সর্বশেষ সংবাদ গোমস্তাপুরে মামার বাড়ি বেড়াতে এসে নদীতে ডুবে শিশুর মৃত্যু: উদ্ধার ২ চাঁপাইনাবগঞ্জে র শিবগঞ্জ ও গোমস্তাপুরে নতুন তিন করোনা রোগী সনাক্ত করোনাভাইরাস: ঢাকা শহরে ১৪ হাজার কোভিড-১৯ রোগী, সবচেয়ে বেশি মহাখালীতে এতিম শিশুদের পাশে মানিক শিশুকালের ঈদ বিনোদপুর উচ্চ বিদ্যালয়ের শিক্ষক মরহুম ওবায়দুর রহমান রেনু মাস্টারের জানাযা সম্পন্ন চাঁপাইনবাবগঞ্জের গোমস্তাপুরে ঘূর্ণিঝড়ে লণ্ডভণ্ড দুটি গ্রাম চাপাইনবাবগঞ্জে উদযাপিত হলো পবিত্র ঈদুল ফিতর: জেনে নিন কারা কোথায় ঈদ উদযাপন করলো ঈদের নামাজ পড়ানোর সময় সেজদারত অবস্থায় ইমামের মৃত্যু ২৪ ঘণ্টায় আক্রান্ত শনাক্ত ১৯৭৫ , মৃত্যু আরও ২১ জনের।

পরবর্তী নির্দেশনা না দেয়া পর্যন্ত বন্ধ থাকছে রাজশাহীর সকল ব্যবসা প্রতিষ্ঠান

রাজশাহী ব্যুরো

করোনা প্রতিরোধে রাজশাহীর সকল ব্যবসা প্রতিষ্ঠান পরবর্তী নির্দেশনা না দেয়া পর্যন্ত বন্ধ রাখার সিদ্ধান্ত নিয়েছে রাজশাহী চেম্বার অব কমার্স। শনিবার রাত সাড়ে আটটার দিকে প্রশাসনের উচ্চ পর্যায়ের কর্মকর্তা, জনপ্রতিনিধি ও চেম্বার অব কমার্সের নেতাদের যৌথ সভায় এ সিদ্ধান্ত নেয়া হয়। সভায় রাসিক মেয়র এএইচএম খায়রুজ্জামান লিটন, রাজশাহী সদর আসনের সংসদ সদস্য ফজলে হোসেন বাদশা, চেম্বার অব কমার্সের সভাপতি মনিরুজ্জামান মনিসহ প্রশাসনের উচ্চ পর্যায়ের কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন। সভা শেষে চেম্বার সভাপতি মনিরুজ্জামান মনি বলেন, রাজশাহীকে ভাল রাখতে যা কিছু করা প্রয়োজন, তার সাথেই চেম্বারের সবাই একমত। আমরা রাজশাহীকে ভাল রাখতে চাই। এজন্য মার্কেট বন্ধ রাখতে হলে রাখবো। কারণ স্বাস্থ্যবিধি মেনে এত বড় মার্কেট চালানো সম্ভব না। রাজশাহীর আরডিএ মার্কেটের ব্যবসায়ী সমন্বয় পরিষদের সাধারন সম্পাদক সেকেন্দার আলী বলেন, দোকান বন্ধের এই সিদ্ধান্ত আমরা রাতে পেয়েছি। এখন আমরা ব্যবসায়ীদের সাথে আলোচনা করে সিদ্ধান্ত বাস্তবায়ন করবো।

চার কোটিরও বেশি মানুষকে ত্রাণ সহায়তা দিয়েছে সরকার

ঢাকা,৭ মে, ২০২০ (বাসস) : করোনা ভাইরাস দুর্যোগে সারাদেশের সাধারণ মানুষের কষ্ট লাঘবে ত্রাণ সহায়তা অব্যাহত রেখেছে সরকার।
এ পর্যন্ত সারাদেশে ৯২ লাখ ৫১ হাজার পরিবারের চার কোটিরও বেশি মানুষকে ত্রাণ সহায়তা দিয়েছে সরকার।
৬৪ জেলা প্রশাসন থেকে প্রাপ্ত তথ্য অনুযায়ী বুধবার (৬ মে) পর্যন্ত ত্রাণ হিসেবে চাল বরাদ্দ করা হয়েছে এক লাখ ৩৩ হাজার ১৬৫ মেট্রিক টন এবং বিতরণ করা হয়েছে এক লাখ পাঁচ হাজার ৭৭৯ মেট্রিক টন।
এছাড়া ত্রাণ হিসেবে নগদ টাকা বরাদ্দ করা হয়েছে ৭৩ কোটিরও বেশি টাকা। এর মধ্যে নগদ হিসেবে বিতরণ করা হয়েছে প্রায় ৪৯ কোটি টাকা। শিশু খাদ্য সহায়ক হিসেবে এ পর্যন্ত বিতরণ করা হয়েছে প্রায় ১০ কোটি ৮২ লাখ টাকা। এতে উপকারভোগী পরিবার সংখ্যা ৩ লাখ ৫৬ হাজার ৬৪৮টি এবং লোকসংখ্যা সাত লাখ ৩০ হাজার ৯২১ জন।

বিতরণের জন্য আরও টাকা ও চাল পেলেন ডিসিরা

করোনাভাইরাস মহামারির মধ্যে দেশের দরিদ্র-কর্মহীনদের তাৎক্ষণিক মানবিক সহায়তা দিতে সরকার আরও ৬ কোটি ৩০ লাখ টাকা এবং ৯ হাজার ৬৫০ টন চাল বরাদ্দ দিয়েছে। এর মধ্যে ৪ কোটি ৭০ লাখ টাকা ত্রাণ হিসেবে বিতরণের জন্য এবং এক কোটি ৬০ লাখ টাকা শিশুখাদ্য কেনার জন্য দেওয়া হয়েছে।

শুক্রবার দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা ও ত্রাণ মন্ত্রণালয় থেকে অনুমোদন হওয়ার পর দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা অধিদপ্তর সব জেলা প্রশাসকের (ডিসি) অনুকূলে বরাদ্দ সংক্রান্ত আদেশ পাঠিয়েছে।

বরাদ্দপত্রে বলা হয়েছে, ত্রাণসামগ্রী হিসেবে শাকসবজি কিনে বিতরণ করা যেতে পারে। এ ছাড়া প্রত্যেক ত্রাণ গ্রহণকারীকে কমপক্ষে পাঁচটি করে গাছ লাগানোর অনুরোধ করা যেতে পারে। আর শিশুখাদ্য কেনার শর্তে বলা হয়েছে, শিশুখাদ্য ক্রয়ের ক্ষেত্রে সরকারি ক্রয়বিধিসহ সংশ্নিষ্ট সব বিধিবিধান ও আর্থিক নিয়ম যথাযথভাবে প্রতিপালন করতে হবে। মিল্ক্কভিটার উৎপাদিত গুঁড়ো দুধ ত্রাণসামগ্রী হিসেবে অন্তর্ভুক্ত করতে হবে। তবে পাঁচ বছরের কম বয়সী শিশুদের এই দুধ দেওয়া যাবে না।

এ ছাড়া শিশুখাদ্য হিসেবে খেজুর, বিস্টু্কট, ফর্টিফায়েড তেল, ব্রাউন চিনি, সুজি, মশুর ডাল, সাগু ইত্যাদি খাদ্যদ্রব্য স্থানীয়ভাবে কিনে বিতরণ করতে হবে। জেলা প্রশাসকদের যথাযথ শর্ত অনুসরণ করে ছাড় করা অর্থে শিশুখাদ্য কিনে তা বিতরণ করে নিরীক্ষার জন্য হিসাব সংরক্ষণ করতে নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে।

প্রধানমন্ত্রীর নথি জালিয়াতে জড়িত ছাত্রলীগ নেতাকে বহিষ্কার

প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয় থেকে নথি বের করে জালিয়াতির মাধ্যমে প্রধানমন্ত্রীর সিদ্ধান্ত বদলে দেওয়ার ঘটনায় গ্রেপ্তার হওয়া ছাত্রলীগের সহ-সভাপতি তরিকুল ইসলাম মুমিনকে সংগঠন থেকে স্থায়ী বহিষ্কার করা হয়েছে।

আজ শনিবার সংগঠনের কেন্দ্রীয় সভাপতি আল নাহিয়ান খান জয় এবং সাধারণ সম্পাদক লেখক ভট্টাচার্য স্বাক্ষরিত এক প্রেস বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য জানানো হয়।

বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, সংগঠনের কেন্দ্রীয় নির্বাহী সংসদের জরুরি সিদ্ধান্ত মোতাবেক জানানো যাচ্ছে যে, সংগঠনের গঠনতন্ত্র পরিপন্থী কার্যকলাপের জড়িত থাকার কারণে তরিকুল ইসলাম মুমিনকে ছাত্রলীগ থেকে স্থায়ী বহিষ্কার করা হয়।

এর আগে গতকাল শুক্রবার তরিকুল ইসলাম মুমিনকে নিজ জেলা ভোলাতে গ্রেপ্তার করে পুলিশ। পরে তেজগাঁও থানায় দায়ের করা মামলায় জিজ্ঞাসাবাদের জন্য চার দিনের রিমান্ডে পাঠিয়েছে ঢাকার একটি আদালত।

জালিয়াতির এই ঘটনায় প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ের পরিচালক-৭ মোহাম্মদ রফিকুল আলম বাদী হয়ে ৫ মে তরিকুল, প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ের অফিস সহকারী ফাতেমা ও ফরহাদ নামে তিনজনকে আসামি করে মামলা দায়ের করেন। এই মামলায় তরিকুলকে ভোলা থেকে গ্রেপ্তার করা হয়।

রফিকুল আলমের দায়ের করা মামলায় বলা হয়, নর্থ সাউথ বিশ্ববিদ্যালয়ে কোষাধ্যক্ষ পদে ওই বিশ্ববিদ্যালয়ের ইতিহাস বিভাগের চেয়ারম্যান অধ্যাপক ড. এম এনামুল হক, বুয়েটের পুরকৌশল বিভাগের অধ্যাপক মো. আব্দুর রউফ এবং বাংলাদেশ ইউনিভার্সিটি অব প্রফেশনালের সাবেক কোষাধ্যক্ষ অবসরপ্রাপ্ত এয়ার কমোডর এম আবদুস সালাম আজাদের নাম প্রস্তাব করে শিক্ষা মন্ত্রণালয় থেকে প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ে নথি পাঠানো হয়।

এই নথি প্রধানমন্ত্রীর সামনে উপস্থাপন করার পর তিনি অধ্যাপক ড. এম এনামুল হকের নামের পাশে টিক চিহ্ন দেন। পরে চূড়ান্ত অনুমোদনের জন্য নথিটি রাষ্ট্রপতির কাছে পাঠানোর প্রস্তুতি পর্বে প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ের অফিস সহকারী ফাতেমার কাছে এলে তিনি এম আবদুস সালাম আজাদ অনুমোদন পাননি বলে ফোনে তরিকুলকে জানিয়ে দেন।

এরপরেই তরিকুলের পরিকল্পনা অনুযায়ী, নথিটি প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয় থেকে কৌশলে বের করে ফরহাদ নামে একজনের হাতে তুলে দেন ফাতেমা।

মামলায় বলা হয়, এরপরেই সেই নথিতে তরিকুল ড. এম এনামুল হকের নামের পাশে প্রধানমন্ত্রীর দেওয়া টিক চিহ্নটি ‘টেম্পারিং’ করে সেখানে ক্রস চিহ্ন দেন। একইভাবে অধ্যাপক মো. আব্দুর রউফের নামের পাশে ক্রস চিহ্ন দিয়ে এয়ার কমোডর এম আবদুস সালাম আজাদের নামের পাশে টিক চিহ্ন দেন। প্রায় এক মাস আগে নথিটি রাষ্ট্রপতির কার্যালয়ে পাঠানো হয়।

এই নথি হস্তান্তরের আগে ফাতেমা ১০ হাজার টাকা বিকাশের মাধ্যমে গ্রহণ করেন এবং হস্তান্তরের পরে আরেক দফায় ১০ হাজার টাকা তার ছেলের বিকাশ একাউন্টের মাধ্যমে নেন বলে মামলায় বলা হয়। প্রায় এক মাস আগের ঘটনা হলেও করোনাভাইরাসের কারণে মামলা দিতে দেরি হয়েছে বলে বাদী এজাহারে উল্লেখ করেছেন।

এই মামলায় শুক্রবার তরিকুলের সঙ্গে ফরহাদ ও নাজিম উদ্দিন নামে দুজনকে ঢাকার মুখ্য মহানগর হাকিম আদালতে হাজির করে সাত দিনের রিমান্ডে চায় পুলিশ। শুনানি শেষে ঢাকা মহানগর হাকিম মঈনুল ইসলাম তাদের জামিন আবেদন নাকচ করে প্রত্যেকের চারদিন করে রিমান্ড মঞ্জুর করেন।

নাজিম উদ্দিনের নাম মামলার এজাহারে না থাকলেও তদন্তে তার সংশ্লিষ্টতা বেরিয়ে এসেছে বলে আদালত পুলিশের কর্মকর্তা এসআই ফরিদ মিয়া জানিয়েছেন।

ঈদের কেনাকাটা করতে গেলেন করোনা রোগী!

করোনাভাইরাসে আক্রান্ত এক যুবক ঈদের কেনাকাটা করতে যাওয়ায় একটি দোকান লকডাউন করেছে লালমনিরহাটের কালীগঞ্জ উপজেলা প্রশাসন। উপজেলার তুষভান্ডার বাজারের যে কাপড়ের দোকানে তিনি গিয়েছিলেন সেটি লকডাউন করা হয়েছে। এ সময় করোনাভাইরাসে আক্রান্ত ওই যুবককে ঘটনাস্থলে পায়নি প্রশাসন।

আজ শনিবার দুপুরে সরেজমিনে উপস্থিত হয়ে এ লকডাউন ঘোষণা করেন কালীগঞ্জ উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) রবিউল হাসান।

স্থানীয়রা জানান, গাজীপুর থেকে আসা করোনাভাইরাসে আক্রান্ত এক যুবকের সংস্পর্শে আদিতমারী উপজেলার একই পরিবারের পাঁচ সদস্য করোনায় আক্রান্ত হন। ওই পরিবারে হোম আইসোলেশনে থাকা করোনা আক্রান্ত এক যুবক ঈদের কেনাকাটা করতে পার্শ্ববর্তী কালীগঞ্জ উপজেলার তুষভান্ডার বাজারে আসেন। সেখানে হোম আইসোলেশনে থাকা করোনা পজিটিভ ওই যুবককে তার এক প্রতিবেশী দেখতে পেয়ে স্থানীয় প্রশাসনকে খবর দেন। খবর পেয়ে ইউএনও ও পুলিশ ওই দোকানে উপস্থিত হন। পুলিশের উপস্থিতি টের পেয়ে ওই যুবক পালিয়ে যান।

পরে রুমা ক্লথ স্টোর নামে যে দোকানটিতে ওই যুবক কেনাকাটা করছিলেন সেটি লকডাউন করে দেন ইউএনও রবিউল হাসান। এ সময় ওই দোকানদার ও তার কর্মচারীদের নমুনা সংগ্রহ করার জন্য স্বাস্থ্য কর্মকর্তাকে নির্দেশ দেন তিনি।

উপজেলা নির্বাহী অফিসার রবিউল হাসান জানান, কাপড় ব্যবসায়ীসহ তার দোকানের কর্মচারীদের নমুনা পরীক্ষার পর বোঝা যাবে তারাও আক্রান্ত হয়েছেন কি না। নমুনা রিপোর্ট না আসা পর্যন্ত দোকান বন্ধ থাকবে।

ঝুঁকি মাথায় ঘুরে দাঁড়ানোর যুদ্ধ

দেশের সর্বত্র মারাত্মকভাবে ছড়িয়ে পড়েছে করোনার থাবা। প্রতিদিনই বাড়ছে আক্রান্ত মানুষের সংখ্যা। এমন পরিস্থিতিতে দেশজুড়ে কার্যত চলমান লকডাউন নিশ্চিতে যখন উচিত আরও কঠোরতা আরোপ, তখন এসেছে বিপরীত এক সিদ্ধান্ত, খুলে দেওয়া হয়েছে পোশাক কারখানাগুলো। অত্যন্ত ছোঁয়াচে করোনার হাত থেকে রক্ষা পেতে যখন পরস্পরের মধ্যে শারীরিক দূরত্ব অত্যন্ত জরুরি, তখন এসেছে উল্টো সিদ্ধান্ত যা জনসমাগম বাড়াবে, অবনতি ঘটাবে করোনা পরিস্থিতির।

কেন পোশাক কারখানাগুলো চালু করার সিদ্ধান্ত মালিকদের? জনস্বাস্থ্যের ঝুঁকি সত্ত্বেও কেনইবা এতে সরকারের সায়? হ্যাঁ, কারণ আছে। দেশের অর্থনীতির অন্যতম চালিকাশক্তি রপ্তানি আয়। এ আয়ের প্রধান খাত তৈরি পোশাকশিল্প। কিন্তু এ খাতও করোনা ভাইরাসে সংক্রমিত হয়ে পড়েছে। পরিস্থিতি ভয়াবহ যা একটি তথ্যেই অনুমেয়। গত বছরের এপ্রিল মাসে রপ্তানি হয়েছিল ২৪২ কোটি ডলারের পোশাক।

আর চলতি বছরের এপ্রিলে তা নেমে এসেছে ৩৬ কোটি ৬০ লাখ ডলারে। অর্থাৎ রপ্তানি কমে গেছে প্রায় ৮৫ শতাংশ। বাংলাদেশ রপ্তানি উন্নয়ন ব্যুরোর (ইপিবি) বরাত দিয়ে বিজিএমইএ দেওয়া এ তথ্য শুধু এ খাতের জন্যই নয়, দেশের সার্বিক অর্থনীতির জন্যই এক ভয়াল অশনিসংকেত। এ কারণেই এমন সিদ্ধান্ত। পরিস্থিতি যত কঠিনই হোক, তা মোকাবিলা করেই এ খাতকে বাঁচাতে হবে তথা দেশের অর্থনীতির মেরুদ- সোজা রাখতে হবে। পাশাপাশি সব তরফেই আশ্বাস দেওয়া হয়েছে স্বাস্থ্যবিধি রক্ষায় কঠোর হওয়ার বিষয়ে, অনেকের সংশয় সত্ত্বেও।

ঘুরে দাঁড়ানোর চেষ্টা হিসেবেই করোনা আগ্রাসী রূপ ধারণ করার পরও গত ২৬ এপ্রিল স্বল্প আকারে পোশাক কারখানাগুলো খুলতে শুরু করে। এরই মধ্যে প্রায় সব কারখানা খুলেছে। বিজিএমইএ বলছে, করোনার কারণে ক্রেতারা অনেক ক্রয়াদেশ বাতিল করেছে। পোশাক কারখানাও বন্ধ ছিল মাসখানেক। তৈরি পোশাক রপ্তানি ব্যাপক হারে কমে গেছে এ কারণে। গত মার্চ থেকেই পোশাক রপ্তানিতে ধস নামতে থাকে।

তার পরও ওই মাসে ২২৫ কোটি ডলারের পোশাক রপ্তানি হয়। তবে সেটি গত বছরের মার্চের চেয়ে ২০ শতাংশ কম। পোশাক খাতের জন্য চলতি অর্থবছরের প্রথম ৯ মাসের মধ্যে এটিই ছিল ভয়াবহ। তবে শেষ পর্যন্ত মার্চকেও ছাড়িয়ে গেল এপ্রিল। এক মাসের ব্যবধানেই ১৮৯ কোটি ডলারের পোশাক রপ্তানি কমে গেছে।

বিজিএমইএ জানায়, চলতি অর্থবছরের জুলাইয়ে ৩৩১ কোটি ডলার, আগস্টে ২৪০, সেপ্টেম্বরে ২৩৪, অক্টোবরে ২৫২, নভেম্বরে ২৫১, ডিসেম্বরে ২৯৩, জানুয়ারিতে ৩০৩, ফেব্রুয়ারিতে ২৭৮, মার্চে ২২৫ এবং এপ্রিলে ৩৬ কোটি ৬৫ লাখ ডলারের পোশাক রপ্তানি হয়েছে। তাতে অর্থবছরের প্রথম ১০ মাসে (জুলাই-এপ্রিল) ২ হাজার ৪৪৬ কোটি ডলারের পোশাক রপ্তানি হয়েছে।

বিজিএমইএর সর্বশেষ তথ্যানুযায়ী, ১ হাজার ১৫০টি কারখানার ৯৮ কোটি পিস পোশাকের ক্রয়াদেশ স্থগিত ও বাতিল হয়েছে। তাতে ৩১৮ কোটি ডলার বা ২৭ হাজার কোটি টাকার পোশাক রপ্তানি ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ার আশঙ্কা তৈরি হয়।

অবশ্য সুইডেনভিত্তিক খুচরা বিক্রেতা প্রতিষ্ঠান এইচঅ্যান্ডএম তাদের মনোনীত কারখানায় ইতোমধ্যে যেসব পোশাক তৈরি হয়েছে, সেসব পোশাক নেওয়ার ঘোষণা দেয়। অনেকটা সেই পথেই হাঁটবে বলে ইঙ্গিত দেয় পিভিএইচ, টার্গেট, গ্যাপ ও ভিএফ করপোরেশন, ইন্ডিটেক্স, টেসকো, কিয়াবি, এলপিপিসহ কয়েকটি ক্রেতা প্রতিষ্ঠান ও ব্র্যান্ড। তবে কিছু ব্র্যান্ড মূল্যছাড় দাবি করেছে বলে জানান পোশাক রপ্তানিকারকরা।

এ অবস্থার মধ্যে আবার পোশাক খাত ঘুরে দাঁড়ানোর চেষ্টায় কারখানায় পুরোদমে চলছে কাজ। শ্রমিকরা যথাসম্ভব স্বাস্থ্য সুরক্ষা নিয়ম মেনে কাজ করছেন। অন্যদিকে কারখানা মালিকরা প্রতিনিয়ত ক্রেতাদের সঙ্গে যোগাযোগের চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছেন। কারখানা বন্ধের আগে যেসব অর্ডার ছিল সেগুলো প্রস্তুত করছে। পাশাপাশি এসব পোশাক নেওয়ার জন্য ক্রেতাদের অনুরোধ করা হচ্ছে। সরকারের উচ্চপর্যায় থেকেও ওই সব দেশের সরকারপ্রধানদের সঙ্গে যোগাযোগ হচ্ছে, যাতে তারা অর্ডার অনুযায়ী পোশাকগুলো নিয়ে নেয়।

সামনের পরিবেশের কথা মাথায় রেখে নতুন করে অর্ডার নেওয়ার চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছে। অবশ্য বেশ কয়েকটি দেশ থেকে নতুন করে পোশাক নেওয়ার জন্য যোগাযোগ করছেন কারখানা মালিকদের সঙ্গে।

খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, বড় কারখানাগুলো পুরোপুরি স্বাস্থ্যবিধি মেনেই কারখানা চালাচ্ছে। তবে, ছোট-মাঝারি কারখানগুলোর মধ্যে বিরুদ্ধে অভিযোগ রয়েছে।

এদিকে গত ২ মে গার্মেন্ট পরিদর্শনে নির্দেশনা জারি করে অধিদপ্তর। নির্দেশনা অনুযায়ী কারখানা পরিদর্শনের জন্য অধিদপ্তরের উপমহাপরিদর্শকদের সমন্বয়ে ঢাকায় ২৩টি এবং গাজীপুরে ২৭টি টিম গঠন করা হয়েছে। বিশেষ এই পরিদর্শনে শুধুমাত্র কারখানায় শ্রমিকদের স্বাস্থ্যবিধি লঙ্ঘিত হচ্ছে কিনা, শ্রমিকদের স্বাস্থ্য সুরক্ষায় গৃহীত পদক্ষেপ, শ্রম পরিস্থিতি দেখা হবে।

সূত্র জানায়, পরিদর্শনে ত্রুটি-বিচ্যুতি বা অনিয়ম পাওয়া গেলে তাৎক্ষণিকভাবে কারখানা কর্তৃপক্ষকে সতর্কীকরণ চিঠি দেওয়া হবে। তারপরও ত্রুটি-বিচ্যুতি বা অনিয়ম সংশোধন না হলে শ্রম আইন ব্যবস্থা নেয়া হবে। একই সঙ্গে বিজিএমইএকে চিঠি দিয়ে ওই কারখানার বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নিতে বলা হবে।

অন্যদিকে পোশাক মালিকদের সংগঠন বিজিএমইএ কারখানা চালুর বিষয়ে একটি গাইডলাইন করেছে। এ গাইডলাইন অনুযায়ী কারখানা চালানো হচ্ছে কিনা, তা খতিয়ে দেখতে বিজিএমইএর মনিটরিং টিম কাজ করছে। কোন কোন কারখানায় বিজিএমইএর গাইডলাইন বা নির্দেশিকা অনুযায়ী নিরাপত্তা শর্ত প্রতিপালন হচ্ছে না- শ্রমিক নেতাদের এ অভিযোগের কারণে মনিটরিং টিম আকস্মিক কারখানা পরিদর্শনে যাচ্ছেন। এসব টিমের নেতৃত্ব দিচ্ছেন বিজিএমইএর পরিচালকরা। কোনো কারখানায় গাইডলাইনের ব্যতিক্রম দেখা গেলে ওই কারখানার উৎপাদন কার্যক্রম বন্ধ করতে নির্দেশ দেওয়া হচ্ছে।

জানতে চাইলে পরিদর্শন টিমের দায়িত্বে থাকা বিজিএমইএর পরিচালক মহিউদ্দিন রুবেল আমাদের সময়কে বলেন, যে কোনো মূল্যের বিনিময়ে আমরা স্বাস্থ্য সুরক্ষা নিশ্চিত করব। যদি কোনো কারখানা মালিক আইন লঙ্ঘন করেন তা হলে তার বিরুদ্ধে বিজিএমইএ ব্যবস্থা গ্রহণ করবে।

তিনি বলেন, দু-একজনের জন্য পুরো পোশাক খাত দায় নেবে না।

নতুন অর্ডারের বিষয়ে বাংলাদেশ নিটওয়্যার শিল্পমালিকদের সংগঠন বিকেএমইএর পরিচালক ফজলে শামীম এহসান আমাদের সময়কে বলেন, বেশ কিছু ক্রেতা নতুন অর্ডারের জন্য যোগাযোগ করেছে। আমরাও চেষ্টায় আছি। তবে বর্তমানে সার্জিক্যাল মাস্কের চাহিদা পুরো বিশ্বজোড়া। অনেকেই মাস্ক নিতে চায়, কিন্তু আমাদের সীমাবদ্ধতার কারণে ধরে রাখতে পারছি না।

এদিকে বিজিএমইএর পরিচালক মোহাম্মদ নাসির বলেন, ক্রেতারা যেসব অর্ডার বাতিল করেছিল, সেগুলো নেওয়ার জন্য তাদের সাথে যোগাযোগের চেষ্টা করা হচ্ছে। ক্রেতাদের অর্ডার অনুযায়ী কেউ কাপড় কেটেছে, কেউ সেলাই করেছে, আবার কেউ প্যাকেটজাত করে শিপমেন্টের অপেক্ষায় ছিল। আবার কেউ শিপমেন্ট করেছে। এক্ষেত্রে আমাদের তো কোনো অপরাধ নেই। আশা করা যায় তারা তাদের দেওয়া অর্ডার অনুযায়ী পোশাক নিবেন।

বিজিএমইএর সভাপতি রুবানা হক আমাদের সময়কে বলেন, দেশের অর্থনীতি বাঁচাতে করোনায় কারখানা খোলার বিকল্প কোনো পথ নেই। লাগাতর কারখানা বন্ধ থাকলে শিল্প কারখানা ধ্বংস হয়ে যাবে। আন্তর্জাতিক বাজার হারানোর আশঙ্কা রয়েছে।

তিনি বলেন, কিছু আশার দিকও আছে। টিকে থাকতে পারলে বাংলাদেশের জন্য নতুন বাজার সৃষ্টি হবে। আমরা ক্রেতাদের সঙ্গে যোগাযোগ করছি। যাতে করে তারা আমাদের ছেড়ে না যায়।

পরমাণু বিজ্ঞানী ড. এম এ ওয়াজেদ মিয়া

মো. শহীদ উল্লা খন্দকার

মেধাবী সন্তানরা দেশের সম্পদ। একটি দেশ এগিয়ে যাওয়ার মূলশক্তিই এই মেধাবীরা। এ দেশের এমনই এক জন মেধাবী বিজ্ঞানীর নাম ড. এম এ ওয়াজেদ মিয়া। তিনি আমাদের গর্বের পরমাণু বিজ্ঞানী। বাংলাদেশের আণবিক পাওয়ার প্ল্যান্টের এক জন স্বপ্নদ্রষ্টা। তার বিজ্ঞান সাধনার উত্সকেন্দ্রের জন্য তিনি যুগের পর যুগ বাংলাদেশের ইতিহাসে নক্ষত্র হয়ে জ্বলবেন।

তাঁর বিজ্ঞানচর্চার পরিধি কতটা সুউচ্চ ছিল তা আমাদের অনেকেরই অজানা। ১৯৬৯ সালে ইতালির ট্রিয়েস্টের আন্তর্জাতিক তাত্ত্বিক পদার্থবিজ্ঞান গবেষণাকেন্দ্র তাকে অ্যাসোসিয়েটশিপ প্রদান করে। এই সুবাদে তিনি ১৯৬৯-৭৩ ও ১৯৮৩ সালে ঐ গবেষণাকেন্দ্রে প্রতিবার ছয় মাস ধরে গবেষণায় নিয়োজিত ছিলেন। ১৯৬৯ সালের নভেম্বর থেকে ১৯৭০ সালের অক্টোবর পর্যন্ত তিনি যুক্তরাষ্ট্রের ওয়াশিংটন শহরের ড্যারেসবেরি নিউক্লিয়ার ল্যাবরেটরিতে পোস্ট ডক্টরাল গবেষণায় নিয়োজিত ছিলেন।

১৯৭৫ সালের ১২ মার্চ থেকে ২৪ আগস্ট পর্যন্ত তিনি তত্কালীন পশ্চিম জার্মানির কার্লসরুয়ে শহরের ‘আণবিক গবেষণাকেন্দ্রে’ আণবিক রি-অ্যাক্টর বিজ্ঞানে উচ্চতর প্রশিক্ষণ লাভ করেন। ১৯৭৫ সালের ১ অক্টোবর থেকে ১৯৮২ সালের ফেব্রুয়ারি পর্যন্ত তিনি ভারতের আণবিক শক্তি কমিশনের দিল্লি ল্যাবরেটরিতে গবেষণায় নিয়োজিত ছিলেন।

তার যোগ্যতার মাপকাঠি ছিল প্রশ্নাতীত। ১৯৭২ ও ১৯৭৩ সালে তিনি পর পর দুবার বাংলাদেশ আণবিক শক্তিবিজ্ঞানী সংঘের সাধারণ সম্পাদক নির্বাচিত হন। ১৯৮৩, ১৯৮৪ ও ১৯৮৫ সালে তিনি পর পর তিনবার ঐ বিজ্ঞানী সংঘের সভাপতি নির্বাচিত হন। ১৯৮৫ থেকে ১৯৮৮ সাল পর্যন্ত চার বছর তিনি বাংলাদেশ পদার্থবিজ্ঞান সমিতির সাধারণ সম্পাদক ছিলেন। তিনি দুই বছর মেয়াদের জন্য ঐ বিজ্ঞান সমিতির সভাপতি নির্বাচিত হন। আর এসব পদে নির্বাচিত হয়েছিলেন শুধু তার যোগ্যতার নিরিখেই।

আজ বাস্তবায়নের পথে রূপপুর পারমাণবিক বিদ্যুত্ প্রকল্প। বলা যায়, এটা অনেক বড়ো এক স্বপ্নেরই বাস্তবায়ন। বাংলাদেশের এই পারমাণবিক বিদ্যুত্ প্রকল্পের ভিত্তি স্থাপনকালে মাননীয় প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বলেছিলেন, ‘এই প্রকল্প বাস্তবায়িত হলে পূরণ হবে জাতির জনক বঙ্গবন্ধুর স্বপ্ন। সফল হবে বিশিষ্ট পরমাণু বিজ্ঞানী ড. এম এ ওয়াজেদ মিয়ার আমরণ প্রচেষ্টা এবং সুফল ভোগ করবে সারাদেশের মানুষ।’

ড. ওয়াজেদ মিয়াকে ব্যক্তিগতভাবে যারা চিনতেন, কাছ থেকে দেখেছেন তারা একবাক্যেই বলেছেন, তার মতো সত্, নির্লোভ মানুষ খুঁজে পাওয়া কঠিন।

ড. এম এ ওয়াজেদ মিয়া আদর্শের জন্য অক্লান্ত পরিশ্রম করেছেন। সহকর্মীদেরও উদ্বুদ্ধ করেছেন সত্ ও ন্যায়-নিষ্ঠাবান হওয়ার জন্য। তিনি নিজে ক্ষমতার খুব কাছাকাছি থেকেও কোনো সুযোগ-সুবিধা নেননি। কোনো অন্যায় প্রশ্রয় দেননি। সর্বদা নিজস্ব বলয়ে থেকে নিজের যোগ্যতায় নিজ কর্মক্ষেত্রের পরিধিতে স্বাতন্ত্র্য বজায় রেখে কর্মজীবন শেষ করেছেন।

তিনি শুধু এক জন মেধাবী ছাত্র বা পরমাণু বিজ্ঞানী ছিলেন না, তিনি ছিলেন নির্লোভ, নিভৃতচারী, নীতিবান, নিরহংকার, নির্ভীক, স্পষ্টবাদী, দৃঢ়চেতা, দেশপ্রেমিক, আদর্শবান, সত্, সহজ-সরল, বিনয়ী, চরিত্রবান, যুক্তিবাদী, অজাতশত্রু ব্যক্তিত্বসম্পন্ন এক জন আদর্শ মানুষ। এত গুণে গুণান্বিত মানুষ কয়জন আছেন এই ভুবনে!

রংপুরের পিছিয়ে পড়া এক গ্রাম থেকে উঠে এসেছিলেন তিনি। নিজেকে এগিয়ে নিয়ে গেছেন শুধুই শিক্ষার মাধ্যমে। পীরগঞ্জের ফতেপুরের সাদাসিধে ছেলেটিই বড়ো হয়ে দেশের অন্যতম এক জন আণবিক বিজ্ঞানী হিসেবে নাম কুড়ালেন।

ড. ওয়াজেদ মিয়া সাতটি পাঠ্য বই লিখেছেন, এর মধ্যে ছয়টিই এরই মধ্যে প্রকাশিত। মৃত্যুর আগে সপ্তম বইটির সম্পাদনার কাজে ব্যস্ত ছিলেন তিনি।

ব্যক্তিজীবনে ক্ষমতার ভেতরে থেকেও কখনো ক্ষমতার অপব্যবহারের সামান্যতম সুযোগ নেননি। যা তার জন্য খুব সহজ ছিল। তিনি আপন অবস্থানে থেকেই কাজ করে গেছেন। তার স্বপ্ন ছিল

বাংলাদেশের রূপপুরে একটি পরমাণু বিদ্যুেকন্দ্র চালু করা, দেশের বিজ্ঞানীদের পেশাগত কাজের উত্কর্ষ বৃদ্ধির জন্য একটি বিজ্ঞান ভবন নির্মাণ করা। দেশে বিজ্ঞানভিত্তিক শিক্ষা ও গবেষণা প্রসারে তার অবদান অবিস্মরণীয়।

ড. ওয়াজেদ মিয়া মনে করতেন, সমাজে বিজ্ঞানীদের যথাযথ অবস্থান নিশ্চিত করতে হলে বিজ্ঞানীদের আগে নিজেদের কাজ করে যেতে হবে, তার পরই শুধু জনগণের কাছ থেকে প্রত্যাশা করা যেতে পারে।

তাঁর পাণ্ডিত্য ও প্রতিভার দ্বারা নিজস্ব একটি পরিচয় গড়ে তুলতে সক্ষম হয়েছিলেন। এ জন্যই অন্য পরিচয়গুলো তার জন্য অলংকার। যেসব কথা তিনি প্রচার করতে চাননি, তার প্রয়োজনও বোধ করেননি। মৃত্যুর আগে ড. এম এ ওয়াজেদ মিয়া সম্পর্কে দেশবাসী যতটা জানতেন, মৃত্যুর পর জেনেছেন তার চেয়ে অনেক বেশি। আজ এই পরমাণু বিজ্ঞানীর মৃত্যু দিন। এই গুণি মানুষটিকে শ্রদ্ধাভরে স্মরণ করছি।

লেখক :সিনিয়র সচিব, গৃহায়ন ও গণপূর্ত মন্ত্রণালয়

চাঁপাইনবাবগঞ্জ পৌর সভায় প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার উপহার খাদ্যশস্য বিতরণ

নিজস্ব প্রতিবেদক, চাঁপাইনবাবগঞ্জ : করোনা ভাইরাস পরিস্থিতি মোকাবেলায় মানবিক সহায়তা কর্মসূচির অংশ হিসেবে দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা ও ত্রাণ মন্ত্রণালয়, দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা অধিদপ্তর এবং চাঁপাইনবাবগঞ্জ জেলা প্রশাসনের ব্যবস্থাপনায় জরুরি খাদ্যশস্য বিতরণ অব্যহত রয়েছে।

চাঁপাইনবাবগঞ্জে দিন মজুর, রিকশাচালক, ভ্যানচালক, পরিবহন শ্রমিক, চায়ের দোকানদার, ভিক্ষুক, ভবঘুরে, তৃতীয় লিঙ্গসহ ক্ষতিগ্রস্ত ও কর্মহীন মানুষের মাঝে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার পক্ষ থেকে খাদ্যশস্য বিতরণ করছে পৌরসভা।

১৫ টি ওয়ার্ডর মানুষের মাঝে শনিবার সকাল সাড়ে ১০ টার দিকে চাঁপাইনবাবগঞ্জ পৌরসভা চত্বরে খাদ্যশস্য বিতরণ করেন জেলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক ও সাবেক এমপি আব্দুল ওদুদ।

এ সময় পৌর মেয়র মোহাম্মদ নজরুল ইসলামসহ প্যানেল মেয়র, ওয়ার্ড কাউন্সিলর বৃন্দসহ অন্যান্য কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন। এদিন প্রায় ১ হাজার ৫০০ মানুষের মাঝে খাদ্যশস্য বিতরণ করা হয়।

শিবগঞ্জে ভাতা প্রদানকালে বিধবা-বয়স্ক ও প্রতিবন্ধীদের থেকে ৩০ টাকা করে আদায় !


শিবগঞ্জ(চাঁপাইনবাবগঞ্জ)প্রতিনিধি:সামাজিক নিরাপত্তা বেষ্টুনী কর্মসূচির আওতায় সারাদেশেরবিধবা-বয়স্ক ও প্রতিবন্ধীদের সুবিধা ভাতা প্রদান করে আসছেসরকার। আর এই সুবিধা ভোগী ভাতার টাকা সুষ্ঠুভাবে বিতরণেরজন্য ব্যাংকের মাধ্যমে টাকা উত্তোলনেরও ব্যবস্থা করে দেয় সরকার। কিন্তু শনিবার সকালে চাঁপাইনবাবগঞ্জের শিবগঞ্জ উপজেলার পাঁকাইউনিয়নের ৩ নম্বর ওয়ার্ডের দক্ষিণ পাঁকা বাজার বিধবা-বয়স্ক ওপ্রতিবন্ধীদের সুবিধা ভাতা প্রদানে অনিয়ম হয়েছে বলে অভিযোগউঠেছে। এছাড়া মৃত ২জনের নামে বিধবা-বয়স্ক ওপ্রতিবন্ধীদের সুবিধা ভাতা কার্ডের টাকা ৩ নম্বর ওয়ার্ডসদস্য মো. রমজান আলী উত্তোলন করে নিচ্ছে বলেও অভিযোগ পাওয়াগেছে। এই ইউনিয়নে ৪৫০জন বিধবা-বয়স্ক ও প্রতিবন্ধীদেরসুবিধা ভাতা ভোগী রয়েছে।জানা গেছে, পাঁকা ইউনিয়নের ডিজিটাল সেন্টারের পরিচালক মো.সুজন আলী, ৩ নম্বর ওয়ার্ড সদস্য মো. রমজান আলী ওগ্রাম্যপুলিশ মো. শরিফুল ইসলামের যোগসাগজে বিধবা-বয়স্ক ওপ্রতিবন্ধীদের সুবিধাদের কাছ থেকে ৩০ টাকা করে আদায় করছেন।সুবিধা ভোগী ভক্তভুগীরা অভিযোগ করে বলেন, আমাদের টাকা দেয়ারআগের দিন শরিফুল চৌকিদার মাইকিং করে বলে বিধবা-বয়স্ক ওপ্রতিবন্ধীদের সুবিধা ভাতা টাকা দেয়া হবে আপনারা নিতেআসবেন এবং সাথে করে ৩০ টাকা করে নিয়ে আসবেন। এই ৩০টাকাখরচ হিসেবে নেয়া হয়েছে বলে জানান ভক্তভূগীরা।এদিকে, গ্রাম্যপুলিশ মো. শরিফুল ইসলাম জানান, আমাকেডিজিটাল সেন্টারের পরিচালক মো. সুজন আলী মাইকিং করারনির্দেশ দেয় এবং ৩০ টাকা আদায়ের কথা বলেও বলে তাই আমি ৩০টাকা করে আদায় করেছি। এছাড়া তিনি আরো বলেন, অন্য আরো৩টি ওয়ার্ডেও একই মাইকিং করা হয়েছে। আমি যাদের কাছ থেকেটাকা আদায় করেছি, তাদেরকে টাকা ফেরত দিয়ে দিচ্ছি।অন্যদিকে, পাঁকা ইউনিয়নের ডিজিটাল সেন্টারের পরিচালক মো.সুজন আলীর কাছে মুঠোফোনে জানতে চাইলে তিনি অস্বীকার করেবলেন, ৩০ টাকা করে নেয়া হচ্ছে এটা আমার জানান নাই। তবে,শুনেছি চৌকিদার এ টাকা আদায় করছে। আমি তাঁকে টাকাগুলোফেরত দিতে বলেছি। সে টাকাগুলো ফেরত দিয়েছে।
এছাড়া ৩ নম্বর ওয়ার্ড সদস্য মো. রমজান আলী জানান, সুবিধাভোগীদের কাছ থেকে ৩০ টাকা করে আদায় করা হচ্ছে এবিষয়টিআমার জানা নাই। আমি বিষয়টি জেনে সুবিধা ভোগীদের কাছথেকে নেয়া টাকা তাদের ফেরত দিতে বলছি। কিন্তু মৃত ব্যক্তিদের নামেবিধবা-বয়স্ক ও প্রতিবন্ধীদের সুবিধা ভাতা কার্ডের টাকা উত্তোলনকরেনি বলেও অস্বীকার করেন।পাঁকা ইউনিয়ন পরিষদের ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান মোঃ দুরুল হোদারযোগাযোগ করা হলে তিনি জানান, এবিষয়টি আমার জানা নাই।বিষয়টি তদন্ত করে ব্যবস্থা নেয়া হবে।এব্যাপারে শিবগঞ্জ উপজেলা সমাজ সেবা কর্মকর্তা কাঞ্চন কুমারদাস জানান, এবিষয়টি আমার জানা ছিলো না, এখন জানলাম।এঘটনার সাথে যারা জড়িত বিষয়টি তদন্ত করে তাদের বিরুদ্ধেপ্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা নেয়া হবে।উল্লেখ্য, গত বছর ৪ ফেব্রæয়ারি প্রয়াত চেয়ারম্যান মজিবুররহমান, ইউনিয়ন আওয়ামীলীগের সভাপতি মো. ইসমাইলহোসেন মাস্টার পাঁকা ইউনিয়নের ৩ নম্বর ওয়ার্ডের দক্ষিণ পাঁকাবাজার বিধবা-বয়স্ক ও প্রতিবন্ধীদের সুবিধা ভাতা বিবতণ কেন্দ্রেরজন্য উপজেলা সমাজ সেবা অফিসারে বরাবর আবেদনের প্রেক্ষিতেশনিবার এই সুবিধা ভোগীদের ভাতার টাকা বিতরণ করা হয়।

ভোলাহাটে করোনা পজেটিভ শহিদুলের বাড়ী খাবার দিলেন চেয়ারম্যান

ভোলাহাট(চাঁপাইনবাবগঞ্জ)প্রতিনিধি ঃ করোনা পজেটিভ যেই হোক আপনার ভালোবাসা আপনার পাশে থাকা। কখনো ঘৃণা না করে সহযোগিতা করুন এমন কথা বললেন উপজেলার গোহালবাড়ী ইউনিয়ন চেয়ারম্যান আব্দুল কাদের। ৯ মে শনিবার বেলা সাড়ে ১১টার দিকে চেয়ারম্যান আব্দুল কাদের তার পরিষদের সচিব মাজহারুল ইসলাম, উদ্যোক্তা সেলিম রেজা, গ্রামপুলিশ, স্বেচ্ছাসেবক মনিরুল ইসলাম মনিরকে সাথে নিয়ে ছুটে যান লকডাউনে থাকা খালেআলমপুর গ্রামের মহসেন আলীর ছেলে আনসার শহিদুল ইসলামের বাড়ী। তিনি ভালোবাসা দিতে গিয়ে শহিদুলের খোঁজ-খবর নেন। শহিদুল কেমন আছেন। তিনি ভালো আছেন বলে পরিবারের লোকজন জানান। এ সময় শহিদুল ও তার পরিবার যেন সর্তক থাকেন নিরাপদে থাকেন এবং শারিরীক দূরুত্ব নিশ্চিত করতে পরামর্শ দিয়ে মাসব্যাপী চলার জন্য খাদ্য সামগ্রী প্রদান করেন। চেয়ারম্যান আব্দুল কাদের সরকারের পক্ষে নিজের দায়িত্বশীলতায় এ সব খাদ্য সামগ্রী দিয়ে আসেন করোনা পজেটিভ শহিদুলের বাবার হাতে। খাদ্য সামগ্রীর মধ্যে ছিলো চাল-২০কেজি, ডাল ১ কেজি, আলু ৫কেজি, লবণ১ কেজি, হুইল পাউডার হাফ কেজি, গায়ে মাখা সাবান ও কাপড় কাঁচা সাবান, হ্যান্ডস্যানেটাইজার, চিচিংগা, লাল শাক, কাঁঠাল, পাঠের শাক, বরবটি, করলাসহ বিভিন্ন প্রয়োজনীয় জিনিস তুলে দেয়া হয়। এ সময় চেয়ারম্যান আব্দুল কাদের বলেন, আগামীতে আরো সহায়তা করা হবে বলে আশ^াস প্রদান করেন। উল্লেখ্য শহিদুল ইসলাম একজন আনসার সদস্য হিসেবে উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে মানুষের সেবা দিতে গিয়ে নমুনা পরীক্ষায় করোনা পজেটিভ ধরা পড়ে গত ৬ মে বুধবার। বর্তমানে শহিদুল ভালো আছেন বলে তার বাবা নিশ্চিত করেছেন।