। সভায় প্রধান অথিতি এমপি শিমুল বলেন, আগামী ডিসেম্বর মাসের মধ্যে মনাকষা হুমায়ূন রেজা উচ্চবিদ্যালয়ের পিছেন গণকবর ঘেরা হবে এবং শহীদের নামের তালিকা সহ স্মতিফলন নির্মান করা হবে। তিনি আরও বলেন ১৯৭১সালের স্বাধীনতা যুদ্ধে শহীদের আত্মত্যাগের মাধ্যমেই আজকের স্বাধীন বাংলাদেশকে প্রধান মন্ত্রী শেখ হাসিনার নেতৃত্বে ডিজিটাল বাংলাদেশ গড়া সম্ভব হয়েছে এবং দেশ আজ বিশ্বের বুকে মাথা উঁচু করে দাঁড়াতে সক্ষম হয়েছ। তাই আমাদের দায়িত্ব ও কর্তব্য হলো শহীদের প্রতি শ্রদ্ধা নিবেদন করা ও তাদের পরিবার গুলোর প্রতি আমাদের সুদৃষ্টি দেয়া। তিনি আরোও বলেন সরকার পদক্ষেপ নিয়েছেন যে আগামী বিজয় দিবসের আগে রাজাকারদের নামের তালিকা প্রকাশ করা হয়। আমি চেষ্টা করছি বিশেষ করে এখানে যে ১৩জন শহীদের গণকরব আছে তা সংরক্ষন করা ও প্রতিবছরই যেন ৭ই অক্টোবর দিবসটি পালিত হয় সে ব্যবস্থা গ্রহন করা। আলাচনা সভা শেষে শহীদের রুহের মাগফেরাতের জন্য বিশেষ মোনাজাত করা হয়। উল্লেখ্য যে ১৯৭১সালে মুক্তিযুদ্ধো চলাকালীন ৭অক্টোবর দেশীয় রাজাকারদের সহায়তায় পারচৌকা, সিংনগর, বনকুল ও হাউসনগর গ্রামের মুক্তিযোদ্ধাদের আত্মীয় ও মুক্তিযুদ্ধের পক্ষের ১৩জন নিরীহ মানুষকে বাড়ি থেকে ধরে এনে হুমায়ণ রেজা উচ্চবিদ্যালয়ের পিছনে গুলি করে হত্যা করে এক রাজাকারের জমিতে সামান্য গর্ত করে পুঁতে রাখে। যা এখনো অবহেলিত রয়েছে। এই ১৩জন হলো পারচৌকা গ্রামের শহীদ মুসলিম উদ্দিন, এসলাম আলি, অবোল হোসেন, আমজাদ হোসেন, খোকা আলি, শামসুদ্দিন, হাউসনগর গ্রামের আব্দুর রশিদ, আরশাদ আলি, ফাইজুল ইসলম, গুদোড় আলি, বনকুল গ্রামের, ভূরণ, ফরিদ উদ্দিন, সিংনগর গ্রামের জুনাব আলি।

চাঁপাইনবাবগঞ্জে র‌্যাবের অভিযানে ২ কোটি টাকার হেরোইনসহ আটক ১


চাঁপাইনবাবগঞ্জ প্রতিনিধি ॥ বিপুল পরিমান মাদক পাচারের গোপন সংবাদে অভিযান চালিয়ে ২ কোটি টাকা মূল্যের ১ কেজি ৯৯০ গ্রাম হেরোইনসহ ১ শীর্ষ মাদক ব্যবসায়ীকে আটক করেছে র‌্যাব-৫ এর চাঁপাইনবাবগঞ্জ ক্যাম্পের একটি দল। বুধবার দুপুর ২টার দিকে রাজশাহী জেলার গোদাগাড়ী উপজেলার রামনগর গ্রামের হেলিপ্যাড এলাকা থেকে হেরোইনসহ আটক করা হয় চাঁপাইনবাবগঞ্জ পৌর এলাকার নিউ ইসলামপুর মহল্লার কাঞ্চন মিয়ার ছেলে মো. রবিজুল ইসলাম (৫০) কে। বুধবার বিকেলে র‌্যাব-৫ রাজশাহী’র সহকারী পরিচালকের পাঠানো এক প্রেসনাটে জানানো হয়, গোপন সংবাদের ভিত্তিতে গোদাগাড়ীতে রামনগর গ্রামের হেলিপ্যাড এলাকায় অভিযান পরিচালনা করে ২ কোটি টাকা মূল্যের ১ কেজি ৯৯০ গ্রাম হেরোইনসহ হাতেনাতে রবিজুলকে গ্রেফতার করা হয়। এসময় তার কাছ থেকে ১টি মোবাইল সেট ও সীমকার্ড উদ্ধার করা হয়। প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে রবিজুল দীর্ঘদিন থেকেই মাদক ব্যবসার সাথে জড়িত থাকার কথা স্বীকার করেছে। এ ঘটনায় গোদাগাড়ী থানায় একটি মামলা করা হয়েছে।

ভোলাহাটে সিটি ব্যাংক এজেন্ট ব্যাংকিং অফিস উদ্বোধন।

স্টাফ রিপোর্টারঃ ভোলাহাটে সিটি ব্যাংক এজেন্ট ব্যাংকিং অফিস উদ্বোধন করা হয়েছে। ৭ অক্টোবর বুধবার বিকাল ৪ টার সময় ভোলাহাট কলেজ মোড়ের একতা মার্কেট (২য় তলায়) উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি ছিলেন, উত্তরবঙ্গ আঞ্চলিক প্রধান এসএভিপি সাইফুল ইসলাম। এসময় আব্দুল লতিবের সভাপতিত্বে বিশেষ অতিথি হিসেবে বক্তব্য রাখেন, ভোলাহাট উপজেলা পরিষদের মহিলা ভাইস চেয়ারম্যান শাহনাজ খাতুন, জেলা পরিষদ সদস্যদ্বয় পিয়ার জাহান ও হোসনে আরা পাখি, গোহালবাড়ি ইউনিয়ন পরিষদ চেয়ারম্যান আব্দুল কাদের, ভোলাহাট পল্লী বিদ্যুৎ সাব জোনাল অফিসের এজিএম রুহুল আমিন, ভোলাহাট প্রেস ক্লাবের সভাপতি গোলাম কবির, সিটি ব্যাংক লিমিটেডের এরিয়া ম্যানাজার রবিউল ইসলামসহ অন্যরা। উদ্বোধনী অনুষ্ঠানটি সঞ্চলনা করেন ভোলাহাট সিটি ব্যাংক এজেন্ট ব্যাংকিং এর এজেন্ট (ম্যানেজার) বি.এম রুবেল আহমদে।

বৃহস্পতিবার চালু হচ্ছে রহনপুর -রাজশাহী রুটের কমিউটার ট্রেন

গোমস্তাপুর   (চাঁপাইনবাবগঞ্জ) প্রতিনিধি ঃ করোনার কারণে বন্ধ হয়ে যাওয়া রহনপুর-রাজশাহী রুটে চলাচলকারী কমিউটার ট্রেন আজ বৃহস্পতিবার থেকে পুণরায় চালু  হচ্ছে। আজ বৃহস্পতিবার সকাল ৯ টায়  ট্রেনটি  রহনপুরের উদ্দেশ্যে রাজশাহী রেলস্টেশন ত্যাগ করবে ট্রেনটি পূর্বের মত চলাচল করবে বলে রেল কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে। গত সোমবার চাঁপাইনবাবগঞ্জ -২আসনের সাবেক সাংসদ জিয়াউর রহমান সচিবালয়ে রেলমন্ত্রীর নুরুল ইসলাম সুজনের সাথে সঙ্গে সাক্ষাত করলে তিনি ট্রেনটি দ্রুত চালুর নির্দেশ দেন। ট্রেনটি চালু হলে চাঁপাইনবাবগঞ্জ এলাকার  বিশেষ করে  নওগাঁর দুটি  ও চাঁপাইনবাবগঞ্জের চারটি উপজেলার  জনসাধারণ উপকৃত হবে।  উল্লেখ্য. ট্রেনটি পুনরায় চালুর জন্য  গত ২৩ সেপ্টেম্বর  রহনপুর উন্নয়ন আন্দোলনের পক্ষ থেকে  রেলমন্ত্রী কে  একটি  স্মারকলিপি প্রদান করা হয়। রহনপুর রেলওয়ে ষ্টেশন মাষ্টার মামুনুর রশীদ জানান. ট্রেনটি আগের নিয়মে যথাসময়ে চলাচল করবে রহনপুর উন্নয়ন আন্দোলনের মুখপাত্র নাজমুল হুদা খান রুবেল জানান,ট্রেন চালুর বিষয়ে রেলমন্ত্রীর নির্দেশনা বাস্তবায়িত হলে রহনপুর -রাজশাহী রুটে চলাচলকারী যাত্রীদের দুর্ভোগ কিছুটা লাঘব হবে।

ধর্ষণ ও নারীর প্রতি সহিংসতা বন্ধে এবং জড়িতদের দ্রুত গ্রেফতার ও বিচারের দাবিতে চাঁপাইনবাবগঞ্জ ছাত্রলীগের ” আলোক প্রজ্বলন “

বাংলাদেশ ছাত্রলীগের সারাদেশব্যপী কেন্দ্রীয় কর্মসূচির অংশ হিসেবে চাঁপাইনবাবগঞ্জ জেলা ছাত্র লীগ আজ সন্ধায় শহরের আব্দুল মান্নান সেন্টু মার্কেটের সামনে মুজিব চত্বরে আলোক প্রজ্বলন কর্মসূচি পালন করে। এতে উপস্থিত ছিলেন চাঁপাইনবাবগঞ্জ জেলা ছাত্র লীগের সভাপতি আরিফুর রেজা ইমন, সাধারণ সম্পাদক ডাঃ সাঈফ জামান আনন্দ সহ সদর উপজেলা, পৌর ছাত্র লীগ সহ বিভিন্ন ইউনিটের নেতৃবৃন্দ উপস্থিত ছিলেন। নোয়াখালীর একলাশ পুরে গৃহবধূর উপর নির্যাতন ও ধর্ষণ চেষ্টা, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়র ধর্ষণ চেষ্টা, কুষ্টিয়ায় মাদ্রাসা ছাত্রী ধর্ষণ সহ দেশে সংগঠিত নারীর প্রতি সহিংসতা বন্ধ ও এ সব ঘটনার সাথে জড়িতদের বিচারের দাবিতে এ কর্মসূচি পালন করে চাঁপাইনবাবগঞ্জ জেলা ছাত্র লীগ।

ধর্ষণের সর্বোচ্চ সাজা মৃত্যুদণ্ড চাইলো ছাত্রলীগ!


ধর্ষণের সর্বোচ্চ সাজা মৃত্যুদণ্ড চাইছে ছাত্রলীগ। সংগঠনটির এক নেতা প্রধানমন্ত্রী কার্যালয়ের মুখ্য সচিবকে এই দাবিতে আইনি নোটিস দিয়েছেন। দাবি না মানলে আইনি ব্যবস্থা নেয়ার কথাও বলা হয়েছে।

সম্প্রতি ছাত্রলীগের বেশ কয়েকজন নেতা-কর্মীর বিরুদ্ধে উঠা অভিযোগের প্রেক্ষিতে বলা হয়েছে, রাজনৈতিক পরিচয়ের কারণে কেউ যেন রক্ষা না পায়।

দেশের বিভিন্ন স্থানে ধর্ষণ ও নারী নির্যাতনের প্রতিবাদ এবং জড়িতদের দ্রুত গ্রেপ্তার ও বিচারের দাবিতে মঙ্গলবার সন্ধ্যায় মোমবাতি প্রজ্জ্বালন কর্মসূচি পালন করে ছাত্রলীগ। এ সময় সংগঠনের শীর্ষ নেতারা এই মন্তব্য করেন।

ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় ক্যাম্পাসে এই কর্মসূচি পালন শেষে একটি মিছিলও করেছে ছাত্রলীগ। রাজু ভাস্কর্য থেকে শুরু হয়ে মিছিলটি শেষ হয় কেন্দ্রীয় শহীদ মিনারে।

ছাত্রলীগ সভাপতি আল নাহিয়ান খান জয় বলেন, ‘আমরা ধর্ষকদের বিচার চাচ্ছি। ধর্ষক ও নারীর প্রতি নির্যাতনকারী যে দলেরই হোক, আমাদের দাবি থাকবে এদের আইনের আওতায় এনে সর্বোচ্চ শাস্তি নিশ্চিত করার।’

ধর্ষকদের ‘সমাজের সবচেয়ে নিকৃষ্ট প্রাণী’ উল্লেখ করে জয় বলেন, ‘তাদের কোনো দল নেই। ধর্ষক যে কেউই হোক না কেন তাকে বিচারের আওতায় আনতে হবে।’

সম্প্রতি সিলেটের এমসি কলেজে গৃহবধূকে ধর্ষণের মামলায় যাদের নাম এসেছে তাদের সবাই ছাত্রলীগের নেতা-কর্মী। পুলিশ এরই মধ্যে আসামিদের গ্রেফতার করেছে।

ধর্ষণের অভিযোগে গ্রেফতার হয়েছেন ঢাকা উত্তর মহানগর ছাত্রলীগের শীর্ষস্থানীয় একজন নেতাও।

তাদের সবাইকে সংগঠন থেকে বহিষ্কার করেছে ছাত্রলীগ।

ছাত্রলীগ সভাপতি বলেন, ‘আমরা ইতিমধ্যে ধর্ষণের সর্বোচ্চ শাস্তি মৃত্যুদণ্ড ও দ্রুত বিচার সম্পন্নের দাবিতে আইনি নোটিস দিয়েছি। এতে করে ধর্ষকরা ধর্ষণ করতে ভয় পাবে। আমরা ধর্ষককে সামাজিকভাবে বয়কট করার দাবি জানিয়েছি।’

হেনস্তা কিংবা ধর্ষণের শিকার হলে নারীদের ছাত্রলীগের নেতাকর্মীদের জানাতে অনুরোধ জানান জয়।

বলেন, ‘আমরা মা বোনদের অনুরোধ করব, তারা যদি কোথাও কোন হেনস্তার শিকার হয়, ধর্ষণের শিকার হয় তাহলে যেন ছাত্রলীগের নেতাকর্মীদের জানায়। তাহলে আমরা তাদের ধরে আইন-শৃঙ্খলা বাহিনীর হাতে তুলে দেব।

‘ছাত্রলীগের নেতাকর্মীরা প্রতিটি ঘটনার বিচার নিশ্চিত করে ছাড়বে।’

ছাত্রলীগের সাধারণ সম্পাদক লেখক ভট্টাচার্য বলেন, ‘ছাত্রলীগের নেতাকর্মীরা সবসময় সচেষ্ট থাকবে যেন কোনো ধর্ষণ না হয়।’

ধর্ষণ নিয়ে রাজনীতি না করাও আহ্বান জানান এই ছাত্রলীগ নেতা।

মৃত্যুদণ্ডের সাজা চেয়ে আইনি নোটিস

ধর্ষকদের সর্বোচ্চ সাজা মৃত্যুদণ্ড চেয়ে আইন সংশোধনের জন্য আইনি নোটিস পাঠিয়েছেন এক ছাত্রলীগ নেতা। ধর্ষণের মামলা বিচারে দ্রুত বিচার ট্রাইব্যুনাল গঠনের দাবিও জানানো হয়েছে।

ছাত্রলীগের আইন সম্পাদক মোহাম্মদ ফুয়াদ হোসেনের পক্ষে আইনজীবী রাশিদা চৌধুরী নোটিসটি পাঠিয়েছেন।

আইনজীবী রাশিদা চৌধুরী জানান, মন্ত্রিপরিষদ সচিব, প্রধানমন্ত্রী কার্যালয়ের মুখ্য সচিব, আইন মন্ত্রণালয়ের দুই সচিব এবং মহিলা ও শিশু বিষয়ক মন্ত্রণালয়ের সচিবকে তিনি নোটিসটি পাঠিয়েছেন। ৪৮ ঘণ্টার মধ্যে পদক্ষেপ না নিলে আইনি ব্যবস্থা নেয়ার কথা বলা হয়েছে এতে।

প্রচলিত আইনে ধর্ষণের দায়ে যাবজ্জীবন সাজার বিধান রয়েছে। তবে দলগত ধর্ষণ ও ধর্ষণের পরে হত্যা হলে মৃত্যুদণ্ডের বিধান আছে।

বিশ্বে পরিবেশবান্ধব শীর্ষ ১০ শিল্প স্থাপনায় বাংলাদেশের ১৪টি


পরিবেশবান্ধব কারখানা স্থাপনে এক অনন্য উচ্চতায় পৌঁছে গেছে বাংলাদেশের পোশাক ও বস্ত্র খাত। সেই সাফল্যে যোগ হচ্ছে নিত্যনতুন পালক। তার মধ্যে সর্বশেষ সংযোজন—পরিবেশবান্ধব শীর্ষ দশে স্থান করে নেওয়া বিশ্বের ২৭টি শিল্প স্থাপনার মধ্যে ১৪টিই বাংলাদেশের কারখানা। এ ছাড়া ভারতের ৩টি ও তাইওয়ানের ২টি কারখানা রয়েছে। পাকিস্তান, শ্রীলঙ্কা, পোল্যান্ড, মেক্সিকো, ইউএই, ইতালি, ইন্দোনেশিয়া ও আয়ারল্যান্ডের একটি করে কারখানা আছে শীর্ষ দশে।

পোশাকশিল্পের উদ্যোক্তা সাজ্জাদুর রহমান মৃধার হাত ধরে ২০১২ সালে প্রথম পরিবেশবান্ধব কারখানার যাত্রা শুরু হয় বাংলাদেশে। পাবনার ঈশ্বরদী ইপিজেডে তিনি স্থাপন করেন ভিনটেজ ডেনিম স্টুডিও। তাঁর দেখানো পথ ধরে ইতিমধ্যে পরিবেশবান্ধব পোশাক কারখানা ও বস্ত্রকলের সেঞ্চুরি হয়েছে। নির্দিষ্ট করে বললে, ১২৫টি।

পোশাকশিল্পের উদ্যোক্তা সাজ্জাদুর রহমান মৃধার হাত ধরে ২০১২ সালে প্রথম পরিবেশবান্ধব কারখানার যাত্রা শুরু হয় বাংলাদেশে। পাবনার ঈশ্বরদী ইপিজেডে তিনি স্থাপন করেন ভিনটেজ ডেনিম স্টুডিও। তাঁর দেখানো পথ ধরে ইতিমধ্যে পরিবেশবান্ধব পোশাক কারখানা ও বস্ত্রকলের সেঞ্চুরি হয়েছে। নির্দিষ্ট করে বললে, ১২৫টি। তার বাইরে শিপইয়ার্ড, জুতা, ও ইলেকট্রনিক পণ্য নির্মাণেও আছে পরিবেশবান্ধব কারখানা। বাণিজ্যিক ভবনও হচ্ছে। তবে অন্য যেকোনো দেশের চেয়ে বর্তমানে বাংলাদেশেই সবচেয়ে বেশি পরিবেশবান্ধব পোশাক ও বস্ত্রকল। সেগুলো যে আবার যেনতেন মানের নয়, সেটি আগেই বলা হয়েছে।

সারা বিশ্বের বেশ কিছু প্রতিষ্ঠান পরিবেশবান্ধব স্থাপনার সনদ দিয়ে থাকে। তাদের মধ্যে একটি মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের ইউএস গ্রিন বিল্ডিং কাউন্সিল (ইউএসজিবিসি)। প্রতিষ্ঠানটি ‘লিড’ নামে পরিবেশবান্ধব স্থাপনার সনদ দিয়ে থাকে। লিডের পূর্ণাঙ্গ রূপ লিডারশিপ ইন এনার্জি অ্যান্ড এনভায়রনমেন্টাল ডিজাইন। সনদটি পেতে একটি প্রকল্পকে ইউএসজিবিসির তত্ত্বাবধানে নির্মাণ থেকে উৎপাদন পর্যন্ত বিভিন্ন বিষয়ে সর্বোচ্চ মান রক্ষা করতে হয়। ভবন নির্মাণ শেষ হলে কিংবা পুরোনো ভবন সংস্কার করেও আবেদন করা যায়।

১৯৯৩ সালে প্রতিষ্ঠিত হয় ইউএসজিবিসি। সংস্থাটির অধীনে কলকারখানার পাশাপাশি বাণিজ্যিক ভবন, স্কুল, হাসপাতাল, বাড়ি, বিক্রয়কেন্দ্র, প্রার্থনাকেন্দ্র ইত্যাদি পরিবেশবান্ধব স্থাপনা হিসেবে গড়ে তোলা যায়। গত বছরের নভেম্বরে লিড সনদ পাওয়া বাণিজ্যিক স্থাপনার সংখ্যা এক লাখ ছাড়িয়ে যায়। লিড সনদের জন্য ৯টি শর্ত পরিপালনে মোট ১১০ পয়েন্ট আছে। এর মধ্যে ৮০ পয়েন্টের ওপরে হলে ‘লিড প্লাটিনাম’, ৬০-৭৯ হলে ‘লিড গ্লোড’, ৫০-৫৯ হলে ‘লিড সিলভার’ ও ৪০-৪৯ হলে ‘লিড সার্টিফায়েড’ সনদ মেলে।

পরিবেশবান্ধব শীর্ষ দশে স্থান করে নেওয়া ২৭টি শিল্প স্থাপনার মধ্যে ১৪টিই বাংলাদেশের কারখানা। ২০১৮ সালের ২৮ মের আগে সবচেয়ে বেশি পয়েন্ট পাওয়া পরিবেশবান্ধব কারখানা ছিল রেমি হোল্ডিংস।

বাংলাদেশের পরিবেশবান্ধব স্থাপনাগুলো ইউএসজিবিসির অধীনে সনদ পেয়েছে। গত ৭ সেপ্টেম্বর পর্যন্ত বাংলাদেশের ১৪৪টি স্থাপনা লিড সনদ পেয়েছে। তার মধ্যে লিড প্লাটিনাম ৪১টি, গ্লোড ৮৭টি, সিলভার ১৪টি ও ২টি সার্টিফায়েড সনদ পেয়েছে। সনদ পাওয়া ১৪৪টি স্থাপনার মধ্যে পোশাক ও বস্ত্র খাতের কারখানা হচ্ছে ১২৫টি।
ইউএসজিবির বরাত দিয়ে তৈরি পোশাকশিল্প মালিকদের সংগঠন বিজিএমইএর রিসার্চ, ডেভেলপমেন্ট অ্যান্ড ট্রেড ইনফরমেশন (আরডিটিআই) সেল জানায়, পরিবেশবান্ধব শীর্ষ দশে স্থান করে নেওয়া ২৭টি শিল্প স্থাপনার মধ্যে ১৪টিই বাংলাদেশের কারখানা। ২০১৮ সালের ২৮ মের আগে সবচেয়ে বেশি পয়েন্ট পাওয়া পরিবেশবান্ধব কারখানা ছিল রেমি হোল্ডিংস।

বর্তমানে ১১০ পয়েন্টের মধ্যে ১০১ নিয়ে শীর্ষ স্থানে রয়েছে ইন্দোনেশিয়ার পিটি ইউএনগ্রান সারি গার্মেন্টস প্রিনগাপাস ৬ অ্যান্ড ৭। আর ৯৭ পয়েন্ট নিয়ে দ্বিতীয় শীর্ষ অবস্থানে রয়েছে বাংলাদেশের বিটপী গ্রুপের রেমি হোল্ডিংস। কর্মক্ষেত্রে সূর্যের আলো ব্যবহার, বৃষ্টির পানি সংরক্ষণ, বিদ্যুৎ ও গ্যাস সাশ্রয়, ভেতরে-বাইরে গাছ এবং অত্যাধুনিক যন্ত্রপাতি ব্যবহারে শ্রমিকদের কায়িক পরিশ্রম কমিয়ে আনায় সর্বোচ্চ দক্ষতা—এসবই নারায়ণগঞ্জের আদমজী ইপিজেডের এই কারখানাকে সবচেয়ে বেশি নম্বর এনে দিয়েছে। বিটপী গ্রুপের আরেকটি কারখানা তারাসিমা অ্যাপারেলস ৯৩ পয়েন্ট নিয়ে তৃতীয় অবস্থানে।

বিশ্বে পরিবেশবান্ধব শীর্ষ ১০ শিল্প স্থাপনায় বাংলাদেশের ১৪টি কারখানা জায়গা করে নেওয়াটা বিশাল ব্যাপার। তবে যতক্ষণ না দেশ হিসেবে পরিবেশবান্ধব কারখানার ব্র্যান্ডিং হবে, ততক্ষণ পর্যন্ত এটির পোশাকশিল্প সুফল পাবে না।

প্লামি ফ্যাশনসের ব্যবস্থাপনা পরিচালক ফজলুল হক

চতুর্থ বাংলাদেশের প্লামি ফ্যাশনস ও শ্রীলঙ্কার ব্র্যান্ডডিক্স অ্যাপারেল। তাদের উভয়ের পয়েন্ট ৯২। নারায়ণগঞ্জ সদর উপজেলার কাশিপুর ইউনিয়নের উত্তর নরসিংহপুরে প্লামি ফ্যাশনস ২০১৫ সালে যাত্রা শুরু করে। ২১ বিঘা জমির ৬২ শতাংশ জায়গা উন্মুক্ত রেখে প্লামির মূল কারখানাটি করা হয়েছে। দুই তলাবিশিষ্ট কারখানার চারপাশে স্বচ্ছ কাচের কারণে পর্যাপ্ত পরিমাণে সূর্যের আলো ভেতরে আসে। সে জন্য বৈদ্যুতিক বাতির প্রয়োজন কম হয়। বৃষ্টির পানি ধরে রাখার জন্য ভূগর্ভে নির্মাণ করা হয়েছে একাধিক জলাধার। সেই পানি ব্যবহারের পাশাপাশি বাথরুমে পানিসাশ্রয়ী কল লাগানো হয়েছে। এসব কারণে কারখানাটিতে বিদ্যুৎ ও পানির ব্যবহার ৪০ শতাংশের কম। প্লামি ফ্যাশনস নিট পোশাক তৈরি করা বিশ্বের প্রথম পরিবেশবান্ধব কারখানা।

জানতে চাইলে প্লামি ফ্যাশনসের ব্যবস্থাপনা পরিচালক ফজলুল হক প্রথম আলোকে বলেন, বিশ্বে পরিবেশবান্ধব শীর্ষ ১০ শিল্প স্থাপনায় বাংলাদেশের ১৪টি কারখানা জায়গা করে নেওয়াটা বিশাল ব্যাপার। তবে যতক্ষণ না দেশ হিসেবে পরিবেশবান্ধব কারখানার ব্র্যান্ডিং হবে, ততক্ষণ পর্যন্ত এটির পোশাকশিল্প সুফল পাবে না। সে জন্য শুরুতে উদ্যোক্তাদের মধ্যে পরিবেশবান্ধব কারখানা স্থাপনে যে আগ্রহ ছিল, বর্তমানে তাতে কিছুটা ভাটা পড়েছে। তবে পরিবেশবান্ধব কারখানা যত বেশি, তত বেশি দেশের উপকার হবে।

পরিবেশবান্ধব শিল্প স্থাপনার পঞ্চম শীর্ষ অবস্থানে রয়েছে মিথিলা টেক্সটাইল ইন্ডাস্ট্রিজ। লিড প্লাটিনাম সনদ পাওয়া এই কারখানার পয়েন্ট ৯১। ষষ্ঠ স্থানে রয়েছে চার দেশের ছয়টি কারখানা। সেগুলো হচ্ছে বাংলাদেশের ভিনটেজ ডেনিম স্টুডিও, আয়ারল্যান্ডের একটি কারখানা (নামটি প্রকাশ করা হয়নি), মেক্সিকোর কালোস কেএএস ফোর, ভারতের অ্যাকুয়ারলি সমুদ্র, বাংলাদেশের এআর জিনস প্রডিউসার ও কারনি নিট কম্পোজিট। ৮৯ পয়েন্ট নিয়ে ৭ নম্বর অবস্থানে রয়েছে বাংলাদেশের ডিজাইনার ফ্যাশনস ও পাকিস্তানের তাইগা অ্যাপারেল। আর অষ্টম অবস্থানে বাংলাদেশের দুই কারখানা গ্রিন টেক্সটাইলের ইউনিট-৩ ও কেনপার্ক ২। তাদের পয়েন্ট ৮৮।

৪ দেশের ৬টি কারখানা ৮৭ পয়েন্ট নিয়ে নবম স্থান দখল করে নিয়েছে। সেগুলো হচ্ছে বাংলাদেশের কলম্বিয়া ওয়াশিং প্ল্যান্ট, তোসরিফা ইন্ডাস্ট্রিজের ফেব্রিক ডিভিশন, কিউট ড্রেস ইন্ডাস্ট্রিজ, তাইওয়ানের টিএসএমসি এফ ১২ পি৩ এফএবি বিল্ডিং, ভারতের অর্গানিক ইন্ডিয়া প্রাইভেট লিমিটেডের প্রজেক্ট সানশাইন এবং সংযুক্ত আরব আমিরাতের ডিএসওএ—হাই বে বিল্ডিং। আর দশম স্থানে রয়েছে ইতালির বত্তেগা ভেনতা আর্টিলার, তাইওয়ানের টিএসএমসি এফ ১২ পি১ পি ২ এফএবি বিল্ডিং, পোল্যান্ডের এমএআরসি চকলেট ফ্যাক্টরি এক্সটেনশন, বাংলাদেশের ইকোটেক্স লিমিটেড এবং ভারতের এসএজিএস অ্যাপারেলস।

রানা প্লাজা ধসের পর আমাদের উদ্যোক্তাদের চাপ দিয়ে অনেক বিষয়ে কাজ করাতে হয়েছে। তবে পরিবেশবান্ধব কারখানা স্থাপনে তাঁরা নিজেরাই উদ্যোগ নিয়েছেন।

বিকেএমইএর সহসভাপতি মোহাম্মদ হাতেম

জানতে চাইলে নিট পোশাকশিল্প মালিকদের সংগঠন বিকেএমইএর সহসভাপতি মোহাম্মদ হাতেম গত বৃহস্পতিবার প্রথম আলোকে বলেন, ‘রানা প্লাজা ধসের পর আমাদের উদ্যোক্তাদের চাপ দিয়ে অনেক বিষয়ে কাজ করাতে হয়েছে। তবে পরিবেশবান্ধব কারখানা স্থাপনে তাঁরা নিজেরাই উদ্যোগ নিয়েছেন। ফলে বিশ্বের শীর্ষস্থানীয় পরিবেশবান্ধব শিল্প স্থাপনার মধ্যে আমাদের বেশ কয়েকটি কারখানা স্থান করে নেওয়াটা খুবই গর্বের বিষয়।’

মোহাম্মদ হাতেম আরও বলেন, ‘পরিবেশবান্ধব পোশাক ও বস্ত্র কারখানা স্থাপনে আমরা অন্য যেকোনো প্রতিযোগী দেশের চেয়ে অনেক এগিয়ে। ফলে বিশ্ববাসীর সামনে পরিবেশবান্ধব কারখানার ব্র্যান্ডিং করে আমাদের শিল্পের ভাবমূর্তি উজ্জ্বল করা সম্ভব। তবে দুঃখজনক হলেও সত্য, ব্র্যান্ডিংয়ে আমাদের দুর্বলতা আছে। যদিও আমরা ব্যক্তিগতভাবে দেশ-বিদেশে ব্র্যান্ডিংয়ের চেষ্টা করি। সম্মিলিতভাবে কাজটি করা গেলে খুবই ভালো হয়।

সাধারণত অন্যান্য স্থাপনার চেয়ে পরিবেশবান্ধব স্থাপনায় ৫-২০ শতাংশ খরচ বেশি হয়। তবে বাড়তি খরচ করলেও দীর্ঘমেয়াদি সুফল পাওয়া যায়। ইউএসজিবিসি শর্ত পরিপালনে স্থাপনায় এমন নির্মাণসামগ্রী ব্যবহার করতে হয়, যাতে কার্বন নিঃসরণ কম হয়।

সড়ক ও রেলপথের মাধ্যমে বিরল স্থলবন্দর সচলে জোর তৎপরতা

উত্তরাঞ্চলের সীমান্ত জেলা দিনাজপুরের বিরল স্থলবন্দর সচল করতে জোর তৎপরতা চলছে। একইভাবে ভারতের সীমান্তের রাধিকাপুর অংশেও চলছে বিভিন্ন কার্যক্রম। বাংলাদেশ-ভারত সরকার সড়কপথে সরাসরি যাত্রীসহ পণ্য পরিবহনে একমত হওয়ার পর সংলগ্ন স্থলবন্দর দুটিকে কার্যকর করে তুলতে উভয় দেশই নিচ্ছে বিভিন্ন পদক্ষেপ।

এই কার্যক্রমের অংশ হিসেবে বিরল স্থলবন্দরে ইমিগ্রেশন, কাস্টমস ও বিজিবি চেকপোস্টের নির্মাণ কাজ শুরু হয়েছে। কূটনৈতিক পর্যায়ে চুক্তির কার্যক্রম সম্পন্ন হলেই সড়ক ও রেলপথের একমাত্র এ স্থলবন্দর দিয়ে চার দেশে (বাংলাদেশ, ভারত, ভুটান ও নেপাল) পণ্য আমদানি-রপ্তানির দ্বার উন্মুক্ত হবে। বাণিজ্যিক সেতুবন্ধ রচিত হবে চার দেশের মধ্যে। সমৃদ্ধ হবে দেশের অর্থনীতির চাকা। কর্মসংস্থান হবে অনেকের।

এ বিষয়ে নৌপরিবহন মন্ত্রণালয়ের সচিব মোহাম্মদ মেজবাহ্‌ উদ্দিন চৌধুরী বলেন, দিনাজপুরের বিরল স্থলবন্দর এবং ভারতের রাধিকাপুর এলসিএসের মাধ্যমে সড়কপথে বাণিজ্য চালুর কার্যক্রম শুরু হয়েছে। বন্দরটি সচল করতে বাংলাদেশ-ভারত একমত হয়েছে। তবে শুধু বন্দরটি চালু করলেই হবে না, দুই দেশের বাণিজ্যিক স্বার্থ-সংশ্নিষ্ট অনেকগুলো বিষয় রয়েছে যেগুলোতে দুই দেশের নীতিনির্ধারকদের একমত হতে হবে। আলোচনা ফলপ্রসূ হলে বন্দর চালুর ক্ষেত্রে সব বাধা দূর হবে।

নৌপরিবহন মন্ত্রণালয় ও স্থলবন্দর কর্তৃপক্ষ বলছে, বন্দরটি সচল হলে বাণিজ্যিক সম্ভাবনার ক্ষেত্র তৈরি হবে। রাজস্ব আহরণের পাশাপাশি ভারত, নেপাল ও ভুটানের মধ্যে যোগসূত্র স্থাপন হবে। এই পথকে ব্যবহার করে সরাসরি ভারত হয়ে অন্যান্য দেশেও সহজে যাতায়াত করতে পারবে সাধারণ মানুষ।

এদিকে, সম্প্রতি বিরল স্থলবন্দরের সার্বিক কার্যক্রম পরিদর্শনে যান রেলপথ মন্ত্রী নূরুল ইসলাম সুজন ও নৌপরিবহন প্রতিমন্ত্রী খালিদ মাহমুদ চৌধুরী। পরিদর্শনকালে তারা দু’জনই স্থানীয় বাসিন্দাদের আশ্বাস দিয়ে বলেন, বন্দরটি চালু করার বিষয়ে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার প্রতিশ্রুতি রয়েছে। বঙ্গবন্ধু তনয়ার এই অঙ্গীকার এবার বাস্তবায়ন হবে। এ জন্য যত ধরনের পদক্ষেপ নেওয়া যায়, সবই নিতে সম্মত উভয় মন্ত্রণালয়। তারা বলেন, বিরল স্থলবন্দর চালু হলে সংশ্নিষ্ট এলাকার অর্ধ লক্ষাধিক মানুষের কর্মসংস্থানের পাশাপাশি চার দেশের ব্যবসা-বাণিজ্যও অর্থনৈতিকভাবে লাভবান হবে।

গত বছর দুই দিনব্যাপী জেলা প্রশাসক সম্মেলনে দিনাজপুরের জেলা প্রশাসক (ডিসি) বিরল স্থলবন্দর চালু হলে রাষ্ট্র কী ধরনের সুবিধা পাবে, তা জানিয়ে লিখিত প্রস্তাব দেন। তিনি তার প্রস্তাবে উল্লেখ করেন, বাংলাদেশ-ভারতের সঙ্গে সড়কপথে আরও বন্দর রয়েছে। তবে, বিরল স্থলবন্দর চালু হলে সড়কপথে সরাসরি পণ্য পরিবহনে শুধু ভারত নয়, নেপাল ও ভুটানের সঙ্গেও সেতুবন্ধ রচিত হবে। এ বন্দর থেকে মোটা অঙ্কের রাজস্ব আদায়ের সম্ভাবনা থাকলেও বর্তমানে বঞ্চিত হচ্ছে সরকার। কিন্তু দু’পক্ষের (বাংলাদেশ-ভারত) মধ্যে চুক্তি হলে, একদিকে রাজস্ব আয় বাড়বে, অন্যদিকে দু’পক্ষের মানুষের চলাচলে গতিশীলতা আসবে এবং কূটনীতিক সম্পর্ক আরও গভীর হবে।

ডিসির এই প্রস্তাবের পরিপ্রেক্ষিতে বিরল স্থলবন্দর এবং ভারতের রাধিকাপুর এলসিএসের মাধ্যমে সড়কপথে বাণিজ্য সম্প্রসারণে রুট ঘোষণার জন্য প্রথমে গত বছরের ২৪ জুন, পরে চলতি বছরের ২৯ মার্চ স্থলবন্দর কর্তৃপক্ষ নৌপরিবহন মন্ত্রণালয়কে চিঠি দেয়। বন্দর কর্তৃপক্ষ থেকে নৌ-মন্ত্রণালয়কে দেওয়া চিঠিতে উল্লেখ করা হয়, পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় ও জাতীয় রাজস্ব বোর্ড (এনবিআর) যেন বন্দরটি চালু করতে এ বিষয়ে উদ্যোগ নেয়। এসব চিঠি ও সুপারিশের পরিপ্রেক্ষিতে গত ১৮-২০ জুলাইয়ে ‘গ্রুপ অন ইনফ্রাস্ট্রাকচার অব এলসিএস-আইসিএস’-এর সভায় এই রুট চালুর বিষয়ে দুই দেশ ঐকমত্যে পৌঁছায়। বিষয়টি নৌ-মন্ত্রণালয়ের মাধ্যমে স্থলবন্দর কর্তৃপক্ষও জানতে পারে। বর্তমানে বাংলাদেশ-ভারতের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় কূটনৈতিক তৎপরতার মাধ্যমে নিজেদের স্বার্থ-সংশ্নিষ্ট বিষয়গুলো পর্যালোচনা করে দেখছে।

ব্রিটিশ শাসনামলে এমনকি তার পরও দিনাজপুরের বিরল সীমান্ত দিয়ে ভারতের রাধিকাপুর রেলওয়ে স্টেশন হয়ে পণ্য এবং যাত্রী পরিবহন করা হতো। ২০০৫ সালে ভারতীয় এলাকায় রেলপথ ব্রডগেজে রূপান্তরিত হলে বন্ধ হয়ে যায় ট্রেন চলাচল। এরপর দুই দেশের মধ্যে বাণিজ্যিক নানা ইস্যুতে সমঝোতা না হওয়ায় এই রেলপথ আর চালু হয়নি। এই রেলপথে চার দেশীয় ব্যবসা-বাণিজ্য সম্প্র্রসারণে ২০০৬ সালে পাবলিক প্রাইভেট পার্টনারশিপের (পিপিপি) আওতায় ২৫ বছরের জন্য বিরল স্থলবন্দর লিমিটেডের নামে একটি বেসরকারি অপারেটরের সঙ্গে চুক্তি স্বাক্ষরিত হয়। সড়ক নির্মাণে ৭১ কোটি ১৪ লাখ টাকা ব্যয় হয়। পরে শেখ হাসিনার নেতৃত্বাধীন সরকার ২০১১ সালে এক হাজার ৩০০ কোটি টাকা ব্যয়ে মিটার গেজ রেলপথকে ডুয়েল গেজে রূপান্তরের উদ্যোগ নেয়। ২০১৭ সালে পণ্য পরিবহন ও যাত্রীবহন সহজ করতে রেলপথসহ বিভিন্ন রেলওয়ে স্টেশন আধুনিকায়ন করা হয়।

‘নোয়াখালী-সিলেটের ঘটনায় সর্বোচ্চ শাস্তির ব্যবস্থা ’…স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী

স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আসাদুজ্জামান খান কামাল বলেছেন, নোয়াখালী ও সিলেটে যা ঘটেছে তা বর্বরতার চূড়ান্ত উদাহরণ, আইন অনুযায়ী সর্বোচ্চ শাস্তির ব্যবস্থা করব আমরা।

মঙ্গলবার (৬ অক্টোবর) সচিবালয়ে সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে তিনি এ কথা বলেন।

স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, আইনের শাসন আছে বলেই অপরাধীদের আইনের আওতায় আনা হচ্ছে, কিন্তু নিপীড়করা মানুষ না, এরা অমানুষ, এ জন্যই এমন ঘটনা ঘটছে।

এর আগে, রোববার (০৪ অক্টোবর) নোয়াখালীর বেগমগঞ্জ উপজেলার একলাশপুর ইউনিয়নে অনৈতিক কাজের অপবাদ দিয়ে এক নারীকে বিবস্ত্র করে মধ্যযুগীয় কায়দায় নির্যাতন করেছে একদল যুবক। এ ঘটনার একটি ভিডিও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ভাইরাল হলে তোলপাড় সৃষ্টি হয়। এরপরই পুলিশ অভিযান চালিয়ে আবদুর রহিম (২৪) নামে এক যুবককে আটক করে।

জানা যায়, গত তিন বছর আগে ওই নারীর বিয়ে হয়। বিয়ের কিছুদিনের মধ্যে তার স্বামী আরও একটি বিয়ে করলে তাদের মধ্যে যোগাযোগ বন্ধ হয়ে যায়। গত ২ সেপ্টেম্বর রাতে ওই নারীর আগের স্বামী তার সঙ্গে দেখা করতে তার ঘরে ঢোকেন। বিষয়টি দেখে পেলে স্থানীয় মাদক ব্যবসায়ী ও দেলোয়ার বাহিনীর প্রধান দেলোয়ার। রাত ১০টার দিকে দেলোয়ার তার লোকজন নিয়ে ওই নারীর ঘরে প্রবেশ করে। পরে অনৈতিক কাজের অভিযোগ এনে ওই নারীকে মারধর শুরু করেন। একপর্যায়ে পিটিয়ে নারীকে বিবস্ত্র করে ভিডিও ধারণ করে।

অন্যদিকে, গত ২৫ সেপ্টেম্বর রাত ৮টা নাগাদ কলেজের ফটকের সামনে বেড়াতে যাওয়া এক তরুণী ও তার স্বামীকে জোরপূর্বক কলেজের ছাত্রাবাসে নিয়ে স্বামীকে আটকে রেখে স্ত্রীকে ধর্ষণ করেন একদল তরুণ।

ভোলাহাট সীমান্তে মহানন্দা নদীতে ভাসমান ৩টি মৃতদেহ ফেরতের দাবী :স্থানীয় জেলেদের মধ্যে আতঙ্ক

ভোলাহাট (চাঁপাইনবাবগঞ্জ) প্রতিনিধি: চাঁপাইনবাবগঞ্জের ভোলাহাট সীমান্তে মহানন্দা নদীতে ৩টি লাশ ভাসতে দেখে স্থানীয় বাংলাদেশি জেলেদের মধ্যে আতঙ্ক সৃষ্টি হয়েছে।স্থানীয়দের দাবী ভাসমান লাশগুলো বিএসএফের গুলিতে নিহত তিন বাংলাদেশির এবং গত ১ অক্টোবর গভীর রাতে বিএসএফের গুলিতে ওই তিন বাংলাদেশি নিহত হন ।আর নিহতের পরিবারগুলোর দাবী ভাসমান লাশগুলো যেন উদ্ধার করে দ্রুত তাদের কাছে ফেরত দেয়া হয়।
এ ঘটনার পর ভোলাহাটের বজরাটেক আলীসাহাসপুর সীমান্তের মহানন্দা নদীতে মাছ ধরা বন্ধ রয়েছে।
স্থানীয়রা জানান, বৃহস্পতিবার রাত সাড়ে ৩টার দিকে ৭-৮ জনের একটি চোরাকারবারি দল ভোলাহাটের বজরাটেক আলীসাহাসপুর সীমান্তের ওপারে ভারতের সূখনগর সীমান্তে গরু আনতে যায়। এ সময় ভারতীয় সীমান্ত রক্ষী বাহিনী সূখনগর বিএসএফ ক্যাম্পের সদস্যরা তাদের লক্ষ্য করে গুলি চালায়। কয়েকজন নদী সাঁতরে পালিয়ে এলেও গুলিবিদ্ধ হন ৩-৪ জন। এরপর থেকে ওই এলাকার জেলেদের নদীতে মাছ ধরা নিষিদ্ধ করে বিজিবি।
তবে রোববার বিকালে জেলেদের বিছানো জাল তুলে আনার জন্য ১ ঘণ্টার সময় দেয় বিজিবি। জাল তুলতে গিয়ে মহানন্দা নদীর সীমান্তের আন্তর্জাতিক সীমান্ত পিলারের (৪১ ও ৪২) কাছে দুটি স্থানে পানির মধ্যে দুটি লাশ একসঙ্গে বাঁধা এবং অপর লাশটি ভাসমান অবস্থায় দেখতে পেয়ে আতঙ্কিত হয়ে জেলেরা দ্রুত ফিরে আসে।
স্থানীয় জেলে সানাউল হক, আমিন আলী, মোহন আলী বলেন, বৃহস্পতিবার রাতে দুটি গুলির শব্দ আমরা শুনেছি। এরপর শুক্রবার সকাল থেকে স্থানীয় জেকে পোলাডাঙ্গা বিজিবি ক্যাম্পের সদস্যরা আমাদের নদীতে মাছ ধরতে দেয়নি। জেলে আবদুল জলিল বলেন, জাল তুলে আনতে গিয়ে নদীর শেষ সীমানায় একটি লাশ ভাসতে দেখেছি। আর জেলে সাদিকুল ইসলাম বলেন, নদীর শেষ সীমানায় বেগুনের ক্ষেতের পাশে দুটি লাশ একত্রে বাঁধা অবস্থায় দেখেছি। এরপরই আমরা আতঙ্কে আছি।
এদিকে ভোলাহাটের কয়েকজন চোরাকারবারি নিখোঁজ রয়েছে বলে জানা গেছে। এর মধ্যে নামো পাঁচটিকরী গ্রামের সাজেদ আলীর ছেলে মিজানুর রহমান ইঞ্জিল (৩৫) ও একই এলাকার দুরু হোদার ছেলে নুরু মোহাম্মদ ওরফে নুরুদ্দীন (২৮)। এছাড়া মিজানুর রহমান ইঞ্জিল ও তার পরিবার আত্মগোপনে রয়েছে। তবে নিখোঁজ ব্যক্তিদের পরিবারের দাবি কাউকে কিছু না জানিয়ে বৃহস্পতিবার রাতে বাড়ি থেকে বের হয় তারা।

এদিকে নিখোঁজ নুর মোহাম্মদের পিতা দুরুল হোদা জানান, বৃহস্পতিবার রাতে স্থানীয় চৌকিদারের মাধ্যমে জানতে পারি বিএসএফের গুলিতে নুরুদ্দীনের মারা গেছে। তাদের দাবী যেভাবেই হোক লাশটা ফেরত পাবার।
চাঁপাইনবাবগঞ্জ-৫৯ বর্ডার গার্ড ব্যাটালিয়নের অধিনায়ক লে. কর্নেল মাহমুদুল হাসান জানান, ঘটনাটি জানার পর থেকে মহানন্দা নদীতে লাশ উদ্ধারে অভিযান অব্যাহত রয়েছে। ভারতীয় সীমান্তরক্ষী বাহিনী বিএসএফের সঙ্গে কথা বলেছি। তারা এ ধরনের কোনো ঘটনা জানা নেই বলে জানিয়েছে।
তিনি আরও জানান, নিরাপত্তাজনিত কারণে বজরাটেক আলীসাহাসপুর সীমান্তের মহানন্দা নদীতে মাছ ধরা কার্যক্রম বন্ধ রাখা হয়েছে।